Published : 22 Aug 2025, 02:37 PM
স্যাম কুক যেন ছিলেন দুর্বোধ্য। তার বল ঠিকভাবে খেলতেই পারছিলেন না ব্যাটসম্যানরা। কে জানত, এভাবে শুরুর পরও ম্যাচটি হয়ে থাকবে অভিজ্ঞ এই পেসারের ক্যারিয়ারের বিব্রতকর এক অভিজ্ঞতা! তার নাম লেখা হয়ে গেল অনাকাঙ্ক্ষিত এক রেকর্ডে।
কুকের ৫ বল থেকে এ দিন রান ওঠে ৩২। ইংল্যান্ডের ‘দা হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে ৫ বলের সেটে সবচেয়ে বেশি রান দেওয়ার নজির এটিই। তাতে অস্বস্তির এই রেকর্ড থেকে মুক্তি পেলেন আফগান লেগ স্পিন তারকা রাশিদ খান।
ওভালে বৃহস্পতিবার ওভাল ইনভিন্সিবলসের বিপক্ষে ম্যাচে এই তেতো স্বাদ পান ট্রেন্ট রকেটসের কুক। মাঠে থেকেই তা উপভোগ করলেন ইনভিন্সিবলসের রাশিদ।
ইংল্যান্ডের ১০০ বলের এই ক্রিকেট আসরে ‘ওভার’ বলে কিছু নেই, আছে ৫ বলের ‘সেট।’ সেখানে সুযোগ আছে কোনো বোলারের প্রান্ত না বদল করে পরপর দুই সেট, মানে টানা ১০ বল করার।
এই ম্যাচেই কুক যেমন ইনিংসের ১০ বলের পর আক্রমণে এসে প্রথম সেট দারুণ বোলিং করেন। তার ৫ বলে কেবল লেগ বাই থেকে আসে একটি রান। তারপর তাকে আরেক সেটে বোলিং চালিয়ে দেন অধিনায়ক। সেই সেটে তার ৫ বল থেকে আসে ৬ রান। ওভালের দুই আগ্রাসী ওপেনার টাওয়ান্ডা মুয়েয়ে ও উইল জ্যাকস সুবিধা করতে পারছিলেন না মোটেও।
১৭২ রান তাড়ায় ওভাল অনেকটা ধুঁকছিল পরেও। প্রথম ৬০ বলে তাদের রান ছিল ২ উইকেটে ৭০।
এরপরই ১০ বলের বিস্ফোরণে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। ডেভিড উইলিকে একটি ছক্কা মারেন জর্ডান কক্স, দুটি স্যাম কারান। ওই ৫ বল থেকে আসে ১৯ রান।
রাশ টেনে ধরতে কুককে আক্রমণে ফেরান ট্রেন্ট অধিনায়ক উইলি। কিন্তু ফল হয় উল্টো।
প্রথম ডেলিভারি লেগ স্টাম্পের বাইরে করেন কুক। ধরতে পারেননি কিপারও। ওয়াইডসহ আসে ৫ রান।
পরের ডেলিভারিও ওয়াইড, এবার শর্ট বল চলে যায় ব্যাটসম্যানের মাথার ওপর দিয়ে।
প্রথম ১০ ডেলিভারিতে যিনি দিয়েছিলেন ৬ রান, এবার তিনি কোনো বৈধ ডেলিভারি না করেই দিয়ে ফেললেন ৬ রান।
তার দুঃস্বপ্নের সেটি কেবলই শুরু।
পরের ডেলিভারি আবার শর্ট, এবার পুল করে ছক্কায় উড়িয়ে দেন কারান। এরপর তিনি চার মারেন কাভার দিয়ে।
এরপর কুক গড়বড় করে বসেন আরও। তার ‘নো’ বলে ছক্কা মারেন কারান। হান্ড্রেড-এর নিয়ম অনুযায়ী, ‘নো’ বল থেকে রান আসে দুটি। ওই ডেলিভারিতে তাই রান আসে ৮।
কুকের যন্ত্রণার শেষ হয়নি সেখানেই। অ্যাঙ্গল বদল করে রাউন্ড দা উইকেটে আসেন তিনি। কিন্তু বল করেন লেগ স্টাম্পে। নিজের জোনে পেয়ে আবার মিড উইকেট দিয়ে ছক্কা মেরে দেন কারান।
যেটির মানে স্রেফ ৩ বলেই তখন উঠে গেছে ৩০ রান!
শেষটা অবশ্য ভালোভাবেই করেন তিনি। চতুর্থ ডেলিভারিতে দুই রান নেন কারান, পঞ্চম ডেলিভারিতে আসেনি রান।
শেষ ২ বলে কেবল ২ রান দেওয়ার পরও ৫ বলে রান ৩২। হয়ে যায় রেকর্ড।
গত বছরের আসরে ৫ বলে ৩০ রান দিয়ে আগের রেকর্ডটি ছিল রাশিদ খানের। ২০২১ আসরে ৫ বলে ২৯ দিয়েছিলেন স্টিভেন ফিন।
উইলি আর কুকের ওই ১০ বলে ৫১ রান নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় ওভাল।
কারান পরে আউট হয়ে যান ২৪ বলে ৫৪ রান করে। কিন্তু মার্কাস স্টয়নিসের ৫ বলে ৩ ছক্কা ও ১ চারসহ ২৫ রান দেন জর্ডান কক্স ও ডনোভান ফেরেইরা মিলে।
৬০ বল শেষে ৭০ রান তোলা দল পরের ২৯ বলেই ১০৩ রান করে ম্যাচ জিতে যায় ১১ বল বাকি রেখে।
৩২ বলে ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন কক্স।
ম্যাচের প্রথম ভাগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ট্রেন্ট রকেটস ১০০ বলে তোলে ১৭১ রান। ওপেনিংয়ে জো রুট করেন ৪১ বলে ৭৬। শেষ দিকে ৮ বলে ২৫ করেন দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার জর্জ লিন্ডা।
২০ বলে মাত্র ১৯ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন রাশিদ খান।
রান তাড়ায় শুরুতে চাপে থাকলেও শেষপর্যন্ত লক্ষ্যটাকে মামুলি বানিয়ে ফেললেন কারান ও কক্স।
ইংল্যান্ডের ঘরোয়া ক্রিকেটে কুক এমনিতে দারুণ সফল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে তিনশর বেশি উইকেট নেওয়ার পর গত মে মাসে তার টেস্ট অভিষেক হয় জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে।