যে সিদ্ধান্ত ঘুম কেড়ে নিয়েছিল গাম্ভিরের
ভারতের কোচ হিসেবে সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তের কথা তুলে ধরতে গিয়ে এমনটা বলেন গৌতাম গাম্ভির।
বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া যে কোনো কোচের জন্যই খুব কঠিন। এমনই এক পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন গৌতাম গাম্ভির। বৈশ্বিক আসরের পর, সাঞ্জু স্যামসনকে বাদ দিয়ে বৈভাব সুরিয়াভানশিকে নিতে অনেক ভাবতে হয়েছিল তার। এমনকি নির্ঘুম রাতও কেটেছিল, জানালেন ভারতের প্রধান কোচ।
গত মার্চে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের শিরোপা জয়ে বড় অবদান রাখেন স্যামসন। পাঁচ ম্যাচে ৮০.২৫ গড় ও ১৯৯.৩৭ স্ট্রাইক রেটে ৩২১ রান করেন এই কিপার-ব্যাটসম্যান। নিজের শেষ তিন ম্যাচেই খেলেন আশি ঊর্ধ্ব ইনিংস। এই পারফরম্যান্সে টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতে নেন তিনি।
পরে জুনে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি টি-টোয়েন্টিতে ও পরের মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ব্যর্থ হন স্যামসন। এরপর বিশ্রামের নামে তাকে বাদ দেওয়া হয়। ইংলিশদের বিপক্ষে পরের তিনটি টি-টোয়েন্টিতে তার বদলে খেলেন সুরিয়াভানশি। তিনিও অবশ্য ভালো করতে পারেননি।
এরপর জিম্বাবুয়ে সফরেও বিশ্রাম দেওয়া হয় স্যামসনকে। সেখানে আভিশেক শার্মার সঙ্গে ওপেন করে দুটি ফিফটি করেন সুরিয়াভানশি। শেষ ম্যাচে ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হওয়ার পাশাপাশি ‘ম্যান অব দা সিরিজ’ও হন তিনি।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে আবার একাদশে ফিরে ভালো করেন স্যামসন। ছন্দে থাকলেও ওই সিরিজে কোনো ম্যাচ খেলানো হয়নি সুরিয়াভানশিকে। যা নিয়ে ভারতীয় ক্রিকেটে হয় প্রচুর আলোচনা-সমালোচনা। পরে সিরিজ শেষে সংবাদ সম্মেলনে গাম্ভির বলেন, খেলার সুযোগ পেতে অপেক্ষা করতে হবে ১৫ বছর বয়সি সুরিয়াভানশিকে।
এবার জিওস্টারে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গাম্ভির বললেন, বিশ্বকাপের পর স্যামসনকে বাদ দেওয়া ভারতীয় কোচ হিসেবে তার নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল।
“সম্ভবত সেটা (সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত) ছিল। সত্যি বলতে, আমার এই দুই বছরের কোচিং যাত্রায় ওই এক রাতেই আমি ঘুমাতে পারিনি। সাঞ্জুকেও কথাটা বলেছিলাম। কারণ, আমি জানতাম টি-টোয়েন্টি সংস্করণে কোচ হিসেবে আমার এটাই সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্ত।
“যে খেলোয়াড় টুর্নামেন্টের (বিশ্বকাপ) সেরা হয়েছিল, তাকেই কিনা তিন-চারটি ম্যাচের পর বাদ দিতে হবে- বিষয়টা এমনই ছিল। কারণ, বৈভাবও তখন দুর্দান্ত ফর্মে ছিল। আর আমাদের সিরিজ জিততে হতো।”
ওই সময় স্যামসনের সঙ্গে কী কথা হয়েছিল, সেটাও বলেন গাম্ভির।
“তার (স্যামসন) সঙ্গে খুবই খোলামেলা কথা বলেছিলাম। বৈভাব তখন দারুণ ফর্মে ছিল। টপ অর্ডারে আমাদের এমন কাউকে দরকার ছিল, যে রান করতে পারবে। ইনিংসের শুরুতে আমাদের একটা ভালো ভিতও গড়ে তোলা দরকার ছিল। সে বিষয়টি মেনে নিয়েছিল।”
এখন এশিয়ান গেমস খেলতে জাপানে আছে ভারতের টি-টোয়েন্টি দল। স্যামসন ও সুরিয়াভানশি, দুজনই দলে আছেন। যদিও একই সময় ভারতের ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ থাকায় জাপানে যাননি গাম্ভির। এশিয়ান গেমসে ভারতের কোচ হিসেবে গেছেন ভিভিএস লক্ষ্মণ।
