১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

শরিফুল-নাহিদের আগুনে বোলিংয়ের পর লিটনের ফিফটি

নতুন বলে দুর্দান্ত বোলিংয়ে সৌম্য-আফিফদের গুঁড়িয়ে দেন শরিফুল ইসলাম ও নাহিদ রানা।

শরিফুল-নাহিদের আগুনে বোলিংয়ের পর লিটনের ফিফটি
ম্যাচের সেরা জেসন হোল্ডার। ছবি: বিসিবি।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 26 Feb 2026, 05:09 PM

Updated : 26 Aug 2026, 03:02 PM

একপাশ থেকে শরিফুল ইসলামের ক্ষুরধার বোলিং, আরেকপ্রান্তে নাহিদ রানা গতি। নতুন বলে দুজনের অসাধারণ যুগলবন্দিতে ম্যাচের শুরুতেই এলোমেলো দক্ষিণাঞ্চল। পরে আর সেভাবে গুছিয়ে উঠতে পারল না তারা। ব্যাটিংয়ের ব্যর্থতার পর বোলিংয়ের শুরুটায় ছিল তাদের লড়াইয়ের ইঙ্গিত। কিন্তু সেখানেও পেরে উঠল না তারা লিটন কুমার দাসের সামনে।

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের এক দিনের ম্যাচের সংস্করণে দ্বিতীয় রাউন্ডে মুখোমুখি হয়েছিল দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরাঞ্চল। প্রথম রাউন্ডে জয়ী দুই দলের সেই লড়াই জমল না মোটেও। দক্ষিণাঞ্চলকে ৬ উইকেটে হারাল টুর্নামেন্টের ফেভারিট উত্তরাঞ্চল। 

রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার নতুন বলে নাহিদ ও শরিফুলের তোপে বিধ্বস্ত হয়ে যায় দক্ষিণাঞ্চলের টপ অর্ডার। প্রথম চার ওভারে চার উইকেট হারানোর পর মোহাম্মদ মিঠুন লড়াই করলেও সঙ্গী পাননি কাউকে। ৩০.৫ ওভারেই গুটিয়ে যায় তারা ১৪৪ রানে। 

নতুন বলে শরিফুল ও নাহিদ নেন দুটি করে উইকেট। পরে আরও একটি যোগ করে ম্যাচ-সেরা হন নাহিদ। পরে অফ স্পিনে তিনটি উইকেট নেন এসএম মেহেরব।

রান তাড়ায় ৫ ওভারের মধ্যে ৩ উইকেট হারালেও শেষ পর্যন্ত ইনিংসের প্রায় অর্ধেক ওভার বাকি রেখেই জিতে যায় উত্তরাঞ্চল। চারে নেমে আগের ম্যাচে ব্যর্থ লিটন এবার একই পজিশনে অপরাজিত থাকেন ৬৫ বলে ৫৫ রান করে। 

টস জিতে বোলিংয়ে নামা রাজশাহীকে ম্যাচের প্রথম ওভারে উইকেট এনে দেন শরিফুল। আনিসুল ইসলাম ইমন ফেরেন শূন্যতে। পরের ওভারে নাহিদ রানা বিদায় করেন তিনে নামা জাওয়াদ আবরারকে।

আগের ম্যাচে প্রথম বলে আউট হওয়া সৌম্য সরকার এবার দুটি চার মারলেও শরিফুলের শিকার হন তৃতীয় ওভারে। সেঞ্চুরি করে আগের ম্যাচে দক্ষিণাঞ্চলের জয়ের নায়ত আফিফ হোসেন এবার ৪ রানে কাটা পড়েন নাহিদ রানার গতিতে।

১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলা দলের হয়ে প্রতিরোধ গড়েন মিঠুন। পঞ্চম উইকেটে ৫০ রানের জুটি গড়েন তিনি নুরুল হাসান সোহানের সঙ্গে। 

এই জুটিও ভাঙেন নাহিদ। মেহেদী হাসান মিরাজের অনুপস্থিতিতে দলকে নেতৃত্ব দেওয়া সোহান বোল্ড হয়ে যান ২৪ রানে।

এরপর রবিউল হককে নিয়ে আরেকটি অর্ধশত রানের জুটি গড়েন মিঠুন। দুটি চার ও ছক্কায় ২২ বলে ২৯ রান করা রবিউল বোল্ড হয়ে যান মেহেরবের দারুণ এক ডেলিভারিতে।

এরপর কেবল মিঠুনের একার লড়াই। লোয়ার অর্ডারে সঙ্গ দিতে পারেননি কেউ। 

আগের ম্যাচে অপরাজিত ৭২ রান করা মিঠুন এবার অপরাজিত থেকে যান ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৭৯ বলে ৫৫ রান করে। 

এক ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে ইনিংস গুটিয়ে দেন মুকিদুল ইসলাম।

ম্যাচ শেষ করে ফিরছেন আকবর আলি ও লিটন দাস। ছবি: বিসিবি।

ম্যাচ শেষ করে ফিরছেন আকবর আলি ও লিটন দাস

ছোট পুঁজি নিয়েই উত্তরাঞ্চলকে কাঁপিয়ে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। তিনটি বাউন্ডারি মেরে আউট হয়ে যান হাবিবুর রহমান সোহান (৬ বলে ১৪)। তিনে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে দ্বিতীয় বলেই ফেরান বাঁহাতি এই পেসার।

আরেকপাশে হুমকি হয়ে ওঠার আভাস দিচ্ছিলেন তানজিদ হাসান। দুই চার ও ১ ছক্কায় ১৩ বলে ১৮ রান করা ওপেনারকেও থামান মুস্তাফিজ।

তবে লিটন ও তাওহিদ হৃদয়ের জুটিতেই খেলার উত্তেজনা শেষ হয়ে যায়। আগের ম্যাচে ভালো করতে না পারা দুই ব্যাটার এবার যোগ করেন ৮০ রান।

৪৬ বলে ৩৩ করে আউট হন হৃদয়। অধিনায়ক আকবর আলিকে সঙ্গে নিয়ে বাকি কাজ শেষ করেন লিটন। 

আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান আকবর এবার অপরাজিত থাকেন ২২ বলে ১৯ রান করে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

দক্ষিণাঞ্চল:  ৩০.৫ ওভারে ১৪৪ (আনিসুল ০, সৌম্য ৯, জাওয়াদ ৪, আফিফ ৪, মিঠুন ৫৫*, সোহান ২৪, রবিউল ২৯, শহিদুল ০, তানভির ৬, স্বাধীন ১, মুস্তাফিজ ০; শরিফুল ৭-০-২৮-২, নাহিদ ৭-০-৪৭-৩, মুকিদুল ৪.৫-০-১৬-২, রিশাদ ৭-০-৪৩-০, মেহেরব ৫-০-১০-৩)।

উত্তরাঞ্চল: ২৫.৪ ওভারে ১৪৫ (সোহান ১৪, তানজিদ ১৮, শান্ত ০, লিটন ৫৫*, হৃদয় ৩৩, ১৯*; মুস্তাফিজ ৫-১-২৩-৩, রবিউল ৭-১-৩৭-১, শহিদুল ৩-০-১৪-০, সৌম্য ১-০-৪-০, তানভির ৪-০-২৭-০, স্বাধীন ৩-০-২৭-০, আফিফ ২-০-১০-০, জাওয়াদ ০৪.-০-১-০)

ফল: উত্তরাঞ্চল ৬ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: নাহিদ রানা।