১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

মুস্তাফিজের দুর্দান্ত শেষ ওভারে রংপুরের রুদ্ধশ্বাস জয়

জয়ের খুব কাছে গিয়েও পারল না ঢাকা ক্যাপিটলস, পেল আসরে টানা তৃতীয় হারের তেতো স্বাদ।

মুস্তাফিজের দুর্দান্ত শেষ ওভারে রংপুরের রুদ্ধশ্বাস জয়
শেষ ওভারে স্রেফ ৪ রান দিয়েছেন মুস্তাফিজুর রহমান। ছবি: বিসিবি ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Jan 2026, 11:19 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:30 PM

শেষ ৬ বলে প্রয়োজন ১০ রান। ফিফটি করে তখনও ক্রিজে মোহাম্মদ মিঠুন, অন্য প্রান্তে সাব্বির রহমান। ওই মুহূর্তে জয়ের পাল্লা হেলে ঢাকা ক্যাপিটালসের দিকে। কিন্তু অসাধারণ বোলিংয়ে সব সমীকরণ বদলে দিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিল রংপুর রাইডার্স।

সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে রোববার বিপিএলের রোমাঞ্চকর ম্যাচটি ৫ রানে জিতেছে রংপুর। ১৫৫ রানের পুঁজি গড়ে ঢাকাকে ১৫০ রানে আটকে দিয়েছে তারা।

আসরে এটি রংপুরের টানা দ্বিতীয় জয়। আর জয় দিয়ে আসর শুরু করা ঢাকা পরপর তিন ম্যাচে পেল তেতো স্বাদ। 

নামের পাশে ৫৪ রান নিয়ে শেষ ওভার শুরু করেন মিঠুন। প্রথম বলে সিঙ্গল নেন তিনি। পরের ডেলিভারি স্লোয়ার ইয়র্কার করেন মুস্তাফিজ, কোনোমতে ঠেকিয়ে দেন সাব্বির রহমান। পরের বলটি ছিল কাটার, সাব্বির ব্যাটেই লাগাতে পারেননি।

চতুর্থ ও পঞ্চম ডেলিভারিতে একটি করে সিঙ্গল নিতে পারেন সাব্বির ও মিঠুন। শেষ বলে ছক্কা মারতে পারলেই ম্যাচ টাই, কিন্তু আকাশে তুলে দেন সাব্বির, আসে কেবলে একটি রান।

শেষ পর্যন্ত এক ছক্কা ও ৬ চারে ৩৮ বলে ৫৬ রান করে অপরাজিত থাকেন ঢাকার অধিনায়ক মিঠুন। ক্রিজে থেকেও দলকে জেতাতে না পারার হতাশা স্পষ্ট ফুটে ওঠে তার চোখেমুখে।

চমৎকার বোলিংয়ে ২৩ রান দিয়ে এক উইকেট নেন মুস্তাফিজ। একটি করে শিকার ধরেন কাইল মেয়ার্স, আলিস আল ইসলাম ও খুশদিল শাহও।

ম্যাচের প্রথমভাগে ব্যাট হাতে আলো ছড়ান মাহমুদউল্লাহ। চাপের মুখে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ৭ চারে ৪১ বলে ৫১ রান করে তিনিই জিতে নেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

শুরুটা এদিন ভালো ছিল না টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা রংপুরের। ২ চারে ১১ বলে ১১ রান করে তৃতীয় ওভারে বিদায় নেন কাইল মেয়ার্স। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে তারা খায় জোড়া ধাক্কা। আক্রমণেই এসেই প্রথম দুই বলে লিটন দাস ও তাওহিদ হৃদয়কে ফিরিয়ে দেন জিয়াউর রাহমান।

আফগানিস্তান পেসারের হ্যাটট্রিক ঠেকিয়ে দেওয়া মাহমুদউল্লাহ পরে দাভিদ মালানকে নিয়ে ধরেন ৩০ রানে ৩ উইকেট হারানো দলের হাল। ধৈর্যশীল ব্যাটিংয়ে তারা দুইজন গড়তে থাকেন জুটি।

অনেকটা সময় বাউন্ডারি পাচ্ছিল না রংপুর। ইনিংসের দশম ওভারে এসে ৩১ বল পর মালানের সৌজন্যে চারের দেখা পায় তারা। প্রথম ১৮ বলে ৮ রান করা মাহমুদউল্লাহ পরের ওভারে নিজের প্রথম বাউন্ডারি পান। 

দ্বাদশ ওভারে সাইফ হাসানকে টানা তিনটি চারে বলের চেয়ে রান বাড়িয়ে নেন তিনি। পরের ওভারে তাসকিন আহমেদকে হাঁকান দুই চার।

শুরু থেকে ধুঁকতে থাকা মালান বিশাল এক ছক্কায় ওড়ান ইমাদ ওয়াসিমকে। পরের বলে আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন মালান ৩৩ বলে ৩৩ রান করে। তাতে ভাঙে ৭৪ রানের জুটি।

