Published : 13 Jun 2025, 03:33 PM
মুখোমুখি তৃতীয় বলে ল্যাপ শটে লং লেগের ওপর দিয়ে ছক্কায় শুরু। সেই পথ ধরে ফিন অ্যালেন পরে বল হাওয়ায় ভাসিয়ে সীমানার ওপারে পাঠালেন আরও ১৮ বার। খুনে ব্যাটিংয়ে নিউ জিল্যান্ডের ব্যাটসম্যান উপহার দিলেন বিধ্বংসী ইনিংস। সেটি ঝড় তুলল রেকর্ড বইয়েও।
এবারের মেজর লিগ ক্রিকেটের (এমএলসি) উদ্বোধনী ম্যাচে সান ফ্রান্সিসকো ইউনিকর্ন্সের হয়ে ওয়াশিংটন ফ্রিডমের বিপক্ষে ৫১ বলে ১৫১ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলেন অ্যালেন। ওকল্যান্ডে বাংলাদেশ সময় শুক্রবার সকালের ম্যাচে ১৯ ছক্কা ও ৫ চারে গড়া এই ওপেনারের ইনিংসটি।
স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে সবচেয়ে বেশি ছক্কার রেকর্ড এখন অ্যালেনের। এতদিন রেকর্ডটি যৌথভাবে ছিল ক্রিস গেইল ও সাহিল চৌহানের।
২০১৭ সালে বিপিএলের ফাইনালে মিরপুরে রংপুর রাইডার্সের হয়ে ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৬৯ বলে অপরাজিত ১৪৬ রানের ইনিংসে ১৮ ছক্কা মেরেছিলেন গেইল। ২০২৪ সালে এস্তোনিয়ার হয়ে সাইপ্রাসের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সাহিলের ৪১ বলে অপরাজিত ১৪৪ রানের ইনিংসেও ছক্কা ছিল ১৮টি।
অ্যালেন দেড়শতে পা রাখেন ৪৯ বলে। টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম দেড়শ ছোঁয়ার রেকর্ড এটি। আগের রেকর্ড ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার ডেওয়াল্ড ব্রেভিসের। ২০২২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতায় টাইটান্সের হয়ে নাইটসের বিপক্ষে ১৬২ রানের ইনিংসে ৫২ বলে দেড়শ ছুঁয়েছিলেন ‘বেবি এবি’ নামে পরিচিত এই ব্যাটসম্যান।
২৬ বছর বয়সী অ্যালেনের ১৫১ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকেই এসেছে ১৩৪, এর মধ্যে শুধু ছক্কা থেকে এসেছে ১১৪। টি-টোয়েন্টিতে এক ইনিংসে বাউন্ডারিতে (চার ও ছক্কা) অ্যালেনের চেয়ে বেশি রান করেছেন কেবল তিন জন ব্যাটসম্যান- গেইল, হাজরাতউল্লাহ জাজাই ও গ্রাহাম নেপিয়ার।
২০১৩ আইপিএলে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে পুনে ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১৭৫ রানের ইনিংস খেলার পথে বাউন্ডারি থেকে ১৫৪ রান করেন গেইল। ২০১৯ সালে আফগানিস্তানের হয়ে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জাজাইয়ের অপরাজিত ১৬২ রানের ইনিংসে বাউন্ডারি থেকে আসে ১৪০। ২০০৮ সালে ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি কাপে এসেক্সের হয়ে সাসেক্সের বিপক্ষে অপরাজিত ১৫২ করার পথে বাউন্ডারি থেকে ১৩৬ রান করেন নেপিয়ার।
অ্যালেনের ১৫১ রান এমএলসিতে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস। ২০২৩ সালে প্রথম আসরে এমআই নিউ ইয়র্কের হয়ে নিকোলাস পুরানের অপরাজিত ১৩৭ ছিল আগের সর্বোচ্চ।
১৫৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে অ্যালেনেরও সর্বোচ্চ ইনিংস এটিই। কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে সব মিলিয়ে তার সেঞ্চুরি হলো চারটি।
এ দিন তার ৩৪ বলে সেঞ্চুরি টি-টোয়েন্টি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে দ্বিতীয় দ্রুততম। ২০১৩ আইপিএলে গেইলের ৩০ বলে সেঞ্চুরি আছে এখানে চূড়ায়।
এমএলসিতে দ্রুততম সেঞ্চুরি এখন অ্যালেনের। প্রথম আসরে ১৩৭ রানের ইনিংসে পুরানের ৪০ বলে সেঞ্চুরি ছিল আগের দ্রুততম, তখন অবশ্য এই প্রতিযোগিতায় টি-টোয়েন্টির স্বীকৃতি ছিল না।
বিস্মরকর হলেও সত্যি, বিধ্বংসী ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্রিকেট বিশ্বে পরিচিত হলেও এখনও আইপিএলে খেলার সুযোগ পাননি অ্যালেন! ২০২১ আইপিএলে জশ ফিলিপের বদলি হিসেবে তাকে দলে নিয়েছিল বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু। কিন্তু সেবার কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। পরের মৌসুমে নিলামে নাম দিলেও কেউ তাকে দলে নেয়নি। গত বছর মেগা নিলামে তার ভিত্তিমূল্য ছিল ২ কোটি রুপি। সেখানেও অবিক্রিত রয়ে যান তিনি।
এবারের আইপিএল ফাইনাল শেষের দুই সপ্তাহ না যেতেই, সেই অ্যালেন খুনে ব্যাটিংয়ে তোলপাড় ফেলে দিলেন রেকর্ড বইয়ে।
এ দিন রেকর্ড গড়েছে তার দলও। ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৬৯ রান করে সান ফ্রান্সিসকো। এমএলসিতে প্রথম আড়াইশ রানের দলীয় স্কোর এটি।
তাদের ২৮ ছক্কা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০২৪ সালে ভারতের ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতা সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফিতে সিকিমের বিপক্ষে বারোদার ৩৪৯ রানের ইনিংসে ৩৭ ছক্কা সর্বোচ্চ।
অনেক রেকর্ডের ম্যাচটি ১২৩ রানে জিতে শুভসূচনা করে অ্যালেনের দল। ম্যাচের সেরা তিনি ছাড়া আর কে!