Published : 14 May 2026, 08:19 PM
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে অনুশীলন ছিল পাকিস্তান দলের। অনুশীলন শেষে সবাই গেলেন মূল মাঠে। কাছ থেকে উইকেট দেখলেন কয়েকজন। কোচ সারফারাজ আহমেদ তো উইকেটের ওপর হেঁটেও গেলেন। ঠিক তখনই উইকেট দেখতে এলেন লিটন কুমার দাসও। উইকেটের পাশে দাঁড়িয়ে দুজনে কথা বললেন কিছুক্ষণ।
তাদের আলোচনায় উইকেটের প্রসঙ্গ ছিল কি না, কে জানে। তবে টেস্টে শুরুর দুদিন আগে উইকেটের যে চেহারা, তাতে বাকি দিনগুলিতে আলোচনা বেশ হবে বটে। মাঠ আর উইকেটের পার্থক্য যে খুব একটা নেই!
গত কিছুদিনের বৃষ্টিতে সিলেট স্টেডিয়ামের আউটফিল্ড রূপ নিয়েছে সবুজের গালিচায়। উইকেটে তো আর এত ঘন ঘাস থাকে না। তবে যতটুকু আছে, তাতে দূর থেকে মনে হচ্ছে যেন ওই ২২ গজেও বিছানো আছে সবুজ মখমল।
সেখানেই সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে শনিবার থেকে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। ২০২৪ সালে পাকিস্তানে গিয়ে ২-০ ব্যবধানে জিতে আসা নাজমুল হোসেন শান্তর দলের সামনে হাতছানি দেশের মাঠে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তির।
টেস্টের আগের দিন ও টেস্ট ম্যাচের সকালে ঘাস আরও ছেঁটে দেওয়া হবে নিশ্চিতভাবেই। তার পরও উইকেট যে সবুজই থাকবে, তাতে সংশয় নেই।
খুব বিস্ময়ের অবশ্য নয় তা। গত মার্চে স্পোর্টিং উইকেটে পাকিস্তানকে ওয়ানডে সিরিজে হারানোর পর আত্মবিশ্বাসের ডানায় ভেসে মিরপুর টেস্টেও একই ধরনের উইকেটে দারুণ জয়ে এখন উড়ছে বাংলাদেশ দল। সিলেট টেস্টেও কেন নয়!
মিরপুরের সঙ্গে সিলেটের উইকেটের একটি মৌলিক পার্থক্য অবশ্য আছে। উইকেটে যদি ঘাস একই সমান রাখা হয়, সিলেটের উইকেটে বাউন্স বরাবরই একটু বেশি থাকে। মিরপুরের চেয়ে একটু গতিময়ও। প্রাথমিকভাবে তাই ব্যাটসম্যানদের কাজ এখানে আরেকটু কঠিন হতে পারে, তবে টিকে গেলে এবং স্কিল থাকলে এই ধরনের উইকেটে ব্যাটিং করাটাও উপভোগ্য।
বাংলাদেশ দল বৃহস্পতিবার সিলেট স্টেডিয়ামের আউটার মাঠে যে উইকেটগুলোতে ব্যাটিং-বোলিং ঝালাই করেছে, সেগুলোও ছিল ঘাসে ভরা উইকেট। সামনের চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখেই চলছে প্রস্তুতি।
উইকেটের চেহারা দেখে চোখ চকচক করে ওঠার কথা যে দুজনের, সেই তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানা অবশ্য এ দিন বোলিং করেননি। মিরপুর টেস্টে দারুণ বোলিং করা দুই ফাস্ট বোলারের ওয়ার্কলোড সতর্কভাবেই সামলাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্ট।
অনুশীলনের আগে গা গরমের জন্য যখন সবাই ফুটবল খেলছিলেন, তাসকিন ও নাহিদকে এক প্রান্তে অনেক অনেকক্ষণ ধরে কথা বললেন কোচ ফিল সিমন্স। কোচের সঙ্গে আলোচনার পর দুই পেসারই ড্রেসিং রুমে ঢুকে গেলেন। একটু পর নাহিদ বের হলেন বটে, তবে বল হাতে নয়, প্যাড-গ্লাভস পরে নেটে গেলেন তিনি ব্যাটিং কিছুটা শানিয়ে নিতে।
ব্যাটিং লাইন আপে একটি পরিবর্তন বাংলাদেশের নিশ্চিত হয়ে গেছে। মিরপুর টেস্টে বুক চোট পেয়ে সিলেট টেস্ট থেকে ছিটকে গেছেন সাদমান ইসলাম। তার বদলে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন জাকির হাসান। যদিও একাদশে থাকার সম্ভাবনা বেশি তানজিদ হাসানের। সব ঠিকঠাক থাকলে টেস্ট ক্যাপ পাচ্ছেন আগ্রাসী এই ওপেনার।
আরেক ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয়কে ভোগাচ্ছে আঙুলের চোট। সিলেটে এ দিন যদিও নেটে ব্যাট করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি খেলতে না পারলে সুযোগ মিলবে জাকিরের।
একাদশে আরেকটি পরিবর্তনও অনেকটা নিশ্চিত। ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে মিরপুরে খেলানো হয়নি শরিফুল ইসলামকে। সিলেটে তাকে দেখা যেতে পারে একাদশে। অনুশীলনের শুরু থেকেই বাঁহাতি এই পেসারের সঙ্গে বেশ নিবিড়ভাবে কাজ করতে দেখা গেল শন টেইটকে। তাকে জায়গা দিতে বাইরে চলে যাবেন মিরপুরে একদমই ধারহীন থাকা ইবাদত হোসেন চৌধুরি।
মিরপুর টেস্টে জয়ের রেশটা এখনও আছে ভালোভাবেই। অনেক সময় এই ধরনের জয়ের রোমাঞ্চটা এত তীব্র থাকে যে, পরের ম্যাচের প্রক্রিয়ায় গলদ থেকে যায় এবং এক ধাক্কায় বাস্তবতার জমিনে নেমে আসতে হয়। বাংলাদেশ দলের জন্যও বড় চ্যালেঞ্জ সেই একইরকম মনোযোগ, তাড়না ও ক্ষুধা নিয়ে আবার মাঠে নামা।
অনুশীলন শুরুর আগে বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসে সহকারী কোচ আশিকুর রহমান মজুমদার বললেন, দলকে সেই বার্তা আগেই দিয়ে রেখেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
“আপনারা দেখেছেন যে, আমাদের অধিনায়ক শান্ত গত টেস্টের পরে আমাদের যে উদযাপন, ওই সময় একটা রিমাইন্ডার দিয়ে দিয়েছেম আমাদের আজকের দিনটা আমরা উপভোগ করব, কিন্তু পরের ম্যাচের জন্য আবার আমরা যেন মানসিকভাবে প্রস্তুত হই। আমাদের ক্রিকেটাররা সেভাবেই এগোচ্ছে। আজকে এবং আগামীকাল আমাদের ট্রেনিং আছে, এগুলো নিয়ে কাজ হবে।”