Published : 19 Mar 2026, 12:48 PM
রাঁচির সন্তান মাহেন্দ্র সিং ধোনি চেন্নাইয়ের ‘থালা’ হয়ে গেছেন বেশ আগেই। চেন্নাইয়ে তিনি প্রবল জনপ্রিয় ও সমাদৃত। এই শহর তাকে আপন করে নিয়েছে, এখানকার মানুষ তাকে ভালোবাসে, লালন করে। এই সবকিছুই শুধু চেন্নাই সুপার কিংসে বছরের পর বছর খেলার জন্য। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর সঙ্গে ভিরাট কোহলির সম্পর্ক ও বন্ধন নিয়ে অনেক চর্চা হলেও ধোনি আর চেন্নাইয়ের মতো অতটা নয়। তবে ভারতের লেগ স্পিন কিংবদন্তি আনিল কুম্বলের মতে, এখানে একই বন্ধনিতে রাখা উচিত ভারতের দুই মেগাস্টারকে।
ধোনি যেমন চেন্নাই সুপার কিংসের প্রতীক হয়ে উঠেছেন, কোহলিও তেমনি রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর মুখ। চেন্নাই নিষিদ্ধ থাকার সময় দুই মৌসুম রাইজিং পুনে সুপার জায়ান্টস দলে খেলেছিলেন ধোনি। কোহলির তো অন্য কোনো দলে খেলার অভিজ্ঞতাই নেই। ১৮ মৌসুমের সবকটিই তিনি খেলেছেন বেঙ্গালুরুর হয়ে। দীর্ঘদিন নেতৃত্ব দিয়েছের দলকে, ব্যাট হাতে পারফর্ম করে যাচ্ছেন অসাধারণ ধারাবাহিকতায়।
তবে ধোনি ও চেন্নাইয়ের রসায়নের মতো অতটা আলোচনা কোহলি ও বেঙ্গালুরুকে নিয়ে হয় না। সেখানে বড় ভূমিকা থাকতে পারে দলীয় সাফল্যের। ধোনির নেতৃত্বে চেন্নাই পাঁচবার শিরোপা জিতেছে আইপিএলে, রানার্স আপ হয়েছে পাঁচবার। বেঙ্গালুরু সেই সাফল্যের ধারেকাছেও নেই। প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে তারা গত আসরে।
তবে পেছনের কারণ যেটিই হোক, কোহলি-বেঙ্গালুরুকে ঠিক ধোনি-চেন্নাইয়ের মতোই দেখেন কুম্বলে।
“রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর (আরসিবি) পরিচয় গড়ে উঠেছে তাকে (কোহলি) ঘিরেই। গত ১০-১২ বছরে পেছন ফিরে তাকালে, ভিরাট কোহলির মতো একজনকেই ঘিরেই গড়ে উঠেছে। ২০১৩ সালে সে নেতৃত্ব পাওয়ার পর থেকেই ফ্র্যাঞ্চাইজির মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে তার উপস্থিতি। এবি ডি ভিলিয়ার্স এবং ক্রিস গেইলও একই ধরনের সমর্থন পেয়েছিলেন।”
“বেঙ্গালুরুতে এবি যখন নিজের শততম টেস্ট ম্যাচ খেলতে নামে, আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে খেলার সময়েও সে যে ধরনের অভ্যর্থনা পেয়েছিলেন, তাতেই স্পষ্ট বোঝা যায়। এটাই প্রমাণ করে যে বেঙ্গালুরুর মানুষ আরসিবি এবং বিরাটকে কতটা ভালোবাসে। আমরা যেমন এমএস ধোনি এবং চেন্নাই সুপার কিংস নিয়ে কথা বলি, তেমনি বিরাট এবং আরসিবি সবসময় সমার্থক হয়ে থাকবে, এবং আমার মনে হয় না এর কোনো পরিবর্তন হবে। এই ঐতিহ্য অটুট থাকবে।”
আইপিএলের ইতিহাসে ৮ হাজার রান করা একমাত্র ব্যাটসম্যান কোহলি। ৮ সেঞ্চুরি ও ৬৩ ফিফটিতে রান করেছেন তিনি ৮ হাজার ৬৬১। সব রানই করেছেন বেঙ্গালুরুর হয়ে। গড়েছেন অনেক রেকর্ড। গত মৌসুমে ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রথম শিরোপা জয়েও বড় অবদান ছিল তারই। ৫৪.৭৫ গড়ে ৬৫৭ রান করেছিলেন তিনি ১৪৪.৭১ স্ট্রাইক রেটে।
সামনের মৌসুমেও কোহলির কাছে দারুণ কিছুর আশা কুম্বলের। সেটা শুধু পারফরম্যান্সে নয়, খেলার ধরনেও। উদ্ভাবনী শট এমনিতে খুব বেশি খেলেন না কোহলি। এবার তার কাছ থেকে তেমন কিছু বা নতুন কিছু দেখা যেতে পারে বলে ধারণা করছেন ভারতের ইতিহাসের সফলতম বোলার।
“সেরা খেলোয়াড়রা সবসময় নিজেদের উন্নতি করতে চান, তারা কখনোই সন্তুষ্ট হন না। প্রতি মৌসুমেই ভুলগুলো শুধরে নিতে চায়, শুধু দলের জন্যই নয়, নিজের বিকাশের জন্যও এবং নিজেকে চ্যালেঞ্জ করার জন্য। এই মৌসুমে সে যদি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আসেন, অবাক হবেন না… হয়তো স্কুপ শট বা রিভার্স স্কুপের মতো কিছু চেষ্টা করতে পারে।”
“আমরা এবি ডি ভিলিয়ার্সকে বছরের পর বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এটা করতে দেখেছি, এবং ভিরাটও তার ব্যাটিং ভাণ্ডারে এটি যোগ করতে পারে। তার মতো সেরা খেলোয়াড়রা ক্রমাগত নিজেদের বিকশিত করতে, উন্নত করতে এবং চ্যালেঞ্জ জানাতে চায়।”
আগামী ২৮ মার্চ থেকে শুরু এবারের আইপিএল।