Published : 07 Sep 2026, 05:45 PM
টানা দুই টেস্টে হারের পর দলের অর্ধেক ক্রিকেটারকে বাদ দেওয়া, কোচিং স্টাফে বদল আনা; মিসবাহ উল হাকের কাছে এসব স্রেফ লোক দেখানো পরিবর্তন। সাবেক এই অধিনায়ক মনে করেন, চাপের মুখে তড়িঘড়ি করে সিদ্ধান্ত নিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেটের সমস্যার সমাধান হবে না।
ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্ট হারের পর, তৃতীয় টেস্টের দলে ব্যাপক পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। মোহাম্মাদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হাক, সালমান আলি আগাসহ সাতজনকে দেশে পাঠিয়ে দেয় তারা।
তাদের বদলে যে সাতজনকে দলে ডাকা হয়েছে, সেখানে পাঁচজনেরই নেই টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা।
শুধু তাই নয়, প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদ ও বোলিং কোচ উমার গুলকে বরখাস্ত করে পাকিস্তান। দায়িত্ব দেয় সাদা বলের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন ও বোলিং কোচ অ্যাশলি নফকে।
দলের এমন রদবদলের পর জাতীয় দলের নির্বাচক প্যানেল থেকে সরে দাঁড়ান মিসবাহ। এরপর একটি টেলিভিশন শোতে কথা বলার সময় পিসিবির স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে আচরণে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন তিনি। তার দাবি, পাকিস্তান ক্রিকেটে বিদেশি কোচরা তুলনামূলকভাবে বেশি ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব পান।
“এটা সত্য যে, পাকিস্তান ক্রিকেটে স্থানীয় ও বিদেশি কোচদের সঙ্গে ভিন্নভাবে আচরণ করা হয়। বিদেশি কোচদের তুলনায় স্থানীয় কোচদের বেশি নজরদারি ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।
“বিদেশি কোচ নিয়োগে খারাপ কিছু দেখি না। কিন্তু যেটা আমাকে ভাবায়, তা হলো- আমরা (সমর্থক, সমালোচক, সংবাদমাধ্যম ও পিসিবি) বিদেশি কোচদের প্রতি এক ধরনের নরম মনোভাব পোষণ করি। আমরা বিদেশি কোচদের বেশি কর্তৃত্ব ও ক্ষমতা দেই। দল খারাপ করলে তাদের কম দায়ী করি। বিপরীতে স্থানীয় কোচরা সব সময় সবার নজরদারি ও সমালোচনার মুখে থাকেন।”
মিসবাহর মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেট সমর্থক, সমালোচক, সাবেক ক্রিকেটার এবং বোর্ডের উচিত স্থানীয় কোচদের শুধু সমালোচনা না করে আরও বেশি সমর্থন দেওয়া।
আগামী বুধবার বার্মিংহ্যামে শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট। সিরিজের মাঝপথে পাকিস্তান দলে এতবড় পরিবর্তন নিয়ে ক্রিকেট আঙিনায় চলছে প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা। মিসবাহ বলেন, এ ধরনের তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের ক্রিকেটের আরও ক্ষতি করবে। তার মতে, পাকিস্তানের ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, ধৈর্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা।
“চাপের কারণে আমাদের আতঙ্কিত হয়ে লোকদেখানো পরিবর্তন আনা উচিত নয়। পারফরম্যান্স ও পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কীভাবে এগোব, সেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
“দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পাকিস্তান ক্রিকেটে আমরা তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে অভ্যস্ত।”
এ প্রসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেটের উদাহরণও টেনেছেন মিসবাহ।
“আমাদের তরুণরা অতিরিক্ত সাদা বলের ক্রিকেট খেলছে এবং লাল বলের ক্রিকেটে তাদের অভিজ্ঞতা সীমিত। চার দিনের ক্রিকেটও যথেষ্ট খেলা হচ্ছে না। এর ফলে চাপের মধ্যে ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা তাদের বেশি।
“ভারত সময় নিয়েছে, নিজেদের ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে। নব্বইয়ের দশকের পর তারা ধীরে ধীরে তাদের ক্রিকেট কাঠামোয় বিনিয়োগ করেছে। এই ব্যবস্থার কোনো দ্রুত সমাধান নেই।”