১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জয়সওয়ালের আচরণ পুজারার চোখে ‘গ্রহণযোগ্য নয়’

মাঠে কথার লড়াই হতেই পারে, তবে শারীরিক আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়, বলছেন ভারতের সাবেক ব্যাটসম্যান চেতেশ্বর পুজারা

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 01:20 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:54 PM

মাঠে কথার লড়াই তো কতই হয়। কিন্তু সেটা শারীরিক সংঘর্ষে গড়ানো মানে সীমা ছাড়িয়ে যাওয়া। এখানেই ইয়াশাসভি জয়সওয়ালের দিকে আঙুল তুলছেন চেতেশ্বর পুজারা। ভারতের তরুণ ব্যাটসম্যানকে নিয়ে সাবেক ব্যাটসম্যান বলছেন, শারীরিক আঘাত কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। একই কারণে জয়সওয়াল কাঠগড়ায় তুলছেন ভারতের সাবেক দুই ক্রিকেটার সাবা কারিম ও উরকেরি রামান।

ভারক-শ্রীলঙ্কার চলতি কলম্বো টেস্টের প্রথম দিনের ঘটনা সেটি। আসিথা ফার্নান্দোকে চার বলের মধ্যে তিনটি বাউন্ডারি মারেন জয়সওয়াল। তবে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে পরের বলেই বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে বোল্ড করেন দেন লঙ্কান পেসার।

আউট হয়ে যখন ফিরে যাচ্ছিলেন জয়সওয়াল, সতীর্থের সঙ্গে উদযাপনের ফাঁকে হয়তো কিছু একটা বলেন আসিথা। ড্রেসিংরুমে ফেরার পথে থাকা জয়সওয়াল ফিরে এসে প্রায় তেড়ে যান আসিথার দিকে। মুখোমুখি হয়ে কথার লড়াই চলে। হেলমেট পড়া অবস্থায়ই ভারতীয় ব্যাটসম্যান এক পর্যায়ে নিজের মাথা ঠুকে দেন লঙ্কান পেসারের মাথায়। লঙ্কান অধিনায়ক ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা পরে আলাদা করেন দুজনকে।

এই ঘটনায় দুজনেই শাস্তি দিয়েছে আইসিসি। ম্যাচ ফির ২৫ শতাংশ করে জরিমানা করা হয়েছে তাদেরকে এবং ডিমেরিট পয়েন্টও দেওয়া হয়েছে।

এই ঘটনায় তুমুল সমালোচনার মুখে থাকায় জয়সওয়াল পরে সামাজিক মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বলেন, “সে কী বলেছে, তা যদি না জেনে থাকেন, দয়া করে তাহলে বিচার করবেন না। কেউ যদি সীমা ছাড়িয়ে যায়, তাহলে তাকে আমাদের বুঝিয়ে দেওয়া উচিত, ভারত লড়াই করবে এবং জবাব দেবে।”

তবে সনি স্পোর্টস নেটওয়ার্কে আলোচনায় ১০৩ টেস্ট খেলা সাবেক ব্যাটসম্যান পুজারা বললেন, জয়সওয়ালই সেখানে সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। 

“এটা কোনো আদর্শ দৃশ্য নয়। একজন খেলোয়াড় হিসেবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে রাগ হয়, মেজাজ চরমে উঠে যায়, এসব বুঝতে পারি। কিন্তু যতক্ষণ সে হতাশ ছিল বা যখন সে কথা বলছিল, ততক্ষণ পর্যন্ত ব্যাপারটা গ্রহণযোগ্য। সবকিছু ঠিক আছে, কিন্তু যখন পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাল যে, তারা দুজনই পরস্পরের মুখোমুখি হয়ে পড়ে, তখন শারীরিক সংস্পর্শ হয়, যা মাঠে গ্রহণযোগ্য নয়।”

একই সুর সাবা কারিমের কণ্ঠেও। সাবেক এই কিপার-ব্যাটার বললেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে এসব ঘটনা ভালো দৃষ্টান্ত নয়। 

“তাদের দুজনকেই মনে করিয়ে দেওয়া উচিত যে, এটা কোনো শারীরিক সংস্পর্শমূলক খেলা নয়। এটা ক্রিকেট। এখানে মাথা দিয়ে গুঁতো দেওয়ার কথা নয়। আমার কাছে এটাকে অত্যন্ত ছেলেমানুষি মনে হয়য়েছে ক্রিকেট মাঠে এমন কিছুর কোনো প্রয়োজন নেই। 

হ্যাঁ, এমন সময় আসে যখন কোনো পেস বোলার বা বোলার ব্যাটসম্যানের ওপর চড়াও হয়। কিন্তু এই ধরনের কাজে না জড়িয়েও সবসময় আক্রমণাত্মক থাকা যায়। এখানে যা হয়েছে, তার প্রয়োজন ছিল না এবং সবসময় মনে রাখা উচিত যে, সব ক্রিকেটারই এই সুন্দর খেলাটির দূত, কত তরুণ-তরুণী তাদের খেলা দেখছে।”

আগের টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৩২ রান করে রান আউট হয়েছিলেন জয়সওয়াল। এবার ফেরেন ৪৫ রানে। সাবেক ব্যাটসম্যান ও কোচ রামানের ধারণা, ইনিংস বড় করতে না পারার হতাশায় নিজেকে হারিয়ে বসেছিলেন জয়সওয়াল। 

“ক্রিকেট মাঠে সবসময়ই কিছুটা কথার লড়াই হয়। এটা ঘটে, বিশেষ করে উইকেট পতনের পর। কিন্তু সংযম খুব জরুরি, কারণ নিজেকে সংযত না রাখলে সমস্যায় পড়তে হয় এবং সবসময়ই একটা সীমা থাকে, যা অতিক্রম করা যায় না। 

প্রথম টেস্টে যখন সে খুব ভালো খেলছিল, তখনই আউট হয়ে গেছে। টেস্ট ম্যাচে সাধারণত এভাবে রান আউট হতে দেখা যায় না। এখানেও সে থিতু হয়ে গিয়েছিল। এরপর এমন একটি বলে আউট হলো, যেটা সে সামনে খেলতে পারত। সে জানে যে সে সুযোগ হাতছাড়া করেছে। তাই তার ভেতরের হতাশাটা বেরিয়ে এসেছে।”