বাবর ও আফ্রিদির টি-টোয়েন্টিতে ফেরার পথ দেখালেন পাকিস্তান কোচ
বাবর আজমের কিছু বিষয়ে কাজ করার প্রয়োজন আছে, বললেন মাইক হেসন।
পরপর দুই সিরিজের দল থেকে বাদ পড়ায় বাবর আজম ও শাহিন শাহ আফ্রিদির টি-টোয়েন্টি ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উচ্চকিত হচ্ছে। তবে তাদের বাতিলের খাতায় ফেলছেন না মাইক হেসন। অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটারের বিশ ওভারের ক্রিকেটে ফেরার জন্য পথ বাতলে দিয়েছেন পাকিস্তানের নতুন কোচ।
গত বছরের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের পর থেকে পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে নেই বাবর। আর গত মে-জুন মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজের দল থেকে বাদ পড়েন আফ্রিদি। দুজনের কারোরই জায়গা হয়নি সামনের বাংলাদেশ সফরের দলেও।
তবে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতির জন্য চলমান ক্যাম্পে আছেন বাবর ও আফ্রিদি। সেখানে ব্যাটসম্যানদের দ্রুত রান করার সামর্থ্য বাড়ানো নিয়ে কাজ করা হচ্ছে, জানিয়েছেন হেসন।
সংবাদ সম্মেলনে বাবরের ফেরার প্রসঙ্গে স্ট্রাইক রেটের দিকে ইঙ্গিত করেছেন পাকিস্তানের কোচ।
“কোনো সন্দেহ নেই যে, টি-টোয়েন্টিতে স্ট্রাইক রেট খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এটিকে যথেষ্ট রানের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।”
“টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আমাদের র্যাঙ্কিং নিচের দিকে থাকার যথেষ্ট কারণ আছে। ব্যাটিংয়ের দিক থেকে আমাদের স্ট্রাইক রেট যথেষ্ট ভালো নয়। বাকি বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে ও আগের চেয়ে আগ্রাসী ক্রিকেট খেলতে আমরা গত সিরিজের দলে কিছু পরিবর্তন করেছি। কারণ এটিই আধুনিক ক্রিকেটের ধরন।”
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ১২১ ইনিংসে বাবরের স্ট্রাইক রেট ১২৯.৮১। দলের বর্তমান দুই ওপেনার ফাখার জামান (১৩৩.৪৯) ও সাইম আইয়ুবের (১৩৮.৪৮) চেয়ে যা বেশ কম।
তবে হেসনের বিশ্বাস, ক্যাম্পে পরিশ্রম করে ব্যাটিংয়ের এই দিকে উন্নতি করতে পারবেন বাবর।
“বাবরও অনেকের মধ্যে একজন, যার এসব উন্নতির সামর্থ্য আছে। আর আমি এখানে তাদের সঙ্গে কাজ করতে ও সাহায্য করতেই আছি। গত কয়েক মাসে সে কিছু ভালো পরিবর্তন করেছে। এটা শুধু (স্ট্রাইক রেট) ১২৫ থেকে ১৫০-এ উন্নীত করার বিষয় নয়।”
“বিষয়টা হলো সক্ষমতা বাড়ানোর। কারণ আমরা নি:সন্দেহে প্রায়ই ব্যাট হাতে ৩০-৪০ রানের ঘাটতিতে থাকি। তাই আমাদের এই জায়গায় উন্নতির পথ বের করতে হবে।”
পিএসএলের সবশেষ আসরে আফ্রিদির অধিনায়কত্বে চ্যাম্পিয়ন হয় লাহোর কালান্দার। ১২ ইনিংসে ১৯ উইকেট নিয়ে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি হয়ে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দেন আফ্রিদি।
তবু ঘরের মাঠে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ ও পরে বাংলাদেশ সফরের দলেও রাখা হয়নি ২৫ বছর বয়সী পেসারকে। তার ফেরার জন্য নির্দিষ্ট কোনো কিছু বলেননি হেসন। তবে ক্যাম্পে কিছু বিষয়ে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে বললেন তিনি।
“শাহিন শাহ আফ্রিদি বিশ্বমানের ক্রিকেটার। এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, আমরা কিছু জায়গা চিহ্নিত করেছি, যেখানে শাহিনের কাজ করতে হবে।”
“তবে শাহিন ও অন্যরা যে এই ক্যাম্পে আছে, এর ভালো একটা দিক আছে। তারা সবাই সাদা বলের ক্রিকেটে পাকিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ। যেখানে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটও আছে।”
