২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

‘অ্যাপ্রোচ’ আর ‘জাকের আলির ব্যাক আপ’, দুই কারণে দলে সোহান

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে পারফরম্যান্স খুব ভালো না হলেও নুরুল হাসান সোহানের ‘অ্যাপ্রোচ’ মনে ধরেছে নির্বাচকদের, পাশাপাশি জাকের আলির বিকল্প ভেবেও তাকে নেওয়া হয়েছে এশিয়া কাপের দলে।

‘অ্যাপ্রোচ’ আর ‘জাকের আলির ব্যাক আপ’, দুই কারণে দলে সোহান
সোহানের 'অ্যাপ্রোচ' ভালো লাগে নির্বাচকদের। ছবি: নর্দান টেরিটরি ক্রিকেট।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 23 Aug 2025, 06:47 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:38 PM

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে যখন ঢুকলেন প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন, অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে ততক্ষণে আউট হয়ে ক্রিজ থেকে বেরিয়ে গেছেন নুরুল হাসান সোহান। টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের অধিনায়ক করেছেন ৮ বলে ৬ রান। দলের জন্য যেমন, তেমনি তার নিজের জন্যও সফরটি শেষ হয়েছে হতাশায়। তবে বড় একটি সুখবর তিনি শুনেছেন আগের দিনই, জায়গা পেয়েছেন এশিয়া কাপের বাংলাদেশ দলে।

প্রায় তিন বছর পর বাংলাদেশের হয়ে টি-টোয়েন্টি খেলার হাতছানি সোহানের সামনে। তবে তাকে নিয়ে আছে প্রশ্নও। এই সংস্করণে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বলা হোক বা সামগ্রিক ক্যারিয়ার রেকর্ড, কোনোটিই খুব উজ্জ্বল নয়। তার পরও তাকে কেন তাকে নেওয়া হলো দলে? প্রধান নির্বাচক তুলে ধরলেন দুটি কারণ।

এশিয়া কাপের জন্য বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা করা হয় শুক্রবার রাতে। শনিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে সেই দল বাছাইয়ের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করেন প্রধান নির্বাচক।

সোহানকে নিয়ে গত কিছুদিনে দেশের ক্রিকেটে আলোচনা হয়েছে অনেক। বিশেষ করে সবশেষ শ্রীলঙ্কা সফরের দলে তাকে না রাখা নিয়ে নির্বাচকদের শুনতে হয়েছে অনেক প্রশ্ন। যদিও এই সংস্করণে বলার মতো তেমন কিছু করতে পারেননি এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

শ্রীলঙ্কা সফরের দলে কেন নেওয়া হয়নি, সেই ব্যাখ্যাই আগে দিলেন প্রধান নির্বাচক।

“প্রতিটি নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিন্তু একটা প্রক্রিয়া থাকে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমাদের তরফ থেকে কিছু ডিপ ড্রাইভ থিংকিংও থাকে। কোনো সময় হয়তো আমরা (কাউকে) দলে নেই না বৃহত্তর স্বার্থের জন্য। সোহানকে নিয়ে অনেক আলোচনা ছিল শ্রীলঙ্কা সফরের সময় টি–টোয়েন্টি দলে। আমরা তখন ভেবেছি, দলের যে ফরমেশন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে প্রথম একাদশে তার খেলার সম্ভাবনা খুব কম। ওই সময় আমাদের কাছে যেটা মনে হয়েছে, সে যদি প্রস্তুতির জন্য গ্লোবাল টি–টোয়েন্টি ক্রিকেট খেলে… এবং আমরা জানতাম সে ‘এ’ দলের হয়ে ডারউইনে খেলতে যাবে… তো তারও একটা প্রস্তুতি হয়ে যায়। গোটা দশেক ম্যাচ খেলার তার সুযোগ হয়ে যায় এশিয়া কাপের মতো প্ল্যাটফর্মে আসার আগে।”

“সেজন্য আমরা বলেছিলাম তিনি আমাদের খুব কাছের নজরে আছে। আমরা হয়তো তাকে আন্তর্জাতিক লেভেলের এক্সপোজার দিতে পারিনি। কিন্তু পরেই যে ধাপ, তার সঙ্গে আরও অনেকে সুযোগ পেয়েছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার, প্রতিদ্বন্দ্বিতার আমেজ, চ্যালেঞ্জ, পারফর্ম কীভাবে ভালো করবে, কেউ পারফর্ম না করলে কী করলে পারফরম্যান্সটা আকাঙ্ক্ষিত জায়গায় নিতে পারে, এগুলো ভাবনায় ছিল। সেটা ছিল কৌশলগত সিদ্ধান্ত।” 

কিন্তু যে গ্লোবাল সুপার লিগের কথা বললেন, গায়ানায় সেই আসরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে পাঁচ ইনিংসে সোহানের রান ছিল মোটে ৬৫। অস্ট্রেলিয়ার টপ এন্ড টি-টোয়েন্টিতে ছয় ইনিংসে তার রান মোট ১১৩। গড় ১৯.১৬, স্ট্রাইক রেট ১১৩.৮৬। এশিয়া কাপের জন্য তার প্রস্তুতি কিংবা পারফরম্যান্সই তো সেভাবে হলো না!

শুধু সাম্প্রতিক এই দুই টুর্নামেন্টই নয়, বিপিএলের গত চারটি আসরে উল্লেখযোগ্য কোনো পারফরম্যান্স তার নেই। কেবল গত বছরের ন্যাশনাল লিগ টি-টোয়েন্টিতেই তার পারফরম্যান্স ছিল ভালো। এছাড়া তার সামগ্রিক টি-টোয়েন্টি পরিসংখ্যান কিংবা বাংলাদেশের হয়ে আগের ৪৬ টি-টোয়েন্টির পারফরম্যান্স, সবই নাজুক।

পারফরম্যান্স দিয়ে যে তিনি দলে ফেরার দাবি জানাতে পারেন না, এটা তাই পরিষ্কার। প্রধান নির্বাচক তখন তুলে ধরলেন দেশের ক্রিকেটের বাস্তবতা। পাশাপাশি বললেন, তাদের চোখে সোহানের ভালো লাগার দিকও। 

“সত্যি বলতে, দুর্ভাগ্যবশত আমাদের লাইক টু লাইক রিপ্লেসমেন্টের জায়গায় বড় চ্যালেঞ্জে কিংবা পারফরমার নাই। আমাদের আত্মবিশ্বাস এবং আস্থার যে জায়গাটা, তার অ্যাপ্রোচ অফ ক্রিকেট, প্যাটার্ন অব ক্রিকেট, বিশেষ করে পাঁচ-ছয়ের জায়গায়, আমরা মনে করি একটা খুব ভালো পছন্দ সেখানে। জাকের আলি একটা আঘাত পেয়েছিল (পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে)… যদি প্রয়োজন হয়, সেই ব্যাক আপের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে তাকে সেরা মনে করছি।”

টপ এন্ড টি-টোয়েন্টি থেকে ছিটকে পড়ার পর এশিয়াপ কাপ দলে থাকা সোহান ও সাইফ হাসান দেশে ফিরেই যোগ দেবেন সিলেটে বাংলাদেশ দলের ক্যাম্পে।