১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ঢাকা লিগে এবার স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করবে বিসিবি

এবারই প্রথম ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে বিসিবির পক্ষ থেকে থাকবে স্বাস্থ্যসম্মত লাঞ্চের ব্যবস্থা, মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সও থাকবে প্রথমবার, এছাড়াও থাকছে নানা নতুন সংযোজন।

ঢাকা লিগে এবার স্বাস্থ্যসম্মত খাবারের ব্যবস্থা করবে বিসিবি
১২ দলের অধিনায়ক/প্রতিনিধিদের ট্রফি সেশন। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 May 2026, 04:59 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:32 PM

মৌসুম শুরুর আগে ফিটনেস পরীক্ষা, মৌসুমজুড়ে ফিটনেস নিয়ে কড়াকড়ি। কিন্তু খেলার সময় দুপুরের খাবারের তালিকায় থাকে ভাত, আলু ভর্তা, গরুর মাংসের ঝোল বা এই ধরনের খাবার। ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের চিরায়ত সেই চিত্র এবার বদলে যাচ্ছে। এমনিতে ক্লাবগুলোই খাবারের ব্যবস্থা রাখে এবং বেশির ভাগ সময়ই তা হয় খুবই দায়সারা। এবার বিসিবির পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যসম্মত দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হবে প্রতিটি ম্যাচে।

এছাড়াও এবারের লিগে থাকছে ইতিবাচক আরও কিছু নতুন সংযোজন। প্রথমবারের মতো ম্যাচ চলায় সময় মাঠে থাকবে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স। এছাড়াও দুর্নীতি দমন বিভাগের (এসিইউ) তৎপরতা ও বিভিন্ন নিয়ম-কানুন থাকবে বিপিএলের মতো করেই। এই ব্যবস্থাও ঢাকা লিগে নেওয়া হচ্ছে প্রথমবার।

এবারের লিগের স্পন্সর ঘোষণার আয়োজনে শনিবার বিস্তারিত এসব তথ্য জানান বিসিবি সভাপতি ও ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিসের চেয়ারম্যান তামিম ইকবাল।

এক বছর বিরতি দিয়ে আবারও ঢাকা লিগের পৃষ্ঠপোষকতায় ফিরেছে ওয়ালটন। এবারের লিগের আনুষ্ঠানিক নাম ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ। সহযোগী স্পন্সর বসুন্ধরা সিমেন্ট।

অনেক অনিশ্চয়তার পর এবারের লিগ শুরু হচ্ছে সোমবার। ৬টি ভেন্যুতে খেলা হবে এবার। আগে কখনোই এত ভেন্যুতে খেলা হয়নি। প্রতিদিন ৪টি ম্যাচ সম্প্রচার করা হবে টিভি ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম মিলিয়ে।

বিসিবি সভাপতি তামিম আগেই বলেছিলেন, সব ভেন্যুর উইকেটের মান হয়তো একইরকম ভালো হবে না। তবে বৃষ্টির মৌসুম পুরোপুরি শুরুর আগে টুর্নামেন্ট শেষ করার জন্যই এত বেশি ভেন্যুতে হচ্ছে ম্যাচ। বৃষ্টির হানা ভাবনায় রেখে প্রতিটি ম্যাচের জন্য রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।

মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স রাখার ভাবনার পেছনের কারণ তুলে ধরলেন বিসিবি সভাপতি। গত বছর ঢাকা লিগেই তার নিজের অসুস্থতার উদাহরণ দিলেন তিনি।

“যদি গত দুই বছরে ফিরে তাকান, চার থেকে পাঁচজনের ঘটনা (গুরুতর অসুস্থতা) আছে মাঠে। কেউ প্রাণ হারিয়েছে, আমি সৌভাগ্যবশত বেঁচে গেছি। এটা বিসিবির দায়িত্ব যে, যতটুকু করতে পারি অতটুকু ব্যবস্থা করে রাখি। আমাদের প্রতিটা মাঠেই কম-বেশি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স পাওয়াটা একটা চ্যালেঞ্জ, তারপরও চারটা থেকে পাঁচটা আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিকেএসপির দুই মাঠে একটা থাকবে। এ ধরনের ঘটনা যদি আবার কারও সঙ্গে ঘটে, তাহলে আমরা আগের চেয়ে বেশি প্রস্তুত।”

টুর্নামেন্টের মূল স্পন্সর ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ, সহযোগী স্পন্সর বসুন্ধরা সিমেন্ট।

টুর্নামেন্টের মূল স্পন্সর ওয়ালটন স্মার্ট ফ্রিজ, সহযোগী স্পন্সর বসুন্ধরা সিমেন্ট।

ভেন্যুর বিভিন্ন লজিস্টিক্যাল সীমাবদ্ধতার কারণে দুর্নীতি দম বিভাগের নিয়ম-কানুন শতভাগ বিপিএলের মতো করা কঠিন ঢাকা লিগে। তার পরও যতটা সম্ভব ব্যবস্থা থাকছে বলে জানালেন বিসিবি প্রধান।

“অ্যান্টি করাপশনের যে রুলস এন্ড রেগুলেশনস আছে, বিপিএলে আমরা যখন মাঠে আসি, বাস থেকে নামার পরই আমাদের ফোন নিয়ে নেওয়া হয়। কেবল ম্যানেজারের ফোন থাকে। এটা আইসিসির অ্যান্টি-করাপশনের অনেকগুলো নিয়মের মধ্যে পড়ে।”

"এই জিনিসগুলো আমরা এবার থেকেই বাস্তবায়ন করা শুরু করছি। প্রত্যেকটা দলের ম্যানেজমেন্টে যারা আছে, তাদের সঙ্গে এর মধ্যেই সভা করেছে অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এবং যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন।”

খাবারের সঙ্গে ফিটনেসের সংযোগটা সরাসরি। ঢাকা লিগের দীর্ঘদিনের খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিলেন সাবেক অধিনায়ক।

“ফিটনেস নিয়ে আমরা অনেক কথা বলি, চিন্তা করি। ফিটনেস পরীক্ষায় ন্যূনতম স্কোর না পেলে টুর্নামেন্ট খেলতে দেওয়া হয় না। কিন্তু ফিটনেস পরীক্ষা শেষ করার পর দেখা যায়, লাঞ্চে আলু ভর্তা, গরুর মাংস আর ভাতই থাকে। ফিটনেস নিয়ে এত ভাবনা যদি থাকে বা মানদণ্ড সেট করতে চান, সব দিক থেকেই চেষ্টা করতে হবে। এবার আমরা বিসিবির তরফ থেকে প্রত্যেকটা দলকে লাঞ্চও প্রোভাইড করছি।”

“এটা জানি যে হুট করে ওই ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিলড চিকেনে নিয়ে আসা… আমাদের জাতীয় দল বা ‘এ’ দল কিংবা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের ক্রিকেটাররা এই খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত… কিন্তু যারা ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলেন, তাদের জন্য পুরো বদল করে দেওয়া কঠিন… তবে অন্তত স্বাস্থ্যকরভাবে রান্না হবে বা একটা ভালো মেন্যু সেট করে দেওয়া হবে। খাবারের মান তাই এবার অনেক ভালো হবে।”

আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স, খাবার সরবরাহ, এসবের জন্য বিসিবির খরচ বেড়ে যাবে অনেক। বোর্ড সভাপতি বললেন, ক্রিকেটারদের জন্য খরচ করতে তাদের আপত্তি নেই।

“বোর্ডের খরচ বাড়ছে, এটা সত্যি। উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। ফিন্যান্স চেয়ারম্যান (ইসরাফিল খসরু) এখানে আছেন, উনি খুব বেশি খুশি নন এটা নিয়ে। তারপরও উনি একটা কথা বলেন যে, এই জিনিসগুলা হলো ক্রিকেটারদের জন্য। ক্রিকেটারদেরকে সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার জন্য যতটুকু আমরা করতে পারি।”

“সুযোগ-সুবিধা অবশ্যই আমাদের তরফ থেকে দেব। তবে এই টাকাগুলা আমরা কীভাবে রিকাভার করব, কীভাবে আয় বাড়াব, এটা আমাদের দায়িত্ব। গত বছরের তুলনায় খরচ অনেক বেড়েছে, কিন্তু এই মুহূর্তে এই টুর্নামেন্টমাঠে নামানো সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। যদি ২ টাকা ৩ টাকা ৪ টাকা বেশি যদি খরচ হয়ও, খরচটা হচ্ছে ক্রিকেটারদের জন্য। সেটা করতে হলে করতে হবে।”

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে পারিশ্রমিক ঠিকমতো না পাওয়ার অভিযোগ চলে আসছে যুগ যুগ ধরে। এবার বোর্ডের পক্ষ থেকে ক্লাবগুলির অনুমন বাড়িয়ে করা হয়েছে ২৫ লাখ টাকা করে। খাবারও দেওয়া হচ্ছে। ক্লাবগুলি তাই বোর্ডের কাছে জবাবদিহিতার আওতায় থাকছে বেশি করে।

তামিম জানালেন, এই দায় যদিও সরাসরি বোর্ডের নয়, তবু এটিকে একটি কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা তাদের আছে।

“সাধারণত ঢাকা লীগের পারিশ্রমিকের দায়িত্ব ক্রিকেট বোর্ড নেয় না। কারণ এটা ক্লাবের সঙ্গে ক্রিকটারদের সরাসরি চুক্তি। তবে আমাদের বোর্ড থেকে প্রত্যেকটা ক্লাবকে অনুরোধ করব, এমনিতেই পারিশ্রমিক অনেক কমে এসেছে, আশা করব তারা যেন সবাই চুক্তিটাকে সম্মান করবে। ভবিষ্যতে এই জিনিসটাকে কিভাবে আরেকটু সিস্টেমেটিক করে নিয়ে আসা যায়, এটা নিয়ে আমাদের আলোচনা হচ্ছে।”

“যদি আমরা একটা যথাযথ ত্রিপক্ষীয় চুক্তির মধ্যে আনতে পারি, তাহলে ব্যাপারটা আরেকটু ভালো হবে। ৩৭ বছর ধরে এটা এক পথে চলছে, সেখানে হুট করে পরিবর্তন করাটা সম্ভব নয়। তবে এটা সত্যিই চিন্তা করা উচিত।”