আর্শদিপের দারুণ বোলিংয়ের পর আভিশেকের ৭ ছক্কায় বিধ্বংসী ৮২
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সামনে পাত্তাই পেল না আফগানিস্তান।
পাওয়ার প্লেতে চার ব্যাটসম্যানের বিদায়, সাত ওভারের মধ্যে আরও একজনের। ধুঁকতে থাকা আফগানিস্তান দেড়শ ছাড়ানো সংগ্রহ গড়তে পারল আজমাতউল্লাহ ওমারজাইয়ের ফিফটিতে। তবে বোলিংয়ে লড়াই জমাতেই পারল না তারা। আভিশেক শার্মার বিধ্বংসী ইনিংসে বড় জয় পেল ভারত।
প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের জয়ে তিন ম্যাচের সিরিজে এগিয়ে গেল শ্রেয়াস আইয়ারের দল।
দিল্লিতে রোববার ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ফেলা আফগানিস্তান ২০ ওভারে করতে পারে ১৫৬। ভারত লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৩৮ বল হাতে রেখে।
চমৎকার বোলিংয়ে ভারতের জয়ের ভিত গড়ে দেওয়া আর্শদিপ সিং চার ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। চোট কাটিয়ে ফেরার ম্যাচে ভালো বোলিং করেন জাসপ্রিত বুমরাহও।
সাতটি করে চার ও ছক্কায় ৩২ বলে ৮২ রানের ইনিংস খেলেন আভিশেক। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও জেতেন বাঁহাতি এই ওপেনার।
ভারতের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে ১১ ম্যাচে এ দিন দশমবারের মতো টস জেতেন শ্রেয়াস। তিনি বেছে নেন বোলিং। দলের আগের সিরিজে ‘ম্যান অব দা সিরিজ’ হয়েও একাদশে জায়গা হারান বিস্ময়-বালক বৈভাব সুরিয়াভানশি। তার জায়গায় ফেরানো হয় সাঞ্জু স্যামসনকে।
প্রায় দুই মাস পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফেরার ম্যাচে প্রথম ডেলিভারিতে ওয়াইডসহ ৫ রান দেন বুমরাহ। তবে বৈধ দ্বিতীয় বলে উইকেটের দেখা পান তিনি। ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারিতে বাউন্স সামলাতে না পেরে স্লিপে ক্যাচ দেন রাহমানউল্লাহ গুরবাজ।
এই উইকেট নিয়ে ভারতের তৃতীয় বোলার হিসেবে বিশ ওভারের ক্রিকেটে ৩৫০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন বুমরাহ। আগের দুজন ইউজভেন্দ্রা চেহেল ও ভুবনেশ্বর কুমার।
আরেক ওপেনার ইব্রাহিম জাদরান বিদায় নেন রান আউটে। একটি করে চার ও ছক্কা মারা সেদিকউল্লাহ আটালকে ফিরিয়ে প্রথম শিকার ধরেন আর্শদিপ।
পরের দুই ওভারে দুটি উইকেট স্পিনারদের। গুলবাদিন নাইবকে ফেরান আকসার প্যাটেল। ভারুন চক্রবর্তি বিদায় করেন দারভিশ রাসুলিকে।
তখন সাত ওভারে ৪৩ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে মহাবিপদে আফগানিস্তান।
সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে দলকে কিছুটা উদ্ধার করেন ওমারজাই ও মোহাম্মাদ নাবি। ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে দুজন তোলেন ৮৩ রান।
টি-টোয়েন্টিতে ষষ্ঠ উইকেটে আফগানিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটি এটি। ২০১৯ সালে দেরাদুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে নাবি ও নাজিবউল্লাহ জাদরানের অবিচ্ছিন্ন ৮৬ রানের জুটি সর্বোচ্চ।
১৭তম ওভারে বোলিংয়ে ফিরে ছক্কা হজমের পরের বলে নাবিকে (২৭ বলে ৩৩) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন আর্শদিপ। পরের ওভারে তিনি ফেরান রাশিদ খানকে, যিনি ১০ বল খেলে করতে পারেন কেবল ১ রান। পরের বলেই রান আউটে ফেরেন নুর আহমাদ।
৩৯ বলে ফিফটি করেন ওমারজাই। শেষ ওভারে তিনি দুটি ছক্কা মারেন শিভাম দুবেকে, দুটি চার মারেন মুজিব উর রাহমান। এই ওভারে ২১ রান নিয়ে দেড়শ ছাড়াতে পারে আফগানরা।
চারটি করে চার ও ছক্কায় ৪৪ বলে ৬৪ রানে অপরাজিত রয়ে যান ওমারজাই।
চার ওভারে কেবল ১৬ রান দিয়ে একটি উইকেট নেন রহস্য স্পিনার ভারুন।
ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে এই পুঁজি নিয়ে ভারতকে কোনোরকম চ্যালেঞ্জই জানাতে পারেনি আফগানিস্তান। যদিও স্যামসনকে তৃতীয় ওভারেই ফেরাতে পারে তারা। কিন্তু ঝড় তোলেন আভিশেক।
পাওয়ার প্লেতে ভারত তোলে ১ উইকেটে ৮২ রান, যেখানে আভিশেকের অবদান ১৫ বলে ৪১।
এই সময়ে দুই ওভারে ৩৮ রান দেন বাঁহাতি পেসার ফাজালহাক ফারুকি।
আভিশেক ভারতের হয়ে ১২তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি করেন ২২ বলে। ওই ওভারেই তিনি পরপর চার ও ছক্কা মারেন রাশিদকে। পরের ওভারে টানা দুটি ছক্কা হাঁকান আরেক স্পিনার নুরকে।
একাদশ ওভারে নাবিকে ছক্কার পর আরেকটির চেষ্টায় ক্যাচ দিয়ে থামেন আভিশেক। দ্বিতীয় উইকেটে ইশান কিষানের সঙ্গে ৫৩ বলে ১২১ রানের জুটিতে তার অবদান ৭৬।
নাবিই পরের ওভারে ফেরান কিষানকে। লাল বলের প্রতিযোগিতা দুলিপ ট্রফির ফাইনালে ২৭০ ও ৮০ রানের ইনিংস খেলে আসা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান এখানে করেন ৩৩ বলে ৪২।
পরের ওভারেই জিতে যায় ভারত।
এক মাঠে দ্বিতীয় ম্যাচ হবে মঙ্গলবার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান: ২০ ওভারে ১৫৬/৮ (গুরবাজ ০, ইব্রাহিম ১১, আটাল ১৩, গুলবাদিন ২, রাসুলি ২, ওমারজাই ৬৪*, নাবি ৩৩, রাশিদ ১, নুর ০, মুজিব ৯; বুমরাহ ৪-০-২৬-১, আর্শদিপ ৪-০-১৯-৩, আকসার ৪-০-২৭-১, ভারুন ৪-০-১৬-১, নিতিশ ২-০-৩০-০, আভিশেক ১-০-৮-০, দুবে ১-০-২১-০)
ভারত: ১৩.৪ ওভারে ১৫৭/৩ (স্যামসন ১০, আভিশেক ৮২, কিষান ৪২, শ্রেয়াস ৮*, তিলাক ৩*; ফারুকি ২-০-৩৮-০, মুজিব ২-০-১৬-০, ওমারজাই ১-০-১৪-১, নাবি ৩-০-২৮-২, রাশিদ ৩.৪-০-৩৪-০, নুর ২-০-২৫-০)
ফল: ভারত ৭ উইকেটে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০তে এগিয়ে ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: আভিশেক শার্মা
