Published : 06 Sep 2026, 01:07 AM
ম্যাচটি পাকিস্তানের জন্য মাইলফলকের, টি-টোয়েন্টিতে ২০০তম ম্যাচ। কিন্তু উপলক্ষটা তারা রাঙাবে কী, উল্টো ভয়াবহ ব্যাটিং প্রদর্শনীতে গড়ল অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ড। অনায়াস জয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের বিপক্ষে আধিপত্য ধরে রাখল ভারত।
উইমেন’স এশিয়া কাপে শনিবার ভারতের জয় ৭ উইকেটে।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাকিস্তান গুটিয়ে যায় ৫৫ রানে। এই সংস্করণে তাদের সর্বনিম্ন স্কোর এটি।
এই মাঠেই ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে রান তাড়ায় ৫৬ রান ছিল দলটির আগের সর্বনিম্ন।
ছোট লক্ষ্য ভারত ছুঁয়ে ফেলে ৮.৪ ওভারেই।
এই সংস্করণে পাকিস্তানের বিপক্ষে ভারতের টানা পঞ্চম জয় এটি, সব মিলিয়ে ১৮ ম্যাচের ১৫টিতেই জয় ভারতের, আর পাকিস্তানের জয় তিনটিতে। যার সবশেষটি ২০২২ এশিয়া কাপে। এই প্রতিযোগিতায় টি-টোয়েন্টি সংস্করণে দুই দলের বাকি সাত ম্যাচেই জয় ভারতের।
আগেই সেমি-ফাইনালের টিকেট পাওয়া ভারত জিতল তিন ম্যাচের সবকটিতে। থাইল্যান্ডকে হারিয়ে আসর শুরুর পর দ্বিতীয় ম্যাচে হেরে গেল পাকিস্তান।
পাকিস্তানের জন্য ম্যাচের শুরুটা ছিল ইতিবাচক। কিন্তু পঞ্চম ওভারে ২৭ রানের উদ্বোধনী জুটি থামার পর যে ব্যাটিং ধসের শুরু হয়, সেখানে আর বাধ দিতে পারেনি তারা।
বিনা উইকেটে ২৭ থেকে তাদের স্কোর হয়ে যায় ৬ উইকেটে ৩৫, ২৯ বলের মধ্যে ৮ রানে হারায় ৬ উইকেট!
১০ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে ১৮.১ ওভারে অলআউট হয় পাকিস্তান।
দুই উদ্বোধনী ব্যাটার মুনিবা আলি (১৩) ও শাওয়াল জুলফিকার (১৪) ছাড়া দলটির আর কেউ দুই অঙ্কে যেতে পারেননি।
একটি রান আউট বাদে বাকি ৯ উইকেটই ভাগ করে নেন ভারতের স্পিনাররা। বাঁহাতি স্পিনার শ্রী চারানি ৭ রানে ও লেগ স্পিনার প্রেমা রাওয়াত ৯ রানে নেন ৩টি করে উইকেট।
৫ রানে ২ উইকেট নেন অফ স্পিনার দীপ্তি শার্মা। নারী টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির উইকেট হলো ১৭৬টি। শেফালি ভার্মার প্রাপ্তি একটি।
রান তাড়ায় ইনিংসের প্রথম বলে ছক্কা মেরে শুরু করেন শেফালি। পরের বলে এক রান নিয়ে সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টিতে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন ২২ বছর বয়সী এই ব্যাটার।
পাকিস্তান অধিনায়ক ফাতিমা সানা একই ওভারে শেফালি ও প্রতিকা রাওয়ালকে ফেরানোর পরের ওভারে স্মৃতি মান্ধানাকে বিদায় করে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা তৈরি করলেও, ভারতের জয় নিয়ে একটুও ভাবতে হয়নি।
২৯ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর, দলকে কাঙ্ক্ষিত ঠিকানায় পৌঁছে দেন অধিনায়ক হারমানপ্রিত কৌর (১৮*) ও দীপ্তি (১২*)।
এই ম্যাচ দিয়ে ছেলে ও মেয়েদের ক্রিকেট মিলিয়ে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১৫০ ম্যাচে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কীর্তি গড়েন হারমানপ্রিত। অধিনায়কের মাইলফলকের উপলক্ষ দারুণ জয়ে রাঙাল তার সতীর্থরা।
অন্যদিকে, পুরুষদের ক্রিকেটে ইংল্যান্ড সফরে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর পাকিস্তানের দল ও টিম ম্যানেজমেন্টে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে যখন চলছে তোলপাড়, তার মধ্যেই তাদের নারী দল করল ভীষণ হতাশজনক পারফরম্যান্স।