Published : 01 Aug 2026, 02:56 PM
তীব্র সমালোচনার মুখে থাকা অ্যান্ড্রু ফ্লিন্টফের পাশে শক্তভাবে দাঁড়ালেন রব কি। ইংল্যান্ডের ছেলেদের দলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, দেশের ক্রিকেট নায়কদের একজনের প্রতি এমন আচরণ ‘অসম্মানজনক।’ তার মতে, ইংল্যান্ড লায়ন্সের (‘এ’ দল) কোচের দায়িত্বে ফ্লিন্টফ ছিলেন ‘আনসাং হিরো।’ সামনের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে কোচের আগেভাগে বিদায়ের অনুমতি দিয়ে বোর্ডের সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করেছেন কি।
সম্প্রতি সিডনি থান্ডারের প্রধান কোচের দায়িত্ব নিয়েছেন ফ্লিন্টফ। বিগ ব্যাশের দলটির জন্যই লায়ন্সের দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে থেকে আগেভাগে ফিরবেন ২০০৫ অ্যাশেজ জয়ের নায়ক সাবেক এই অলরাউন্ডার।
খেলা ছাড়ার পর একটা সময় অবশ্য ক্রিকেট থেকে দূরেই ছিলেন তিনি। টিভি শো ‘টপ গিয়ার--এর শুটিং করার সময় গাড়ি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর কোচের ভূমিকায় পেশাদার ক্রিকেটে ফেরেন তিনি বছর তিনেক আগে। প্রাথমিকভাবে ইংল্যান্ডের সাদা বলের দলগুলোর পরামর্শকের ভূমিকায় কাজ করেন। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দায়িত্ব নেন লায়ন্সের। এছাড়া হান্ড্রেড টুর্নামেন্টে নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের কোচ হিসেবে দুটি মৌসুম কাটিয়েছেন তিনি।
এমনিতে লায়ন্স দলের দায়িত্বে বছরজুড়ে ব্যস্ততা নেই। তবে সিডনি থান্ডারে কাজের জন্য আগামী ডিসেম্বরে লায়ন্সের দক্ষিণ আফ্রিকায় লায়ন্সের দুটি চার দিনের ম্যাচে তিনি থাকতে পারবেন না। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের (ইসিবি) অনুমতি তিনি পেয়েছেন।
এরপরই ফ্লিন্টফকে নিয়ে শুরু হয় সমালোচনার ঝড়। লায়ন্সের দায়িত্বে তার নিয়োগকে ‘গুরুতর ভুল’ বলে উল্লেখ করে ‘সানডে টাইমস।’
ফ্লিন্টফের এমন সমালোচনা মেনে নিতে পারছে না রব কি। এমনিতে তারা দুজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। ইসিবি চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসনের সঙ্গেও ফ্লিন্টফের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। তবে কি বললেন, ক্রিকেটীয় দিক থেকেই এসব সমালোচনা অবিচার।
“এমন কিছু আমি দেখেছি, আমার চোখে যা অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফের প্রতি অন্যায় বলে মনে হয়েছে। বলা হয়েছে যে, তার লায়ন্সের চাকরিটি করা উচিত হয়নি, কারণ সে এখন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করছেন না। আমার মনে হয়, এটা আমাদের সেরা ক্রিকেটারের একজনের প্রতি চরম অবিচার।
গত তিন বছর ধরে লায়ন্সের দায়িত্ব পালন করেছে সে, অথচ আরও অনেক কিছু করে অনেক বেশি টাকা আয় করতে পারত। কিন্তু তার আসল উদ্দেশ্য হলো পরবর্তী প্রজন্মকে তুলে আনার চেষ্টা করা এবং সনি বেকার, মিচ স্ট্যানলির মতো অনেকেই তার তত্ত্বাবধানে উঠে এসেছে। আমরাই বরং অত্যন্ত ভাগ্যবান তাকে এই দায়িত্বটি দিতে পেরে। তার এই দায়িত্বটি পালন করা উচিত হয়নি—এই কথা বলাটা খুবই অসম্মানজনক। এই দায়িত্বে সে অসাধারণ করছে।”
