বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি দলে ভারতের আধিপত্য

পুরুষ ও নারী দুই দলের কোনোটিতেই জায়গা হয়নি বাংলাদেশের কারো।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Jan 2023, 10:28 AM
Updated : 23 Jan 2023, 10:28 AM

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিততে না পারলেও গত বছর এই সংস্করণে দুর্দান্ত খেলেছে ভারত। দলটির কয়েকজন খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সও ছিল নজরকাড়া। যার প্রতিফলন পড়েছে আইসিসি বর্ষসেরা একাদশে; যেখানে সবচেয়ে বেশি ক্রিকেটার এশিয়ার দলটির। 

২০২২ সালের সেরা পুরুষ ও নারী টি-টোয়েন্টি দল সোমবার ঘোষণা করে আইসিসি। দুই জায়গায়ই আধিপত্য ভারতের। ছেলেদের দলে সর্বোচ্চ ৩ জন ও মেয়েদের দলে ৪ জন তাদের। 

গত অক্টোবর-নভেম্বরের বিশ্বকাপে ট্রফি জয়ী ইংল্যান্ড ও রানার্সআপ পাকিস্তান দলের দুই জন করে আছেন ছেলেদের বর্ষসেরা দলে। একজন করে জায়গা পেয়েছেন নিউ জিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ড থেকে। বাংলাদেশের কেউ নেই। 

গত বছর সবচেয়ে বেশি ২৮টি টি-টোয়েন্টি জেতা ভারতের তিন জন হলেন বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব ও হার্দিক পান্ডিয়া। কোহলির প্রায় তিন বছরের সেঞ্চুরি খরা কাটে ২০২২ সালে। টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে আফগানিস্তানের বিপক্ষে। 

ওই টুর্নামেন্টের পর বিশ্বকাপেও দেখা যায় তার ঝলক। গত বছর ২০ ম্যাচ খেলে ১৩৮.২৩ স্ট্রাইক রেটে ৭৮১ রান করেন কোহলি। সেঞ্চুরি একটির সঙ্গে ফিফটি করেন ৮টি। 

বছরটা স্বপ্নের মতো কেটেছে সূর্যকুমারের। ৩১ ম্যাচে ২ সেঞ্চুরি, ৯ ফিফটি ও ১৮৭.৪৩ স্ট্রাইক রেটে সর্বোচ্চ ১ হাজার ১৬৪ রান করেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এক পঞ্জিকাবর্ষে এক হাজার রান করা দ্বিতীয় ক্রিকেটার তিনি, এখন র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যানও। আর পান্ডিয়া ব্যাটে-বলে ছিলেন ছিলেন দুর্দান্ত। 

ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক জস বাটলারের সঙ্গে পেস বোলিং অলরাউন্ডার স্যাম কারান জায়গা পেয়েছেন বর্ষসেরা দলে। ডেথ বোলিংয়ে অসাধারণ পারফরম্যান্স করে বিশ্বকাপের সেরা ক্রিকেটার হন কারান। গত বছর ১৫ ম্যাচে ১৬০.৪১ স্ট্রাইক রেটে ৪৬২ রান করেন বাটলার। 

গত বছরে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৯৯৬ রান করে এই দলে জায়গা হয়েছে পাকিস্তানের মোহাম্মদ রিজওয়ানের। তার সতীর্থ পেসার হারিস রউফও আছেন। 

কিউই বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস, লঙ্কান লেগ স্পিনিং অলরাউন্ডার ভানিন্দু হাসারাঙ্গা ও আইরিশ পেসার জশ লিটলকে দলে রেখেছে আইসিসি। ব্যাট-বলে দারুণ বছর কাটিয়ে বর্ষসেরা দলে জায়গা পেয়েছেন জিম্বাবুয়ের সিকান্দার রাজা।  

