১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

আব্দুল্লাহর ৬ রানের আক্ষেপ, পারভেজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স

১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংসের পর বোলিংয়ে ১৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরা শেখ পারভেজ হোসেন।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 06:43 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

শাহরিয়ার সাকিব যখন এলবিডাব্লিউ হয়ে ফিরলেন, দল তখন টালমাটাল। ইনিংসের বয়স ১২ ওভার হওয়ার আগেই প্যাভিলিয়নে শীর্ষ চার ব্যাটসম্যান। বিব্রতকর অবস্থায় পড়া দলের হাল ধরলেন মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। দারুণ খেলে এগিয়ে নিলেন দলকে। একটুর জন্য অবশ্য সেঞ্চুরি পেলেন না। তবে তার ইনিংসের সঙ্গে আহরার আমিনের ফিফটি ও শেখ পারভেজ হোসেনের দুর্দান্ত অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে বড় জয় পেল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দল। 

তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম একদিনের ম্যাচে মালয়েশিয়া জাতীয় দলকে ১৫৩ রানে হারাল বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-২৩ দল।

বসুন্ধরা স্পোর্টস কমপ্লেক্সে বুধবার বাংলাদেশের ৯ উইকেটে ২৯০ রানের জবাবে মালয়েশিয়ার ইনিংস থামে ১৩৭ রানে।

১০০ বলে ৯৪ রান করে আউট হন আব্দুল্লাহ, ৬১ রানে আহরার। 

ইনিংসের শেষদিকে দুই চার ও তিন ছয়ে ১৮ বলে ৩৫ রানের ইনিংস খেলার পাশাপাশি বোলিংয়ে ১৬ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে ম্যান অব দা ম্যাচ পারভেজ।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশ দ্বিতীয় ওভারে হারায় ওপেনার জাওয়াদ আবরারকে। কাভারে দারুণ ক্যাচ নেন শারভিন মুনিয়ান্দি। অস্বস্তিময় ব্যাটিংয়ে ৫ রান করে আউট হন তিনি। তার সঙ্গী ইকবাল হোসেন (০) ফেরেন ওই ওভারেই। 

দুই ওপেনারকে ফেরানোর পর চারে নামা রিজান হোসেনকেও (০) দ্রুত বিদায় করে দেন আরিফ উল্লাহ। 

১১ রানে তিন উইকেট হারিয়ে নড়বড়ে দলকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন সাকিব ও কালাম সিদ্দিকি। চতুর্থ উইকেটে ৪৯ বলে ৪০ রানের জুটি গড়েন তারা। দুই চারে ২৬ বলে ২১ রান করে ফেরেন সাকিব। 

পঞ্চম উইকেটে আব্দুল্লাহকে সঙ্গে নিয়ে ৪৯ রান যোগ করেন কালাম। তার (৫৬ বলে ৩৪) ইনিংসটিও বড় হয়নি। ১০০ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে দল তখন শঙ্কায় অল্পতে গুটিয়ে যাওয়ার। 

সেই শঙ্কা দূর করে দলকে বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে দেন আব্দুল্লাহ ও আহরার। ষষ্ঠ উইকেটে দুজনে ১০৯ বলে যোগ করেন ১০৩ রান। 

চারটি চার ও পাঁচ ছক্কায় ৬২ বলে ৬১ রানে আহরার ফিরলে ভাঙে এই জুটি। 

৬৬ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়া আব্দুল্লাহ এরপর রানের গতি বাড়িয়ে দ্রুত ছুটে যান শতরানের পথে। কিন্তু অফ স্পিনার সাইফ উল্লাহ মালিকের স্টাম্প সোজা ডেলিভারির লাইন পড়তে ভুল করে বোল্ড হয়ে যান সেঞ্চুরি থেকে ৬ রান দূরে। আউট হয়ে হতাশায় মাথা নুইয়ে বেশ কিছুক্ষণ বসে থাকেন তিনি। বাঁহাতি কিপার-ব্যাটারের ইনিংসে চার সাতটি, ছক্কায় চারটি। 

শেষদিকে পারভেজের ক্যামিও ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ তিনশর কাছাকাছি পৌঁছায়। শেষ ১০ ওভারে আসে ৮৪ রান। 

রান তাড়ায় শুরু থেকেই ধুঁকতে থাকা মালেয়েশিয়া জয়ের সম্ভাবনাই জাগাতে পারেনি সেভাবে। প্রথম পাঁচ ওভারে ১০ রান তোলা দল প্রথম উইকেট হারায় ষষ্ঠ ওভারে। এরপর নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক পর্যায়ে তাদের রান ছিল ৮ উইকেটে ৭৬। 

নবম উইকেটে আহমাদ জুবাইদি ও জুনাইদ খানের লড়াইয়ে একশ পার হয় দল। ৪৬ রানের জুটি গড়েন দুজন। 

আটে নেমে ৪৬ রান করেন জুবাইদি, দশে নেমে ২১ জুনাইদ। 

অফ স্পিনে পারভেজের পাঁচ উইকেটের পাশাপাশি দুটি করে শিকার ধরেন লেগ স্পিনার স্বাধীন ইসলাম ও বাঁহাতি পেসার মারুফ মৃধা। 

সিরিজের পরের ম্যাচ একই মাঠে শুক্রবার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২৩: ৫০ ওভারে ২৯০/৯ (জাওয়াদ ৫, ইকবাল ০, কালাম ৩৪, রিজান ০, শাহরিয়ার ২১, আব্দুল্লাহ ৯৪, আহরার ৬১, মাহফুজুর ১৪, পারভেজ ৩৫*, মারুফ ২, স্বাধীন ০*; আজিজ ৫-১-২০-০, আরিফ ১০-০-৫৩-৪, ভিজায় ১০-১-৪৯-২, মুনিয়ান্দি ৩-০-১৯-০, মাধুকার ১০-০-৬৬-০, জুনাইদ ৪-০-৩২-০, সাইফ ৬-০-২৫-১, আমির ২-০-২৬-১)

মালয়েশিয়া:  ৪০.৫ ওভারে ১৩৭/১০ (সাইফ ২১, আসলাম ৩, মুনিয়ান্দি ১, ভিজায় ১২, আমির ৪, আজিজ ৯, আজাব ৪, জুবাইদি ৪২, মাধুকার ৬, জুনাইদ ২১, আরিফ ২*; মারুফ ৭-১-২০-২, রিজান ৩-১-১৩-০, মাহফুজুর ৭-১-২৫-১, পারভেজ ৭.৫-১-১৬-৫, স্বাধীন ৯-৩-৩২-২, আহরার ৫-০-১১-০, ইকবাল ২-০-১৪-০)

ফল: বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব ২৩ দল ১৫৩ রানে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: শেখ পারভেজ হোসেন।