Published : 07 Sep 2026, 01:03 AM
ব্যাটিংয়ে ভালো শুরুর পরও সংগ্রহটা বড় হলো না। তবে বোলিংয়ে দারুণ লড়াই করল বাংলাদেশ, জাগাল অসাধারণ এক জয়ের আশাও। কিন্তু চাপের মুখে চমৎকার ইনিংস খেলে বাংলাদেশের মুঠো থেকে জয় বের করে নিলেন হার্শিথা সামারাউইক্রামা।
উইমেন’স এশিয়া কাপে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে হারিয়ে সেমি-ফাইনালে উঠল শ্রীলঙ্কা।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার বাংলাদেশ ২০ ওভারে তোলে ১১৪ রান।
জবাবে দশম ওভারে ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলে শ্রীলঙ্কা। সেই তারাই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে চার বল বাকি থাকতে।
পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে চারটি চার ও দুটি ছক্কায় ৩৭ বলে অপরাজিত ৪৮ রানের ইনিংসে ‘প্লেয়ার অব দা ম্যাচ’ হার্শিথা।
এই সংস্করণে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টানা সাত ম্যাচ হারল বাংলাদেশ। সবশেষ বাংলাদেশ জিততে পেরেছিল ২০২৩ সালের মে মাসে। এমনকি দল দুটির প্রথম দুই দেখাতেই বাংলাদেশের জয়ের পর থেকে ১৫ ম্যাচের ১৪টিতে জিতল শ্রীলঙ্কা।
তিন ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘বি’ গ্রুপের শীর্ষে থেকে শেষ চারে পা রাখল চামারি আতাপাত্তুর দল। দুই ম্যাচে ২ পয়েন্ট করে নিয়ে বাংলাদেশ দুইয়ে ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তিনে আছে।
সেমি-ফাইনালে যেতে গ্রুপের শেষ ম্যাচে আরব আমিরাতকে হারাতে হবে বাংলাদেশের।
ইন্দোনেশিয়াকে হারিয়ে অভিযান শুরু করা বাংলাদেশ এ দিন একাদশে পরিবর্তন আনে দুটি। দুই স্পিনার রাবেয়া খান ও সানজিদা আক্তার মেঘলার জায়গায় নেওয়া হয় অভিষিক্ত পেসার ফারজানা ইয়াসমিন ও স্পিনার সুলতানা খাতুনকে।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে বাংলাদেশের শুরুটা হয় ইতিবাচক। দ্বিতীয় ওভারে ম্যাচের প্রথম বাউন্ডারি আসে দিলারা আক্তারের ব্যাট থেকে। পরের ওভারে টানা তিনটি চার মারেন জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস।
জুয়ায়রিয়ার (১০ বলে ১৪) বিদায়ে ৩১ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে পঞ্চম ওভারে। বড় শট খেলার চেষ্টায় কাভারে ধরা পড়েন তিনি।
পাওয়ার প্লেতে ১ উইকেট হারিয়ে ৩৭ রান করে বাংলাদেশ। পরের ওভারে ১৭ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনার চামুদি প্রাবদাকে সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দেন দিলারা। চারটি চারে ২৬ বলে ২৬ রান করেন তিনি। অধিনায়ক নিগার সুলতানা এলবিডব্লিউ হয়ে বিদায় নেন ৪ রান করে।
৫২ রানে ৩ উইকেট হারানো দলকে টানেন সোবহানা মোস্তারি ও স্বর্ণা আক্তার। কয়েকটি চমৎকার চার মারেন সোবহানা। ২১ রানে একবার জীবন পান তিনি, লং-অনে ক্যাচ ফেলেন নিলাকশিকা সিলভা।
প্রাবদাকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্টাম্পড হয়ে বিদায় নেন সোবহানা। ৪১ বলে ৩৪ রান করেন তিনি। প্রথম ম্যাচেও দলের সর্বোচ্চ ৪০ রান করেছিলেন তিনি।
৪০ বলে ৪১ রানের জুটি ভাঙার পর শেষ দিকে রান বাড়াতে পারেনি বাংলাদেশ। স্বর্ণা থামেন ৯ রানে। ফাহিমা খাতুনের ১৩ বলে ১৪ রানে কোনোমতে ১১৪ পর্যন্ত যেতে পারে দল।
২১ রানে ৩ উইকেট নেন প্রাবদা।
বোলিংয়ে বাংলাদেশের শুরুটা হয় দারুণ। প্রথম ওভারে শ্রীলঙ্কার সবচেয়ে বড় তারকা আতাপাত্তুকে ফিরিয়ে দেন মারুফা আক্তার। বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় স্লিপে ধরা পড়েন লঙ্কান গ্রেট।
নিজের পরের ওভারে দারুণ এক ইনসুইঙ্গারে আরেক ওপেনার ইমেশা দুলানিকে বোল্ড করে দেন মারুফা।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে সাঞ্জনা কাভিন্দিকে বোল্ড করেন সুলতানা। নবম ওভারে আক্রমণে এসে উইকেটের দেখা পান রিতু মনি। পরের ওভারে রান আউট হন কাভিশা দিলহারি।
তখন ৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল লঙ্কানরা। কিন্তু নিলাকশিকাকে নিয়ে প্রতিরোধ গড়েন হার্শিথা। ধীরে ধীরে আলগা হয়ে যায় চাপ।
১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে নিলাকশিকাকে (১৮ বলে ২৩) বোল্ড করে তৃতীয় উইকেটের দেখা পান মারুফা। থামে ৩৮ রানের জুটি।
শেষ তিন ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন ছিল ২৯ রান। তখনও বাংলাদেশ ভালোভাবেই ম্যাচে। কিন্তু ১৮তম ওভারে রিতুকে পরপর চার ও ছক্কা মারেন হার্শিথা। এই ওভারে আসে মোট ১৬ রান।
যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে আসে মন্থর ওভার রেট। শাস্তি হিসেবে শেষ দুই ওভারে ২৫ গজ বৃত্তের বাইরে মাত্র তিন জন ফিল্ডার রাখতে পারে বাংলাদেশ।
১৯তম ওভারে নাহিদা আক্তারের প্রথম পাঁচ বলে আসে ৫ রান, শেষ বলে ছক্কা মেরে দেন হার্শিথা। শেষ ওভারে প্রয়োজনীয় ২ রান নিতে বেগ পেতে হয়নি শ্রীলঙ্কাকে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১১৪/৮ (দিলারা ২৬, জুয়ায়রিয়া ১৪, সোবহানা ৩৪, নিগার ৪, স্বর্ণা ৯, রিতু ১, ফাহিমা ১৪, নাহিদা ২*, মারুফা ১; ভিমুক্তি ৩-০-২১-০, সুগান্দিকা ৪-১-২২-২, আতাপাত্তু ৪-০-২০-১, প্রাবদা ৪-০-২১-৩, কাভিশা ৪-০-১৭-১, নিলাকশিকা ১-০-৬-০)
শ্রীলঙ্কা: ১৯.২ ওভারে ১১৫/৬ (ইমেশা ১২, আতাপাত্তু ১, কাভিন্দা ৯, গুনারাত্নে ৯, হার্শিথা ৪৮*, কাভিশা ৩, নিলাকশিকা ১৮, কাসিনি ১১*; মারুফা ৪-০-২১-৩, নাহিদা ৪-০-২৭-০, সুলতানা ৪-০-১৪-১, রিতু ৪-০-২৯ -১, ফাহিমা ২-০-১১-০, ফারজানা ১-০-৯-০, সোবহানা ০.২-০-১-০
ফল: শ্রীলঙ্কা ৪ উইকেটে জয়ী
প্লেয়ার অব দা ম্যাচ: হার্শিথা সামারাউইক্রামা