পুরুষ টি-টোয়েন্টি বর্ষসেরা একাদশ: জস বাটলার (অধিনায়ক), মোহাম্মদ রিজওয়ান, বিরাট কোহলি, সূর্যকুমার যাদব, গ্লেন ফিলিপস, সিকান্দার রাজা, হার্দিক পান্ডিয়া, স্যাম কারান, ভানিন্দু হাসারাঙ্গা, হারিস রউফ ও জশ লিটল।

নারী বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি একাদশে ভারতের ৪ জন 

বছর জুড়ে দারুণ সব পারফরম্যান্স উপহার দেওয়া ক্রিকেটারদের নিয়ে সাজানো হয়েছে সেরা একাদশ। যেখানে সবচেয়ে বেশি ৪ জন ক্রিকেটার ভারতের। এখানেও জায়গা পাননি বাংলাদেশের কেউ। 

অস্ট্রেলিয়ার তিন জনকে রাখা হয়েছে এই দলে। ইংল্যান্ড, নিউ জিল্যান্ড, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার আছেন একজন করে। 

ভারতের চার জন হলেন ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা, অলরাউন্ডার দিপ্তি শর্মা, কিপার-ব্যাটসম্যান রিচা ঘোষ ও পেসার রেনুকা সিং। এশিয়া কাপ জয়ে বড় ভূমিকা ছিল চার জনেরই। 

২০২২ সালটি দুর্দান্ত কেটেছে মান্ধানার। ৩৩ গড় ও ১৩৩.৪৮ স্ট্রাইক রেটে ৫৯৪ রান করেছেন তিনি। অফ স্পিনে গত বছর ১৮.৫৫ গড়ে ২৯ উইকেট নিয়েছেন দিপ্তি। পাশাপাশি ১৩৬.০২ স্ট্রাইক রেটে রান করেছেন তিনি ৩৭০। দারুণ খেলেছেন রিচা ও রেনুকাও। 

বেথ মুনির সঙ্গে বছর সেরা দলে অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশ গার্ডনার ও তাহলিয়া ম্যাকগ্রাও আছেন। টপ অর্ডার ব্যাটার মুনির গত বছর ব্যাটিং গড় ছিল ৫৬.১২ ও স্ট্রাইক রেট ১৩৪.৪৩। 

২০২২ সালে স্রেফ ৭ ইনিংসে ব্যাটিং করেই বর্ষসেরা দলে জায়গা করে নিয়েছেন গার্ডনার। ১৫২.১১ স্ট্রাইক রেট ও ৭২ গড়ে ২১৬ রান করেছেন তিনি। মেয়েদের টি-টোয়েন্টিতে এক বছরে পঞ্চাশোর্ধ গড় ও দেড়শর বেশি স্ট্রাইক রেটে ২০০ রানের বেশি করা তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। আর অলরাউন্ডার ম্যাকগ্রা পেস বোলিংয়ে ১৩ উইকেটের পাশাপাশি করেছেন ৪৩৫ রান। 

আইসিসি বর্ষসেরা একাদশের অধিনায়ক নিউ জিল্যান্ডের সোফি ডিভাইন। এই অলরাউন্ডার গত বছর ৩৮৯ রান করার পাশাপাশি নিয়েছেন ১৩ উইকেট। 

পাকিস্তানের অফ স্পিনার নিদা দার, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বাঁহাতি স্পিনার সোফি এক্লেস্টোন ও এনোকা রানাভিরা আছেন এই দলে। এই তিনজন গত বছর যথাক্রমে নিয়েছেন ১৫, ১৯ ও ২৭টি করে উইকেট। 

বর্ষসেরা নারী টি-টোয়েন্টি একাদশ: স্মৃতি মান্ধানা, বেথ মুনি, সোফি ডিভাইন (অধিনায়ক), অ্যাশ গার্ডনার, তাহলিয়া ম্যাকগ্রা, নিদা দার, দিপ্তি শর্মা, রিচা ঘোষ, সোফি এক্লেস্টোন, ইনোকা রানাভিরা ও রেনুকা সিং।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক