পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকা
Published : 20 Oct 2025, 06:36 PM
একটি কিংবা দুটি নয়, পরিষ্কার চারটি ক্যাচ নিতে পারল না দক্ষিণ আফ্রিকা। আরও কয়েকটি সুযোগ কাজে লাগাতে পারল না তারা। দুর্ভাগ্যও বাধা হয়ে দাঁড়াল। প্রতিপক্ষের এমন হতাশায় ভরা দিনে জীবন পেয়ে পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেললেন আবদুল্লাহ শাফিক ও শান মাসুদ। সঙ্গে সাউদ শাকিলের দৃঢ়তায় ভালো অবস্থায় থেকে দিন শেষ করল পাকিস্তান।
রাওয়ালপিন্ডি টেস্টের প্রথম দিন শেষে পাকিস্তানের রান ৫ উইকেটে ২৫৯। তিনটি চারে ৪২ রানে অপরাজিত আছেন শাকিল। ক্রিজে তার সঙ্গী সালমান আলি আগা।
একাধিকবার বেঁচে গিয়েও ইনিংস খুব বড় করতে পারেননি শাফিক। ৪টি চারে ৫৭ রান করেন তিনি ১৪৬ বল খেলে। দুই দফায় জীবন পাওয়া মাসুদ সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে ফেরেন ৮৭ রানে। পাকিস্তান অধিনায়কের ১৭৬ বলের ইনিংসে ৩ ছক্কার সঙ্গে চার দুটি।
এদিন ৩৮ বছর ২৯৯ দিন বয়সে টেস্ট অভিষেক হয় আসিফ আফ্রিদির। পাকিস্তানের দ্বিতীয় বয়স্ক ক্রিকেটার হিসেবে এই সংস্করণে অভিষেকের কীর্তি গড়েন তিনি। রেকর্ডটি অফ স্পিনার মিরান বাখশের, সেই ১৯৫৫ সালের জানুয়ারিতে ভারতের বিপক্ষে লাহোরে অভিষেক টেস্টে মাঠে নামার সময় তার বয়স ছিল ৪৭ বছর ২৮৪ দিন।
পিচ রিপোর্টে পাকিস্তানের সাবেক অফ স্পিনার বাজিদ খান বলেন, ‘দিনের শুরু থেকেই সহায়তা পাবে স্পিনাররা। চতুর্থ ইনিংসে ১৫০ রান তাড়া করা হবে খুবই কঠিন।’ তার সঙ্গে রামিজ রাজা যোগ করেন, ‘চতুর্থ ইনিংস আমরা তৃতীয় দিনেই দেখতে পারি।’
ম্যাচের দশম ওভারেই বাঁহাতি স্পিনার কেশাভ মহারাজের আক্রমণে আসা দেয় তারই প্রমাণ। দিন গড়ানোর সঙ্গে পিচে স্পিনারদের জন্য সহায়তা বাড়তে থাকে। পাকিস্তানের পাঁচ উইকেটের চারটিই নেন দক্ষিণ আফ্রিকার স্পিনাররা।
দুই প্রোটিয়া পেসার অবশ্য খারাপ করেননি। ম্যাচের চতুর্থ বলেই সুযোগ তৈরি করেন কাগিসো রাবাদা। কিন্তু শূন্য রানে থাকা শাফিকের ক্যাচ স্লিপে নিতে পারেননি ট্রিস্টান স্টাবস। পরে দুই দফায় রাবাদার বল ইমাম-উল-হাকের ব্যাটের কানায় লাগে, কিন্তু দুইবারই বল পড়ে স্লিপ ফিল্ডারের সামনে।
ষষ্ঠ ওভারে মার্কো ইয়ানসেনের ডেলিভারি শাফিকের ব্যাটের কানায় লেগে স্টাম্প ছুঁয়ে যায়। কিন্তু বেলস না পড়ায় বেঁচে যান ৯ রানে থাকা পাকিস্তান ওপেনার।
নিজের প্রথম ওভারেই শাফিককে ফেরাতে পারতেন মহারাজ। কিন্তু ফিরতি কঠিন ক্যাচটি নিতে পারেননি তিনি। তখন ১৬ রানে খেলছিলেন শাফিক। মহারাজের পরের ওভারে স্লিপে শাফিকের ক্যাচ মুঠোয় জমাতে ব্যর্থ এইডেন মার্করাম।
শেষ পর্যন্ত ৩৫ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে ত্রয়োদশ ওভারে। আক্রমণে এসে তৃতীয় বলেই ইমামের স্টাম্প ভেঙে দেন অফ স্পিনার সাইমন হার্মার। ওই ওভারের শেষ বলে শূন্য রানে ফিরতে পারতেন মাসুদ। তার ব্যাট-প্যাডে লেগে যাওয়া বল শর্ট লেগে মুঠোয় জমাতে পারেননি টনি ডি জর্জি।
এরপর পাল্টা আক্রমণে হার্মারকে দুই ওভারে দুটি ছক্কা মারেন মাসুদ। লং-অন দিয়ে তিনি ওড়ান আরেক স্পিনার সেনুরান মুথুসামিকে। ১ উইকেটে ৯৫ রান নিয়ে প্রথম সেশন শেষ করে পাকিস্তান।
দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে ৮৩ বলে ফিফটি স্পর্শ করেন মাসুদ। মহারাজের বলে ৪১ রানে আরেক দফায় জীবন পাওয়া শাফিকের পঞ্চাশ আসে ১২০ বলে।
এরপর আর বেশিদূর যেতে পারেননি তিনি। হার্মারের বলে কট বিহাইন্ডের রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। ভাঙে ২৩০ বল স্থায়ী ১১১ রানের জুটি।
৭১ রানে আরেকবার জীবন পান মাসুদ। মহারাজের লাফিয়ে ওঠা ডেলিভারি সুইপ করতে গিয়ে উপরে তুলে দেন তিনি; কিন্তু ফাইন লেগে ক্যাচ নিতে পারেননি মুথুসামি। এক ওভার পর বাবর আজমকে ফিরিয়ে সেই হতাশায় প্রলেপ দেন মহারাজ। ছন্দের খোঁজে থাকা বাবর ৩ চারে করেন ১৬ রান।
সেঞ্চুরি যখন নাগালে, তখনই যেন মনোযোগ হারিয়ে ফেলেন মাসুদ। মহারাজকে সুইপ করে স্কয়ার লেগে ধরা পড়েন তিনি।
দিনের শেষ দিকে রাবাদার বলে এলবিডব্লিউ হন মোহাম্মদ রিজওয়ান (২ চারে ১৯)। বাকি সময় দলকে আর উইকেট হারাতে দেননি শাকিল ও সালমান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৯১ ওভারে ২৫৯/৫ (শাফিক ৫৭, ইমাম ১৭, মাসুদ ৮৭, বাবর ১৬, শাকিল ৪২, রিজওয়ান ১৯, সালমান ১০; রাবাদা ১৩-১-৪১-১, ইয়ানসেন ১৬-৬-৪২-০, মহারাজ ৩১-৩-৬৩-২, হার্মার ২৩-১-৭৫-২, মুথুসামি ৪-০-১৭-০, মার্করাম ৪-০-১২-০)