১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ওপেন করলেও নিজেকে ‘প্রকৃত ওপেনার’ মনে করেন না হেড

টানা দ্বিতীয়বার অ্যালান বোর্ডার মেডেল জয়ী অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটসম্যানের কাছে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ওপেন করলেও নিজেকে ‘প্রকৃত ওপেনার’ মনে করেন না হেড
টেস্টেও এখন অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত ওপেনার হয়ে উঠছেন ট্রাভিস হেড। ছবি: রয়টার্স

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 Aug 2026, 10:17 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:48 PM

অ্যাশেজ সিরিজে ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে এই পজিশনে ট্রাভিস হেডের জায়গা এখন অনেকটাই পাকা। বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন সিরিজেও ইনিংস শুরু করার কথা তার। তবে নিজেকে প্রচলিত অর্থে ওপেনার মনে করেন না বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান। 

২০২৩ সালের ভারত সফরে ও ২০২৫ সালের শ্রীলঙ্কা সফরে বিশেষ পরিস্থিতিতে কয়েকটি টেস্ট ইনিংসে ওপেন করেন হেড। সাদা বলের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার নিয়মিত ওপেনার তিনিই। তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে খুব বেশি ম্যাচে এই ভূমিকায় ছিলেন না তিনি। গত বছরের নভেম্বরে অ্যাশেজের প্রথম টেস্টে পার্থে উসমান খাওয়াজার চোটে তিনি দ্বিতীয় ইনিংসে ওপেন করতে নামার পরই বদলে যায় সবকিছু।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই ম্যাচে রান তাড়ায় ৮৩ বলে ১২৩ রানের ইনিংস খেলেন হেড, দুই দিনেই ম্যাচ জিতে নেয় অস্ট্রেলিয়া। এরপর তিনি অ্যাডিলেইডে ১৭০ ও সিডনিতে খেলেন ১৬৩ রানের ইনিংস। ৮৭.৩৬ স্ট্রাইক রেটে ৬২৯ রান করে দলের সিরিজ জয়ের মূল কারিগরদের একজন ছিলেন তিনি। মিচেল স্টার্ক সিরিজ সেরা হলেও ওই পারফরম্যান্স হেডের টানা দ্বিতীয়বার অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার ‘অ্যালান বোর্ডার মেডেল’ জয়ে রাখে বড় ভূমিকা।

পার্থ টেস্টের পরই প্রশ্ন উঠেছিল, হেড নিয়মিত ওপেন করবেন কি না। সেই প্রশ্নের উত্তর এখন অনেকটাই পরিষ্কার। 

আগামী প্রায় এক বছরে অস্ট্রেলিয়া টেস্ট খেলবে ২০টি, আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারলে ম্যাচ হবে ২১টি। লাল বলে সামনের ব্যস্ত সূচিতেও হয়তো ওপেনার হিসেবেই দেখা যাবে হেডকে। তবে তিনি নিজেকে সত্যিকারের ওপেনার মানতে নারাজ।

“সঠিক পরিসংখ্যান জানি না, তবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে আমি ১৭০, ১৮০ ম্যাচ খেলেছি। হয়তো ১০টিতে (১২টি) ওপেন করেছি। এতে বোঝা যায় যে, আমি ওপেনিং ব্যাটার নই, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে প্রকৃত ওপেনার বলতে যা বোঝায়। যারা বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে উঠে এসেছেন, রাজ্য ক্রিকেটে ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন এবং টেস্ট ক্রিকেটেও ওপেনিং ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন।

আমি মনে করি, আমি ওপরের দিকে ভূমিকা রাখতে পারি। এখন আমি ওপরেই ব্যাট করছি, কিন্তু সেই অর্থে প্রকৃত ওপেনিং ব্যাটার নই। আমি জানি, নতুন বল খেলতে আমাকে এখনও অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। ভুল হবে, সেটিও স্বাভাবিক। নিজের খেলা নিয়ে আমি খুব স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি।”

ব্যক্তিগত পরিসংখ্যানের চেয়ে দলের জয়ে অবদান রাখতে পারাটাই হেডের কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। অ্যাশেজের পারফরম্যান্স নিয়েও বললেন তিনি।

“আমি সেঞ্চুরি করতে চাই, সবসময় রান করতে চাই, কিন্তু দিন শেষে আমি টেস্ট ম্যাচ জেতাতে অবদান রাখতে চাই। (২০২৫ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে) বারবাডোজ টেস্টের দিকে যদি তাকাই, সেখানে চ্যালেঞ্জিং উইকেটে আমি দুটি ফিফটি করেছিলাম এবং আমরা ম্যাচ জিতেছিলাম। স্কোর শিটে হয়তো সেটি সেঞ্চুরির মতো বা ভালো দেখায় না, কিন্তু আমি মনে করি, টেস্ট জয়ে সত্যিই অবদান রাখতে পেরেছি।

অ্যাশেজে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পেরে আমি খুবই খুশি। আমার মনে হয়, অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটে ক্যারিয়ারজুড়ে সবাই নিজেদের তুলনা করে অ্যাশেজের পারফরম্যান্স দিয়ে… আমি খুবই আনন্দিত যে, আমরা এই বছর অ্যাশেজ জিততে পেরেছি।”

ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে দুটি টেস্ট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। যার প্রথমটি ডারউইনে শুরু হবে আগামী বৃহস্পতিবার।