ফ্লিন্টফ গত বছর বলেছিলেন, ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের প্রধান কোচ হওয়ার লক্ষ্য তার আপাতত নেই। সম্প্রতি ব্রেন্ডন ম্যাককালামের বিদায়ের পর কোচ হওয়ার লড়াইয়েও ছিলেন না ৪৮ বছর বয়সী সাবেক অধিনায়ক। তবে ভবিষ্যতে তিনি দারুণ একজন প্রধান কোচ হয়ে উঠবেন বলেই বিশ্বাস করেন তার বন্ধু কি।
“এমনটা সচরাচর হয় না যে, লায়ন্সের কোচ পরে ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ হয়েছেন। সম্ভবত ২০০৭ সালে পিটার মুরসের ক্ষেত্রে এমনটা হয়েছিল। ওটাই ছিল শেষ। ফ্লিন্টফ সিডনি থান্ডারে গিয়ে প্রধান কোচ হিসেবে আরও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবে, যা আমার মতে তার প্রয়োজন, কারণ সে লায়ন্স প্রোগ্রামের প্রধান কোচ হিসেবে তিন বছর ধরে দায়িত্ব পালন করেছে। তার অন্যত্র গিয়ে কিছু সময় কাটানো দরকার।
টেস্ট কোচের পদটি খুব তাড়াতাড়ি খালি হয়ে গেল, কিন্তু সে ভবিষ্যতে দারুণ এক প্রধান কোচ হয়ে উঠবে। আরও কিছুটা অভিজ্ঞতা অর্জনের পর ভবিষ্যতে সে এই কাজটি করতে পারবে।”
কি বললেন, ফ্লিন্টফকে কোচ ও মেন্টর হিসেবে পেয়ে ইংল্যান্ডের উঠতি তরুণ ও পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটাররা নানাভাবে লাভবান হচ্ছে এবং ইসিবির অনেক কাজও সহজতর হচ্ছে তার জন্য।
“আমার মনে হয় সে আনসাং হিরো। উঠতি তরুণ ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা ভাবলে বোঝা যায়, যখন তাদের টি-টেন, টি-টোয়েন্টি, আইএল টি-টোয়েন্টি, এসএ টোয়েন্টির মতো ম্যাচ থাকে, তখন পরিস্থিতি কতটা কঠিন হয়ে যায়। আমাদের একজন ক্রিকেটারের কাছে গিয়ে বলতে হয়, ‘আমরা চাই তুমি অস্ট্রেলিয়ার একটি লাল বলের সফরে এসে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হও, আমরা চাই তুমি আবুধাবিতে এসে ৫০ ওভারের ক্রিকেট খেলো।’
অ্যান্ড্রু ফ্লিনটফ সেখানে থাকায় এই কাজটি করতে পারার ক্ষেত্রে বিশাল, বিশাল পার্থক্য তৈরি হয়েছে এবং আমি মনে করি, এই কাজটি করার জন্য সে সম্মান ও ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য।’
শুধু ফ্লিন্টফ নয়, নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও কথা বললেন কি। ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিজের দায়িত্ব নিয়েও তার ভেতরে সংশয় তৈরি হয়েছিল।
“এটা এমন একটা দাায়িত্ব, যেখানে সারাক্ষণ চাপের মধ্যে থাকতে হয়। এতে সবসময় অনিশ্চয়তা থাকে। এই পদে থাকার অংশ এটি। আমি (বরখাস্ত হওয়ার) কতটা কাছাকাছি এসেছিলাম, তা জানি না; তবে নিজেই (পদগ্যাগ করার) কতটা কাছাকাছি এসেছিলাম, কী ভাবছিলাম, তা অবশ্যই জানি।
কিন্তু বেশ কয়েক মাস ধরে—এমনকি তার আগেও—ক্রমাগত ভাবনা ছিল আমার, আমি কি এই কাজের জন্য উপযুক্ত ব্যক্তি? কী করার আছে আমার? আমি কি এটি কার্যকর করতে পারব? তবে শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস করি, আমি উপযুক্ত। সিদ্ধান্ত সবসময় আমার ওপরের কর্তারাই নেবেন… তবে যদি আমি তা না করতাম, তাহলে এখানে থাকতাম না।”