Published : 02 Jun 2025, 08:33 AM
কয়েকটি চটকদার শট। এরপরই সম্ভাবনার অপমৃত্যু কিংবা আত্মহত্যা। মোহাম্মদ হারিসের ক্যারিয়ারে এসবই সবচেয়ে নিয়মিত চিত্র। গত বিপিএলে তো একদম যাচ্ছেতাই ফর্মে ছিলেন। তখন যে হারিসকে দেখেছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট, যে হারিসকে বোলিং করেছিলেন হাসান মাহমুদ, রিশাদ হোসেনরা, সেই ব্যাটসম্যানকেই এবার দেখা গেল ভিন্ন রূপে।
পাকিস্তানের ক্রিকেটে হারিসকে মনে করা হয় তার প্রজন্মের সবচেয়ে প্রতিভাবান ও সহজাত স্ট্রোকপ্লেয়ারদের একজন। কিন্তু পাশাপাশি আছে তীব্র হাহাকার। প্রতিভার প্রতিফলন যে মাঠে পড়ে সামান্যই! অবশেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রথমবার উল্লেখযোগ্য কিছু করতে পারলেন ২৪ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। তার ম্যাচ জেতানো সেঞ্চুরিতেই রোববার শেষ টি-টোয়েন্টি জিতে বাংলাদেশকে হোয়াইটওয়াশ করল পাকিস্তান।
অথচ এই সিরিজের আগে খুব ভালো ফর্মে তিনি ছিলেন না। পিএসএলে এবার পেশাওয়ার জালমির হয়ে এক ম্যাচে ৮৭ রানের ইনিংস খেলতে পারলেও বাকি ৯ ইনিংসে ফিফটি করতে পারেননি। গত মার্চে নিউ জিল্যান্ড সফরে গিয়ে পাঁচ টি-টোয়েন্টিতে খেলে একটি ৪১ রানের ইনিংস ছাড়া তেমন আর কিছু করতে পারেননি।
এর আগে গত বিপিএলে দুর্বার রাজশাহীর হয়ে ১০ ইনিংস রান করেন মোট ১৬৮। সর্বোচ্চ ইনিংসটি ছিল স্রেফ ৩২ রানের।
তার পরও তাকে বাংলদেশের বিপক্ষে এই সিরিজের দলে নেওয়ায় সমালোচনা হয়েছিল অনেক। কিন্তু অধিনায়ক সালমান আলি আগা ও নির্বাচকরা ভরসা রেখেছেন তার ওপর। আধুনিক ও আগ্রাসী যে ঘরানার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট রপ্ত করে এগোতে চাচ্ছে পাকিস্তান, সেখানে হারিসের মতো ভয়ডরহীন ব্যাটসম্যানদের থাকা জরুরি। তাই তাকে বাদ দেয়নি দল।
হারিসও জ্বলে উঠলেন সময়মতো। বিপিএলে যে হারিসকে দেখেছিল বিভিন্ন দলের বোলাররা, এখন যেন তিনি অন্য এক ব্যাটসম্যান।
বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচেও অবশ্য তার পুরোনো রোগ দেখা গেছে। দুটিতেই দারুণ শুরুর পর আউট হয়ে গেছেন ৩১ ও ৪১ রানে। সেই ব্যাটসম্যান তৃতীয় ম্যাচে ১৯৭ রান তাড়ায় উপহার দিলেন ৮ চার ও ৭ ছক্কায় ৪৬ বলে ১০৭ রানের অপরাজিত ইনিংস।
এই ম্যাচের আগে ১৬টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে কোনো ফিফটি ছিল তার। ২০ ওভারের স্বীকৃত ক্রিকেটে ১২৬ ম্যাচ খেলে ছিল না কোনো সেঞ্চুরি। তিনি অপূর্ণতা ঘোচালেন দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে।
ম্যাচের পর পুরস্কার বিতরণী আয়োজনে রামিজ রাজা জিজ্ঞেস করলেন এই প্রসঙ্গেই, “অনেক দিন ধরেই আমরা অপেক্ষা করছিলাম, এমন মোহাম্মাদ হারিস কবে দেখব! অবশেষে আপনি ঝলক দেখলালেন…।”
হারিস হাসি মুখে জানালেন, ঘাম ঝরিয়েই অবশেষে এমন ইনিংস খেলতে পারলেন তিনি।
“পরিশ্রম করে গেছি। পিএসএলে যত ভুল করেছি, সেখান থেকে শেখার চেষ্টা করেছি। এই সিরিজে সুযোগ মেলেছে, এই সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইনি।”
ভালো খেলতে খেলতেই হুট করে উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার নজির তার অনেক আছে। তবে এই ইনিংসে প্রতিজ্ঞা করেছিলেন, হেলায় উইকেট োরাবেন না।
“এই ইনিংসে এটিই আমার চেষ্টা ছিল যে, কোনো উল্টোপাল্টা শট খেলব না, সহজাতভাবে যেটা খেলি অনেক সময়। পরিকল্পনা ছিল, বল দেখব এবং সেই অনুযায়ী খেলব।”
পরিস্থিতি ঠিকঠাক ধরতে না পারার কারণে ম্যাচ সচেতনায় ঘাটতি হারিসের প্রবল বলে সমালোচনা ছিল এত দিন। তাকে নিয়ে মজা-ট্রলও কম হয়নি। ম্যাচের পর সংবাদ সস্মেলনে পাকিস্তান অধিনায়ক সালমান আলি আগা জবাব দিলেন সেই ধারণার।
“হারিসের সঙ্গে একটা কথা জুড়ে গেছে যে, সে মাথা কাজে লাগায় না। এই পুরো সিরিজেই দেখুন, ৫ রানে ২ উইকেটের পর সে ক্যালকুলেটিভ রিস্ক নিয়েছে, বুঝব্যাট করেছে। আজকেও সেটিই করেছে।”
“হারিস, সাইম (আইয়ুব), হাসনি (নাওয়াজ) এমন তিনজন ব্যাটসম্যান, আমার নেতৃত্বের সময়টায় ওদেরকে ম্যাচ জেতানোর ব্যাটসম্যান বানিয়ে তুলতে চাই। কারণ, আমার মতে তারা এমন তিনজন, পাকিস্তানের হয়ে যারা অসাধারণ কিছু করতে পারে।”