বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক বিসিবি পরিচালকসহ তিনজন বহিষ্কার
অন্তর্বতী সরকারের সময় গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে জিতে পরিচালক হওয়া মুখলেসুর রহমান শামীমের বিরুদ্ধে দুর্নীতি বিরোধী আইনের চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিপিএলে দুর্নীতি বিরোধী বিভিন্ন ধারা ভঙ্গের দায়ে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনজনের বিরুদ্ধে। তাদের একজন মুখলেসুর রহমান শামীম বিসিবির সাবেক পরিচালক ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক প্রধান। এছাড়াও অভিযোগ আনা হয়েছে বোর্ডের সাবেক নিরাপত্তা সংযোগ কর্মকর্তা জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর ও বোর্ডের অডিট কমিটির সাবেক সদস্য সচিব রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধে।
অভিযুক্তদের সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং দুর্নীতি বিরোধী ধারার আওতায় শাস্তিমূলক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নোটিশ প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে অভিযোগের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
বিসিবি মঙ্গলবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, অংশগ্রহণকারীদের জন্য আইসিসি দুর্নীতি দমন কোড, ২০২৪-এর বিভিন্ন ধারা লঙ্ঘনের দায়ে অভিযোগগুলো দায়ের করা করেছে। বিপিএলের দ্বাদশ আসরে দুর্নীতিমূলক আচরণ, দুর্নীতিমূলক আচরণ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশে ব্যর্থতা, দুর্নীতি দমন তদন্তে সহযোগিতা করতে ব্যর্থতা এবং তদন্তে বাধা বা বিলম্বের অভিযোগে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ইন্টিগ্রিটি ইউনিট পরিচালিত তদন্তের ভিত্তিতে এই অভিযোগগুলো আনা হয়েছে।
বিপিএলের এই আসরটি হয়েছিল গত ডিসেম্বর-জানুয়ারিতে।
অন্তর্বতী সরকারের সময় গত অক্টোবরে বিসিবি নির্বাচনে জিতে পরিচালক হয়েছিলেন মুখলেসুর। বিপিএলে দুর্নীতির অভিযোগে তাকে ঘিরে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার গত জানুয়ারিতে তিনি শুরুতে অডিট কমিটি থেকে সরে দাঁড়ার, পরে বিসিবি পরিচালকের দায়িত্ব থেকেও পদত্যাগ করেন।
দুর্নীতি বিরোধী আইনের চারটি ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এর মধ্যে একটি ধারা হলো ম্যাচ বা ম্যাচসমূহের ফলাফল, অগ্রগতি, পরিচালনা বা অন্য কোনো দিককে প্রভাবিত করা, প্রভাবিত করার ষড়যন্ত্র করা বা অন্য কোনো উপায়ে অন্যায়ভাবে প্রভাবিত করা, অথবা প্রভাবিত করার কোনো চুক্তি বা প্রচেষ্টার অংশীদার হওয়া (বা এমনটি করার চেষ্টা করা)।
আরেকটি ধারা হলো, কোনো অংশগ্রহণকারীকে দুর্নীতিমূলক আচরণে জড়িত হওয়ার জন্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্ররোচিত করা, উৎসাহিত করা বা ইচ্ছাকৃতভাবে সহায়তা করা। তৃতীয় ধারাটি দুর্নীতিমূলক আচরণে জড়িত হওয়ার জন্য প্রাপ্ত কোনো প্রস্তাব বা আমন্ত্রণের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ছাড়াই মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার কাছে প্রকাশ করতে ব্যর্থ হওয়া।
সাবেক পরিচালকের বিরুদ্ধে চতুর্থ যে ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে, তা হলো এমন কোনো যোগাযোগ বা অন্যান্য তথ্য গোপন, মুছে ফেলা বা ধ্বংস করার মাধ্যমে সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের তদন্তে বাধা সৃষ্টি করা, যা তদন্তের জন্য প্রাসঙ্গিক হতে পারত অথবা দুর্নীতিমূলক আচরণের প্রমাণ গঠন করতে পারত বা প্রমাণের দিকে পরিচালিত করতে পারত।
বিসিবির সাবেক নিরাপত্তা সংযোগ কর্মকর্তা (এসএলও) জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনটি। এর দুটি মুখলুসের বিরুদ্ধে আনা প্রথম দুই অভিযোগই। আরেকটি ধারা হলো সম্ভাব্য দুর্নীতিমূলক আচরণের বিষয়ে মনোনীত দুর্নীতি দমন কর্মকর্তার পরিচালিত তদন্তে জোরাল কারণ ছাড়া সহযোগিতা করতে ব্যর্থ হওয়া বা অস্বীকার করা, যার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ধারা ৪.৩-এর আওতায় জারি করা দাবি নোটিশ মেনে চলতে ব্যর্থতাও।
এই একই ধারা ভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে রাকিবুল ইসলাম সানির বিরুদ্ধেও। পাশাপাশি মুখলেসুরের বিরুদ্ধে আনা তৃতীয় অভিযোগটি আছে তার বিরুদ্ধেও। সাবেক এই বিসিবি কাউন্সিলর এখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন জাতীয় যুবশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিসিবি এই পর্যায়ে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে আর কোনো মন্তব্য করবে না।
