Published : 22 Jul 2026, 05:07 PM
ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের তুমুল ব্যস্ততার কারণে সূচিতে নেই কোনো অনুশীলন ম্যাচ। বাড়তি বাউন্সের উইকেটে মানিয়ে নিতেও তাই লেগেছে বেশি সময়। জিম্বাবুয়ে সফরে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় মোটা দাগে মোহাম্মদ আশরাফুলের ব্যাখ্যা এমনই। আগামী মাসের জিম্বাবুয়ে সফর ও আগামী বছরের বিশ্বকাপে ভালো করতে এই সফরের অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে বলেও মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ।
দেশের মাঠে টানা সাফল্যে উড়তে থাকা বাংলাদেশ মুখ থুবড়ে পড়েছে এবারের জিম্বাবুয়ে সফরে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর ওয়ানডে সিরিজও হেরেছে তারা। টি-টোয়েন্টি সিরিজেও প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের তেতো স্বাদ পেতে হয়। পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজের শেষটা স্বস্তিতে করতে পারে তারা। তবে সফরের ব্যর্থতা তাতে আড়াল হয়ে পড়ছে না।
বিশেষ করে, সফরজুড়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের পারফরম্যান্সই ভুগিয়েছে দলকে। টেস্ট হোক বা সীমিত ওভারের ক্রিকেট, বাড়তি বাউন্স সামলাতে পারেননি ব্যাটসম্যানরা। লাল বল হোক বা সাদা বল, শর্ট বলে উইকেটের পতন হয়েছে অনেক। ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভার মতো দীর্ঘদেহী পেসাররা শর্ট বল কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে।
জিম্বাবুয়ে থেকে দেশে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ব্যাটিং কোচ বললেন, উইকেটের বাড়তি বাউন্সই ভুগিয়েছে দলকে।
‘বাড়তি বাউন্স…ওই বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে। টেস্ট ম্যাচে আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে আমাদের তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা ওই অ্যাডজাস্টমেন্ট করতে পেরেছি।
আমি মনে করি, সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে আমরা হয়তো ওভাবে প্রস্তুতি নিতে পারব। এই সফরটা আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে। এখানে যে বাড়তি বাউন্স এবং গত সাত মাস ধরে আমরা আমাদের ঘরের কন্ডিশনে ভালো করছিলাম, কিন্তু ভিন্ন একটা কন্ডিশনে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে।”
জিম্বাবুয়েতে গিয়ে ব্যাটসম্যানদের এমন ভোগান্তি নতুন কিছু নয়। সবশেষ ২০২২ সালের সফরেও ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি হেরেছে বাংলাদেশ। বারবার ব্যর্থ হওয়ার কারণ হিসেবে আশরাফুল তুলে ধরলেন কয়েকজন ক্রিকেটারের কোট ও অনুশীলন ম্যাচ না পাওয়ার দিকটি।
“ওয়ানডে সিরজটা আমরা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছিলা, যেহেতু পয়েন্টের (র্যাঙ্কিং) একটা ব্যাপার ছিল। সেই জায়গায় মোস্তাফিজসহ সবাই ছিল। কিন্তু তারা ইনজুরির কারণে খেলতে পারেনি, দ্বিতীয় ম্যাচ থেকে মোস্তাফিজ খেলতে পারেনি।
আবহাওয়া, কন্ডিশন…জিম্বাবুয়েতে যখনই আমরা যাই, এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর আগে প্র্যাকটিস ম্যাচ হয় না। একটা তিন দিনের ম্যাচ বা ওয়ানডে ম্যাচ হলে অ্যাডজাস্টমেন্ট করাটা সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন নেই, (সফরে) গিয়েই খেলতে হয়। কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার বাড়তি সময়, যদিও আমাদের টেস্ট দল এবং ওয়ানডে দলের ক্রিকেটাররা আগে গিয়েছিলেন, কিন্তু অনুশীলন ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞা ছিল না। ওটা হলে মূল ম্যাচগুলোর ফল আমাদের পক্ষেই থাকত।”
ব্যাটসম্যানদের হতশ্রী চেহারার দায়টা তো ব্যাটিং কোচের ওপরও পড়ে! কোচ হিসেবে খুব বেশি অভিজ্ঞতা না থাকার পরও তাকে জাতীয় দলের ব্যাটিং কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার সময় প্রশ্ন উঠেছিল অনেক। দেশের মাঠে ব্যাটসম্যানরা ভালো করলেও এবার জিম্বাবুয়েতে ব্যর্থতায় জন্ম নিচ্ছে অনেক প্রশ্ন। সমালোচনার শিকার হচ্ছেন আশরাফুল।
দেশের সাবেক এই অধিনায়ক অবশ্য বাইরের আলোচনায় পাত্তা দিচ্ছেন না। তার আশা, আগামী মাসে অস্ট্রেলিয়ায় দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ভালো করবেন ব্যাটসম্যানরা।
“এগুলোতে (সমালোচনায়) আমার প্রতিক্রিয়ার কিছুই নেই। গত সাত মাস ধরে আমাদের ব্যাটাররা খুবই ভালো করছেন। একটা সিরিজ খারাপ হতেই পারে। একটা টেস্ট ম্যাচ খারাপ হয়েছে, এর আগের চারটা টেস্ট ম্যাচেই অসাধারণ খেলেছেন আমাদের ব্যাটসম্যানরা। আমি চেষ্টা করছি আমার জায়গায় সেরাটা দেওয়ার জন্য।
অস্ট্রেলিয়াতে দুটি ঐতিহাসিক টেস্ট আছে অনেক বছর পরে। সেখানে কঠিন হবে। তবে ইতিবাচক দিক হলো, আমরা ১০-১২ দিন আগে যাচ্ছি, একটা তিন দিনের ম্যাচ (প্রস্তুতি) খেলার সুযোগ আছে। আশা করব, সবাই সুস্থ থাকলে দুটিতে আমরা ভালো করার চেষ্টা করব”।