হতশ্রী ব্যাটিং-বোলিংয়ে বাংলাদেশের হার
শ্রীলঙ্কা সফরের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লড়াই করতেই পারেনি বাংলাদেশ।
টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ। ৭ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল শ্রীলঙ্কা।
পাল্লেকেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার ১৫৫ রানের লক্ষ্য ছুঁতে ১৯ ওভার লাগে স্বাগতিকদের।
বাজে ব্যাটিংয়ের পর বোলিংয়ে আরও হতাশ করে বাংলাদেশ। সব মিলিয়ে হতশ্রী প্রদর্শনীতে লড়াই করতেই পারেনি তারা।
অথচ টস হেরে ব্যাট করতে নেমে পারভেজ হোসেনের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে চমৎকার শুরু পায় বাংলাদেশ। আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান অল্পে ফিরলেও পাওয়ার প্লেতে স্কোর দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৫৪ রান।
প্রথম ছয় ওভারের প্রতিটিতে অন্তত একটি বাউন্ডারি মারে বাংলাদেশ। এরপর শুধুই পেছন পানে হাঁটা। ষষ্ঠ থেকে নবম ওভার পর্যন্ত টানা ২৭ বল আসেনি কোনো চার-ছক্কা। এরপর একটি বাউন্ডারি মেরে আবার ২৮ বলের খরা।
পারভেজ ছাড়া আর কেউই টি-টোয়েন্টিসুলভ ব্যাটিং করতে পারেননি। ৫ চার ও ১ ছক্কায় ২২ বলে ৩৮ রান করেন বাঁহাতি ওপেনার।
ধীর ইনিংস খেলেন তানজিদ (১৭ বলে ১৬), লিটন কুমার দাস (১১ বলে ৬) ও তাওহিদ হৃদয় (১৩ বলে ১০)।
প্রায় তিন বছর পর ফেরা মোহাম্মদ নাঈম শেখ নামেন চার নম্বরে। অষ্টম ওভারে ক্রিজে গিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকে ৩২ রান করতে তিনি খেলেন ২৯ বল। মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ২৩ বলে ২৯ রান।
শেষ দিকে শামীম হোসেন ২ ছক্কায় ৫ বলে ১৪ রান করলে দেড়শ পার হয় বাংলাদেশের।
রান তাড়ায় পাওয়ার প্লেতেই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেন পাথুম নিসাঙ্কা ও কুসাল মেন্ডিস। প্রথম ওভারে প্রায় ১৪ মাস পর ফেরা মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনে প্রথম তিন বলে বাউন্ডারি মেরে শুরুটা করেন নিসাঙ্কা।
পরে সমান তালে রান করেন কুসাল মেন্ডিস। দুই ওপেনার মিলে মাত্র ২৮ বলে গড়ে তোলেন ৭৮ রানের জুটি। পঞ্চম ওভারে মিরাজের বলে ছক্কার খোঁজে অক্কা পান ৫ চার ও ৩ ছক্কায় মাত্র ১৬ বলে ৪২ রান করা নিসাঙ্কা।
এরপর কমে যায় শ্রীলঙ্কার রানের গতি। অনেকটা ওয়ানডে ব্যাটিং করে জয়ের পথে এগোয় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে কুসাল মেন্ডিস ও কুসাল পেরেরা মিলে ৪২ রানের জুটি গড়তে খেলে ফেলেন ৪৯ বল।
২৫ বলে ২৪ রান করা কুসাল পেরেরাকে আউট করেন রিশাদ হোসেন।
৩টি করে চার-ছক্কায় ৩১ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ১৬তম ফিফটি পূর্ণ করেন কুসাল মেন্ডিস। বাংলাদেশের বিপক্ষে দশ ইনিংসে এটি তার সপ্তম ফিফটি।
দলকে জয়ের খুব কাছে রেখে শামীমের চমৎকার ক্যাচে আউট হন কুসাল মেন্ডিস। ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৫১ বলে খেলেন ৭৩ রানের ইনিংস।
পরে চারিথ আসালাঙ্কা ও আভিশকা ফার্নান্দো মিলে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ: ২০ ওভারে ১৫৪/৫ (পারভেজ ৩৮, তানজিদ ১৬, লিটন ৬, নাঈম ৩২*, হৃদয় ১০, মিরাজ ২৯, শামীম ১৪*; কারুনারাত্নে ১-০-৮-০, থুশারা ৪-০-৩২-১, বিনুরা ৩-০-২২-০, থিকশানা ৪-০-৩৭-২, শানাকা ৪-০-২২-১, ভ্যান্ডারসে ৪-০-২৫-১)
শ্রীলঙ্কা: ১৯ ওভারে ১৫৯/৩ (নিসাঙ্কা ৪২, কুসাল মেন্ডিস ৭৩, কুসাল পেরেরা ২৪, আভিশকা ১১*, আসালাঙ্কা ৮*; সাইফউদ্দিন ৩-০-২২-১, তাসকিন ৩-০-৪৩-০, তানজিম ৪-০-৩৪-০, মিরাজ ৪-০-২৪-১, শামীম ১-০-১১-০, রিশাদ ৪-০-২৪-১)
ফল: শ্রীলঙ্কা ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে শ্রীলঙ্কা ১-০তে এগিয়ে
ম্যান অব দা ম্যাচ: কুসাল মেন্ডিস
