‘ক্ষুধার্ত’ কোহলিকে মিরপুরেও অভুক্ত রাখতে চায় বাংলাদেশ
টেস্ট সেঞ্চুরি খরা ঘোচাতে মরিয়া বিরাট কোহলিকে মিরপুর টেস্টেও দমিয়ে রাখার আশা বাংলাদেশের।
বিরাট কোহলির ওয়ানডে সেঞ্চুরির দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হয়েছে এবারের বাংলাদেশ সফরে। তবে টেস্ট সেঞ্চুরির খরা কাটেনি এখনও। গত তিন বছরে ক্রিকেট বিশ্বের নানা প্রান্ত ঘুরে এবার চট্টগ্রামেও ভারতীয় গ্রেট দেখা পাননি কাঙ্ক্ষিত সেই তিন অঙ্কের। মিরপুরে যে কোহলি মরিয়া থাকবেন, ভালো করেই জানেন অ্যালান ডোনাল্ড। তবে আরও একবার তাকে হতাশ করতে চান বাংলাদেশের বোলিং কোচ।
ভারতের এবারের সফরে কোহলিকে দমিয়ে রাখার অভিযানে বাংলাদেশকে এখনও পর্যন্ত বেশ সফলই বলা যায়। ওয়ানডে ও টেস্ট মিলিয়ে চার ম্যাচের পাঁচ ইনিংস ব্যাটিং করেছেন কোহলি। ওয়ানডে সিরিজে একটি সেঞ্চুরি ছাড়া বাকি চারবার ২০ রান পেরোতে পারেনি ভারতের ব্যাটিং জিনিয়াস।
ওয়ানডের সেই সেঞ্চুরিতে অবশ্য একটি খরা কাটান কোহলি। একটা সময় এই সংস্করণে মাঠে নামলেই যিনি সেঞ্চুরি করতেন মুড়ি-মুড়কির মতো, সেই তিনিই তিন বছরের বেশি সময় ধরে ২৫ ইনিংস পর স্বাদ পান শতরানের।
এই কিছুদিন আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কোহলির সেঞ্চুরি খরা ছিল ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল আলোচিত প্রসঙ্গ। প্রায় তিন বছর পর অবশেষে তিনি তিন অঙ্কের দেখা পান সেপ্টেম্বরে এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে।
এরপর এবার বাংলাদেশে এসে তিনি দেখা পান ওয়ানডে সেঞ্চুরির। মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে যদিও তাকে দুই অঙ্ক ছুঁতে দেয়নি বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে সাকিব আল হাসানের বলে লিটন দাসের দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন তিনি। দ্বিতীয়টিতে ইবাদত হোসেনের অফ স্টাম্পের বাইরের বল টেনে আনেন স্টাম্পে। দুই ম্যাচে করেন ৯ ও ৫ রান।
অবশেষে শেষ ওয়ানডেতে চট্টগামে ইশান কিষানের ইতিহাস গড়া ডাবল সেঞ্চুরির ম্যাচে কোহলি খেলেন ১১৩ রানের ইনিংস।
এরপর টেস্ট সেঞ্চুরির অপেক্ষা অবসানের পালা। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের বিপক্ষেই কলকাতায় ১৩৬ রানের ইনিংস খেলেছিলেন কোহলি। সেই ২৭ সেঞ্চুরির সঙ্গে আর একটিও যোগ হয়নি গত তিন বছরে। চট্টগ্রাম টেস্টে প্রথম ইনিংসে তাইজুল ইসলামের দারুণ টার্নিং এক ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হওয়ার আগে করেন তিনি ১ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে অবশ্য আউট হননি। দল ইনিংস ঘোষণার সময় অপরাজিত ছিলেন ১৯ রানে।
সব মিলিয়ে এখন টানা ৩৪ টেস্ট ইনিংসে শতরান নেই তার।
এবারের বাংলাদেশ সফরে এখনও পর্যন্ত ৫ ইনিংসে ৩৬.৭৫ গড়ে কোহলির রান ১৪৭, যা তার আগের যে কোনো সফরের তুলনায় নাজুকই বটে।
ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক লোকেশ রাহুলও চার ম্যাচে বড় স্কোরের দেখা পাননি। প্রথম ওয়ানডেতে ৭৩ রান করার পর আর হাসেনি তার ব্যাট।
এই সফর ও এই বছর যে বড় কিছু দিয়ে শেষ করতে চাইবেন কোহলি ও রাহুল, তা জানেন ডোনাল্ডও। তবে বাংলাদেশের বোলিং কোচ জানিয়ে রাখলেন, তার দলও এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত।
“তাদের (কোহলি ও লোকেশ রাহুল) উইকেট খুবই মূল্যবান। ব্যাপারটি হলো, যখন (শচিন) টেন্ডুলকার ব্যাটিংয়ের জন্য ক্রিজে যান, তার বিপক্ষে সবকিছু ঠিকঠাক করার মূল্য অপরিসীম। যখন গ্রেট কোহলি ব্যাটিংয়ে নামে, তার বিপক্ষে একটি সুযোগও হাতছাড়া করলে ভুগতে হবে। কারণ তারা এরপর আর বেশি সুযোগ দেয় না।”
“আমার মতে, কোহলি ও কেএলের (লোকেশ রাহুল) বিপক্ষে আমরা দারুণ করেছি। এটি অনেকটা (ব্রায়ান) লারার বিপক্ষে বোলিং করার মতো। আচমকা উত্তেজনার পারদ ওপরে চড়ে যায়। আগামীকালও (বৃহস্পতিবার) কিছু বদলাচ্ছে না। আমি জানি, কোহলি রানের জন্য ক্ষুধার্ত। সে প্রমাণ করতে চায়, সেঞ্চুরি দিয়ে টেস্ট সিরিজ শেষ করতে চায়। আমি মনে করি, এখন পর্যন্ত তার বিপক্ষে আমরা ভালো বোলিং করেছি। আশা করছি আগামীকাল থেকেও তা বজায় থাকবে।”
