২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩

অ্যাটকিনসনের ৫ উইকেট, বড় জয়ে সিরিজ ইংল্যান্ডের

ব্যাটে-বলে দারুণ পারফরম্যান্সে লর্ডস টেস্ট চার দিনেই জিতল ইংল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Sep 2024, 10:28 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:23 AM

ম্যাচের ভাগ্য নিয়ে ছিল না সংশয়। শ্রীলঙ্কা কতটা লড়াই করতে পারে, সেটিই ছিল দেখার। বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় ধারেকাছেও যেতে পারল না লঙ্কানরা। গাস অ্যাটকিনসনের দারুণ বোলিংয়ে লর্ডস টেস্ট চার দিনে জিতে সিরিজ জয়ও নিশ্চিত করল ইংল্যান্ড।  

সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে ইংল্যান্ডের জয় ১৯০ রানে। তিন ম্যাচের সিরিজে তারা এগিয়ে গেল ২-০ ব্যবধানে।

৪৮৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় রোববার শ্রীলঙ্কা অল আউট হয় ২৯২ রানে। 

১৯৯১ সালের পর এই প্রথম লর্ডসে কোনো টেস্ট হারল শ্রীলঙ্কা। মাঝে এই মাঠে দুই দলের মুখোমুখি পাঁচ টেস্টই ড্র হয়েছিল।

লঙ্কানদের তিনশর আগে থামানোর মূল কারিগর অ্যাটকিনসন। ৬২ রানে তার শিকার ৫ উইকেট। ব্যাট হাতে প্রথম ইনিংসে আট নম্বরে নেমে তিনি খেলেন ১১৮ রানের ইনিংস।

তৃতীয় ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ইনিংসে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়লেন ২৬ বছর বয়সী এই পেসার। 

১৯৭৪ সালে প্রথম ইংলিশ ক্রিকেটার হিসেবে এই অর্জনে নাম লেখান টনি গ্রেগ। তার পর ইয়ান বোথাম এই কীর্তি গড়েন পাঁচ দফায়। যার সবশেষটি সেই ১৯৮৪ সালে।

চার দশক পর ইংল্যান্ড দলে সেই স্মৃতি ফেরালেন অ্যাটকিনসন। সেঞ্চুরির সঙ্গে ম্যাচে মোট ৭ উইকেট নিয়ে, জোড়া সেঞ্চুরি করা জো রুটকে ছাপিয়ে ম্যাচের সেরা তিনিই।

টেস্ট ক্রিকেটে দারুণ শুরু করা অ্যাটকিনসনের পাঁচ ম্যাচে উইকেট হলো ৩৩টি। ইংলিশ ক্রিকেটারদের মধ্যে ক্যারিয়ারের প্রথম পাঁচ টেস্টে তার চেয়ে বেশি উইকেট নিতে পারেন কেবল নিকোলাস কুক, ৩৪টি।

লর্ডসে দুই টেস্টে অ্যাটকিনসনের উইকেট হয়ে গেল ১৯টি। গত মাসে অভিষেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৭টিসহ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। 

২ উইকেটে ৫৩ রান নিয়ে চতুর্থ দিনের ব্যাটিং শুরু করে শ্রীলঙ্কা। আগের দিন ‘নাইটওয়াচম্যান’ হিসেবে নামা প্রাবাথ জায়াসুরিয়া বিদায় নেন দিনের শুরুতেই।

আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান দিমুথ কারুনারাত্নে ফিফটি তুলে নেন ৯৮ বলে। এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি তিনি। অলি স্টোনের বাড়তি বাউন্সে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন সাবেক লঙ্কান অধিনায়ক (৫৫)।

এই ইনিংসে শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রানের রেকর্ডের তালিকায় সানাৎ জায়াসুরিয়াকে (৬ হাজার ৯৭৩) ছাড়িয়ে চতুর্থ স্থানে উঠে যান কারুনারাত্নে (৬ হাজার ৯৯০)।

তার বিদায়ের পর দলকে এগিয়ে নেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস ও দিনেশ চান্দিমাল। পঞ্চাশোর্ধ জুটি গড়ে ফেলেন তারা। ৫৯ রানের এই জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার শোয়েব বাশির। মিড অফে ক্যাচ দিয়ে ম্যাথিউস ফেরেন ৩৬ রানে।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে চান্দিমাল ফিফটি পূর্ণ করেন ৪২ বলে। তবে, তিনিও পারেননি ইনিংস বড় করতে। ৬২ বলে ৫৮ রান করা ব্যাটসম্যানকে বিদায় করে দেন অ্যাটকিনসন।

দারুণ ছন্দে থাকা কামিন্দু মেন্ডিস এবার পারেননি কিছু করে দেখাতে। নিজের পরের ওভারে তাকে স্লিপের ক্যাচ বানিয়ে ফেরান অ্যাটকিনসন। 

এরপর ইনিংস সেরা ৭৩ রানের জুটি শ্রীলঙ্কা পায় অধিনায়ক ধানাঞ্জয়া ডি সিলভা ও মিলান রাত্নায়েকের সৌজন্যে। ফিফটি করার পরই ধানাঞ্জয়াকে বোল্ড করে দেন অ্যাটকিনসন। নিজের পরের ওভারে রাত্নায়েকেকে (৪৩) ফিরিয়ে তিনি পূর্ণ করেন ৫ উইকেট। আর লাথিরু কুমারাকে ফিরিয়ে ম্যাচের ইতি টানেন ক্রিস ওকস।

আগামী শুক্রবার দা ওভালে শুরু হবে তৃতীয় টেস্ট। শ্রীলঙ্কার সামনে হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর চ্যালেঞ্জ। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ইংল্যান্ড ১ম ইনিংস: ৪২৭ 

শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ১৯৬ 

ইংল্যান্ড ২ম ইনিংস: ২৫১

শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪৮৩) ৮৬.৪ ওভারে ২৯২ (আগের দিন ৫৩/২) (কারুনারাত্নে ৫৫, জায়াসুরিয়া ৪, ম্যাথিউস ৩৬, চান্দিমাল ৫৮, ধানাঞ্জয়া ৫০, কামিন্দু ৪, রাত্নায়েকে ৪৩, কুমারা ১০, আসিথা ০*; ওকস ১৯.৪-৮-৪৬-২, অ্যাটকিনসন ১৬-৪-৬২-৫, বাশির ২৩-১-৭৮-১, রুট ৪-১-৯-০, পটস ১১-৩৪-০, স্টোন ১২-০-৫৬-২, লরেন্স ১-০-২-০)

ফল: ইংল্যান্ড ১৯০ রানে জয়ী

সিরিজ: তিন ম্যাচের সিরিজে ২-০তে এগিয়ে ইংল্যান্ড

ম্যান অব দা ম্যাচ: গাস অ্যাটকিনসন