১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

সুরিয়াভানশির কব্জির মোচড়ে মুগ্ধ টেন্ডুলকার

১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে সবশেষ এমন আলোড়ন উঠেছিল সাচিন টেন্ডুলকারকে ঘিরে, সেই তিনিই এখন অভিভূত বৈভাব সুরিয়াভানশিকে দেখে।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 31 May 2026, 09:43 AM

Updated : 26 Aug 2026, 03:43 PM

সবশেষ কবে ১৫ বছর বয়সী একজন ক্রিকেটারকে নিয়ে এমন তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল? নজির খুঁজতে ফিরে যেতে হবে গত শতাব্দীর আশির দশকের শেষ দিকে। সাচিন টেন্ডুলকার নামের ঝাঁকড়া চুলের এক কিশোরকে নিয়ে তখন রোমাঞ্চে বুঁদ ছিল ভারতীয় ক্রিকেট। ক্রমে সেই রোমাঞ্চের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল বিশ্বক্রিকেটে। সময়ের পরিক্রমায় কিংবদন্তি হয়ে ওঠা সেই টেন্ডুলকার এখন নিজেই অভিভূত এই সময়ের কিশোর ব্যাটিং সেনসেশন বৈভাব সুরিয়াভানশিকে নিয়ে। 

সুরিয়ানভানশির অনেক কিছুতেই চমৎকৃত অনেকে। তার সহজাত আগ্রাসী ব্যাটিং, বড় শট ও ছক্কা মারার প্রবৃত্তি, প্রথম বল থেকেই ভয়ডরহীন ব্যাটিং, বয়সের চেয়ে পরিণত মানসিকতা, এমন অনেক কিছুরই প্রশংসা হচ্ছে। টেন্ডুলকার মুগ্ধ এই কিশোরের কব্জির কাজ দেখে।

ক্রিকেট ওয়েবসাইট ইসএসপিএনক্রিকইনফোর একবিংশ শতাব্দীর সেরা পুরুষ ব্যাটার স্বীকৃতি পাওয়ার আয়োজনে টেন্ডুলকার শোনালেন, সুরিয়াভানশিকে কেন তার স্পেশাল মনে হয়েছে। 

“সবাই সুরিয়াভানশিকে নিয়ে কথা বলছে, আর আমি ওর ব্যাটিং দেখেছি – অসাধারণ ছিল। আমার মতে, ও সত্যিই বিশেষ কিছু। শুধু বল মারার ক্ষমতাই নয়, ওর কব্জির মোচড়ও আমাকে মুগ্ধ করেছে।”

“মাঠের সব দিকে খেলতে হলে কব্জির ভালো ব্যবহার প্রয়োজন। এমন নয় যে সে শুধু স্লগ করছে। সে শুধু বাকিদের চেয়ে আগে বলের লাইন ও লেংথ বুঝে নিচ্ছে এবং অনায়াসে বল সীমানার বাইরে পাঠাতে পারছে।”

সুরিয়াভানশির প্রবল আত্মবিশ্বাস ও স্বচ্ছ ভাবনাও চোখে পড়েছে টেন্ডুলকারের। 

“আমি তাকে বলব সে যেন নিজের মতোই থাকে। সবকিছুরই একটা প্রথমবার থাকে। টেস্ট ক্রিকেটে, বয়সের সঙ্গে সে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে শিখবে।(মূল ব্যাপারটি হলো) একটি সমাধান-কেন্দ্রিক মানসিকতা থাকা।”

“সমস্যা সবসময়ই থাকবে, ক্যারিয়ারের শেষ দিন পর্যন্ত, শেষ বল পর্যন্ত সমস্যা থাকবে। বোলার প্রতিটি ডেলিভারিতেই একটি প্রশ্ন করছে। আপনি সমাধান কোনটি বের করছেন, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। সে এমন একজন ক্রিকেটার, যাকে দেখে খুব আত্মবিশ্বাসী মনে হয়, সে কী করতে চায় সে সম্পর্কে খুব, খুবই নিশ্চিত এবং আমি চাই না তার সহজাত প্রবৃত্তি নাড়িয়ে দেওয়া হোক।”

সুরিয়াভানশির এই সহজাত প্রবৃত্তি ও প্রক্রিয়া যেন কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না করা হয়, বললেন টেন্ডুলকার। 

“সে যেভাবে বল দেখে এবং যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখায়, যদি সেই প্রক্রিয়ায় বাধা দেওয়া হয়, যদি নানা কিছু বলাবলি করে তার এই প্রক্রিয়ার মধ্যে বাধা তৈরি করা হয়, তাহলে সেখানেই আসল সমস্যা হবে। তাকে তার মতো করে ব্যাট করার স্বাধীনতা দেব আমি। সময়ের সঙ্গে সে খেলাটির অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে শিখবে।”

এই বিস্ময়-বালক একসময় টেস্ট ক্রিকেটে খেলবেন বলেও নিশ্চিত টেন্ডুলকার। তবে সেটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে উপযুক্ত সময়ের অপেক্ষা করতে বললেন ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম ব্যাটসম্যান। 

“শুধু আমি নই, কোনো না কোনো পর্যায়ে তাকে (টেস্ট ক্রিকেট খেলতে) দেখতে চাইবে সবাই। আমি জানি না সেটা কখন ঘটবে। কিন্তু একজন সম্ভাবনাময় প্রতিভার উৎসাহ প্রয়োজন।”

“সে যদি ভালো করে, তাহলে আমাদের তাকে উৎসাহিত করতে হবে, পাশে থাকতে হবে এবং সর্বোপরি তার খেলাটা উপভোগ করতে হবে। তার ওপর অনবরত চাপ দেওয়া যাবে না যে, ‘তার এটা খেলা উচিত, বা ওটা করা উচিত নয়, বা তাকে যেকোনো দলে নেওয়া হোক।’ এই বিষয়গুলো তাদের ওপর ছেড়ে দিন, যাদের দায়িত্ব এসব।”