প্রথম ৮ বলে ২ রান করা খুশদিল শাহ টানা দুই চার মারেন জিয়াউরকে। পরে তাসকিনকে ছক্কায় ওড়ান তিনি। ওই ওভারে ফিফটি স্পর্শ (৪০ বলে) করার পরের বলেই বিদায় নেন মাহমুদউল্লাহ।

ইনিংসের শেষ দুই বলে জিয়াউরকে ছক্কা ও চার মারা খুশদিলের ব্যাটেই দেড়শ পার করে রংপুর। ২ ছক্কা ও ৪টি চারে ২১ বলে ৩৮ রান করে অপরাজিত থাকেন এই পাকিস্তানি।

রান তাড়ায় ঢাকার শুরুটা হয় দারুণ। দ্বিতীয় ওভারে আলিসকে একটি করে চার মারেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ও আবদুল্লাহ আল মামুন। পরের ওভারে আকিফ জাভেদকে দুটি চার হাঁকান মামুন।

বাউন্ডারি মেরে স্পিনার রকিবুল ইসলামকে স্বাগত জানান গুরবাজ। ওভারের শেষ বলেও মারেন আরেকটি চার। ষষ্ঠ ওভারে আলিসকে দুটি চার ও একটি ছক্কা মারেন গুরবাজ। কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লে শেষ করে ঢাকা ৫৩ রান নিয়ে। 

তাদের ৫৪ রানের উদ্বোধনী ভাঙে পরের ওভারেই, মেয়ার্সের বলে গুরবাজের বিদায়ে। আসরে প্রথমবার খেলতে নেমে ২২ বলে ৩১ রান করতে একটি ছক্কা ও পাঁচটি চার মারেন আফগান ব্যাটসম্যান গুরবাজ।

আক্রমণে এসেই ৪টি চারে ২০ রান করা মামুনকে বিদায় করেন খুশদিল। মুখোমুখি দ্বিতীয় বলে চার মেরে রানের খাতা খোলেন মিঠুন। তার ব্যাটেই বাড়তে থাকে ঢাকার রান।

আরেক প্রান্তে সাইফ হাসান ভুগছিলেন ব্যাটে-বলে করতে। ক্রিজে তার অস্বস্তি শেষ হয়ে আলিসের বলে খুশদিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ১৫ রান করতে ২৪ বলে খেলা সাইফ মারতে পারেননি কোনো বাউন্ডারি। ওই ওভারেই একটি ছক্কা হাঁকান মিঠুন।

আকিফকে ছক্কায় ওড়ানো শামীম হোসেন পারেননি টিকতে। ১৮তম ওভারের শেষ বলে মুস্তাফিজের বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন তিনি। ওই ওভারে মাত্র ২ রান দেন মুস্তাফিজ।

জিততে শেষ ১২ বলে ঢাকার দরকার ছিল ২৩ রান। মুখোমুখি প্রথম বলে চার মারা সাব্বির পরে আকিফকে ওভারের শেষ বলে ছক্কায় ওড়ান। তাতে সমীকরণ দাঁড়ায় ৬ বলে ১০ রানের। কিন্তু মুস্তাফিজের অসাধারণ বোলিংয়ে সেটা আর মেলাতে পারেনি ঢাকা।

৪ ম্যাচে ৩ জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে আপাতত দুইয়ে রংপুর। দিনের প্রথম ম্যাচ জেতা চট্টগ্রাম রয়্যালস সমান পয়েন্ট নিয়ে রান রেটে এগিয়ে থেকে এখন শীর্ষে।

ঢাকা ক্যাপিটালসের পয়েন্ট ২, টেবিলে তাদের অবস্থান পঞ্চম।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

রংপুর রাইডার্স: ২০ ওভারে ১৫৫/৫ (মেয়ার্স ১১, লিটন ৬, মালান ৩৩, হৃদয় ০, মাহমুদউল্লাহ ৫১, খুশদিল ৩৮*, সোহান ৭*; ইমাদ ৪-০-২০-১, তাসকিন ৪-০-৩৫-১, সাইফ উদ্দিন ৪-০-২৯-১, জিয়াউর ৪-০-৩৫-২, নাসির ৩-১-১৫-০, সাইফ ১-০-১৪-০)

ঢাকা ক্যাপিটালস: ২০ ওভারে ১৫০/৪ (গুরবাজ ৩১, মামুন ২০, সাইফ ১৫, মিঠুন ৫৬*, শামীম ১১, সাব্বির ১২*; মেয়ার্স ২-০-৭-১, আলিস ৪-০-৩৮-১, আকিফ ৪-০-৩৪-০, রকিবুল ৩-০-২৬-০, মুস্তাফিজ ৪-০-২৩-১, খুশদিল ৩-০-১৯-১)

ফল: রংপুর রাইডার্স ৫ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