Published : 02 Dec 2025, 08:20 PM
সিরিজের প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন না শেখ মেহেদি হাসান। সিরিজ শেষে তার হাতেই উঠল সিরিজ-সেরার ট্রফি। সেই মেহেদি, যার মনের ভেতরের ঝড় প্রকাশ্য হয়েছিল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের পর। সেই ঝড় অধিনায়ক লিটন কুমার দাস থামাতে চাইলেন দলের ভেতর তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাপটা দেখিয়ে।
আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি ম্যাচ খেলেই ম্যান অব দা সিরিজ হয়েছেন শেখ মেহেদি। চারটি উইকেট নিয়েছেন তিনি ওভারপ্রতি স্রেফ ৬.১২ রান দিয়ে।
সাম্প্রতিক সময়ে নিয়মিত ভালো বোলিং করেও সব ম্যাচের একাদশে জায়গা পাননি তিনি। সবশেষ সিরিজে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিনি নামতে পেরেছিলেন এক ম্যাচে। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজেও জায়গা পাননি প্রথম ম্যাচের একাদশে।
দ্বিতীয় ম্যাচে ফিরে দারুণ বোলিংয়ে তিন উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। পরে সংবাদ সম্মেলনে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন নিয়মিত দলে সুযোগ না পাওয়া নিয়ে। আঙুল তুলেছিলেন কোচ-অধিনায়কের দিকে। এভাবে বারবার দলে ফিরে আর বাইরে গিয়ে তার জন্য পারফর্ম করা যে কঠিন, সেটিও তিনি তুলে ধরেছিলেন।
সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শেখ মেহেদির সেই অসন্তোষের প্রসঙ্গে লিটন হাসিমুখে তুলে ধরলেন দলের বাস্তবতা।
“দেখুন, অধিনায়ক হিসেবে আমি কেবল ১১ জন নামাতে পারব। এজন্য বললাম যে, আমরা এক বছর ধরে সব ক্রিকেটারকে চেষ্টা করে দেখেছি। আপনি কাউকে খারাপ বলতে পারবেন না। শেখ মেহেদি যেমন ম্যাচ জেতাতে পারে, তেমনি নাসুমের ক্ষেত্রেও সেটা সত্যি, রিশাদও সেটা পারে। কাজেই, যখন আমি দেখব যে দুইটা স্পিনার খেলাতে হবে, ওই সিদ্ধান্তটি কঠিন।”
শেখ মেহেদির সেই মন্তব্য নিয়ে সরাসরি কিছু বলেননি লিটন। বরং তিনি জানালেন, দলের সবারই এসব সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার মানসিকতা আছে।
“আমার ক্রিকেটাররা এসব বোঝে, তারা গ্রহণ করে নেয়। ভালো টিমমেট সবাই। সবাই জানে যে দলের জন্য কোন জিনিসটা দরকার এবং সেটা সবাই গ্রহণ করে নেয়। আমি এখন বলছি, ভবিষ্যতে যদি এরকম মনে হয় একটা পারফর্ম করা ক্রিকেটারকে ড্রপ করতে হবে, কিছু করার নেই সেখানে।”
শেখ মেহেদির বলেছিলেন, একাদশের বাইরে রাখা হলে কারণ ব্যাখ্যাও করা হয় না তার কাছে। লিটন অবশ্য এটা নিয়ে আবারও হাসতে হাসতে বললেন, “অবশ্যই ব্যাখ্যা করা হয়…।”