Published : 08 Sep 2026, 11:42 AM
নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের (এনজেডসি) কেন্দ্রীয় চুক্তিতে পূর্ণকালীন একজন হিসেবেই ঠাঁই পেয়েছিলেন মার্ক চ্যাপম্যান। তবে এই নির্ভরতার চেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের রোমাঞ্চ ও আর্থিক হাতছানি বেশি আকর্ষণীয় মনে হচ্ছে তার কাছে। ঘরোয়া ক্রিকেটের নতুন মৌসুম শুরুর আগে তাই চুক্তির ধরন বদলে ফেললেন এই ব্যাটসম্যান। এনজেডসির পূর্ণকালীন চুক্তি থেকে নাম লেখালেন তিনি ‘ক্যাজুয়াল’ চুক্তিতে।
মূলত বিগ ব্যাশে তাকিয়েই চুক্তির ধরন পাল্টালেন চ্যাপম্যান। ক্যাজুয়াল চুক্তিতে থাকলে নিউ জিল্যান্ডে ঘরোয়া ক্রিকেট না খেলে ওই সময়টায় বিগ ব্যাশ বা দেশের বাইরে অন্য কোথাও খেলার সুযোগ মেলে। জাতীয় দলের সিরিজেও এনজেডসির সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বেছে খেলার সুযোগ থাকে।
ফিন অ্যালেন, অ্যাডাম মিল্ন, লকি ফার্গুসন, টিম সাইফার্টের মতো নিউ জিল্যান্ডের সীমিত ওভারের দলের গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটাররা এই চুক্তিতেই রেখেছেন নিজেদেরকে। অবসর নেওয়ার আগে কেন উইলিয়ামসনও ছিলেন এই চুক্তিতে। তাদের সঙ্গী হলেন এবার চ্যাপম্যান। আগামী নভেম্বরে ভারতের বিপক্ষে সাদা বলের সিরিজে দেশের হয়ে খেলার পর তিনি অস্ট্রেলিয়াতে পাড়ি জমাবেন বিগ ব্যাশ খেলতে।
দেশের বাইরের লিগে খেলা বা চুক্তির ধরন নিয়ে এনজেডসি সবসময়ই ক্রিকেটারদের চাওয়াকে প্রাধান্য দেয় এবং তাদেরকে স্বাধীনতা দেয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বোর্ডকে ধন্যবাদ জানিয়ে ভারতের বিপক্ষে সিরিজে নিজেকে উজাড় করে দেওয়ার কথা শোনালেন চ্যাপম্যান।
“ক্যারিয়ারজুড়ে এবং বর্তমান সময়েও আমার পাশে থাকার জন্য আমি নিউ জিল্যান্ড ক্রিকেটের প্রতি কৃতজ্ঞ। ভারতের বিপক্ষে সামনের সিরিজটির জন্য আমরা সব ক্রিকেটারই দারুণ রোমাঞ্চিত এবং সেই সিরিজে ভালো খেলার জন্য মনপ্রাণ দিয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
এবারের বিগ ব্যাশের সময় অস্ট্রেলিয়া ও নিউ জিল্যান্ডের টেস্ট সফরও আছে। তবে চ্যাপম্যান এখনও টেস্ট খেলেননি। গত প্রায় দুই বছরে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটও খেলেননি। টেস্ট দলে থাকার কোনো সম্ভাবনাও তার নেই। কাজেই সেখানে কোনো বাধা বা বোর্ডের সঙ্গে আলাদা আলোচনার প্রয়োজন নেই।
চ্যাপম্যানের আন্তর্জাতিক অভিষেক ২০১৪ সালে হংকংয়ের হয়ে। জন্মভূমির হয়ে দুটি ওয়ানডে ও ১৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেন তিনি, অভিষেক ওয়ানডেতে সেঞ্চুরিও করেন। তবে পরে বেছে নেন বাবার দেশ নিউ জিল্যান্ডকে। কিউইদের হয়ে তার অভিষেক ২০১৮ সালে। ৩৭ ওয়ানডে ও ১১৩ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন তিনি। গত কিছুদিনে সীমিত ওভারের নিউ জিল্যান্ড দলে বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছেন ৩২ বছর বয়সী এই আগ্রাসী ব্যাটসম্যান।
পূর্ণকালীন চুক্তি থেকে চ্যাপম্যান সরে যাওয়ায় সেখানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ম্যাট ফিশার। ২৬ বছর বয়সী পেসার এখনও পর্যন্ত খেলেছেন একটি করে টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি এবং তিনটি ওয়ানডে।