১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘টেস্ট ক্রিকেট সবার জন্য নয়’, গিলদের সমালোচনায় কাইফ

ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যানের মতে, কলম্বো টেস্টে ভিরাট কোহলির মতো একজনের প্রয়োজন ছিল তাদের।

‘টেস্ট ক্রিকেট সবার জন্য নয়’, গিলদের সমালোচনায় কাইফ
প্রতিপক্ষকে ফলো-অন করিয়েও জিততে পারেনি ভারত। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 28 Aug 2026, 06:38 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

কলম্বো টেস্টে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভারতের ড্র মানতে পারছেন না মোহাম্মদ কাইফ। ফলো-অন করানোর পরও জিততে না পারার পেছনে উত্তরসূরিদেরই দায় দেখছেন ভারতের সাবেক এই ব্যাটসম্যান। বিশেষ করে, গিলদের মানসিকতার দিকে আঙুল তুলেছেন তিনি।

গল টেস্টে জিতে সিরিজে এগিয়ে থেকে, কলম্বোতে খেলতে নেমে শুরুটা দারুণ করে ভারত। ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। এরপর শ্রীলঙ্কাকে ২৯০ রানে গুটিয়ে দিয়ে আবারও ব্যাটিংয়ে পাঠায় সফরকারীরা।

চতুর্থ দিন পর্যন্তও ম্যাচের লাগাম ছিল ভারতের হাতে। পঞ্চম দিনে তাদের প্রয়োজন ছিল লঙ্কানদের শেষ চার উইকেট দ্রুত তুলে নেওয়া। কিন্তু সেটা করতে পারেনি তারা। লোয়ার অর্ডার ব্যাটসম্যানদের নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে অবিশ্বাস্য এক ড্র এনে দেন সোনাল দিনুশা। দুই ইনিংসেই সেঞ্চুরি করেন তিনি।

শেষ দিনের তৃতীয় সেশনে ৯ উইকেটে ৪২৯ রানে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে শ্রীলঙ্কা। এর পরই দুই দল ড্র মেনে নেয়।

ম্যাচের শেষ দিনে ভারতের ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষা একদমই পছন্দ হয়নি কাইফের। মনে হয়েছে, সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করার বদলে হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন গিল-জাদেজারা। দলের ক্রিকেটারদের মধ্যে আগ্রাসী মানসিকতার অভাবও চোখে পড়েছে তার।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিরাট কোহলির উদাহরণ টেনে কাইফ বলেন, ভারত দলে এমন একজনের প্রয়োজন ছিল এই ম্যাচে, যে কিনা সবসময় দলকে উজ্জীবিত রাখবে এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাবে।

“টেস্ট ক্রিকেট সবার জন্য নয়। এটা দীর্ঘ সময়ের একটা খেলা, আর আপনাকে টানা বোলিং করে যেতে হবে। আমার মনে হয়েছে, ভিরাট কোহলির মতো কেউ যদি এই ম্যাচে খেলত, তাহলে সে সারাক্ষণ চিৎকার করে দলকে সক্রিয় রাখত। মাঝেমধ্যে এমন মনে হয়েছে, আমরা বিষয়গুলোকে হালকাভাবে নিয়েছি। হয়তো ভেবেছি, ‘বোলিং করে যেতে থাকি, হয়ে যাবে। বল অনেক বেশি ঘুরছে, এমনিতেই হয়ে যাবে’।”

ভারত দলের বর্তমান ক্রিকেটারদের প্রাণশক্তি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কাইফ।

“আমরা নিজেরা খুব বেশি সুযোগ তৈরি করতে পারিনি। প্রাণশক্তিও খুব কম ছিল। এ কারণেই বলছি, ভিরাট কোহলি যদি এই টেস্টে খেলত, তাহলে ফল ভিন্ন হতে পারত। কারণ, সে সবাইকে বলত, ‘কাম অন সরফরাজ, কাম অন জয়সওয়াল।’ সে সোনালকেও চাপে রাখার চেষ্টা করত। আর এখানে আমরা কার সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়াচ্ছিলাম? কুমারার সঙ্গে।”

কাইফের মতে, শ্রীলঙ্কার একপ্রান্ত ধরে রেখে লড়াই চালিয়ে যাওয়া দিনুশাকে তেমন কোনো চাপে ফেলতে পারেনি ভারত। 

“আসলে যাকে আমাদের আউট করা দরকার ছিল, সে ছিল সোনাল। তার একটি ভিডিও দেখেছি, যেখানে সে বলছিল, ‘ওদের মুখের দিকে তাকাও, ওদের মুখের দিকে তাকাও।’ একটি ভিডিও দেখেছি, যেখানে সে স্থানীয় ভাষায় কুমারাকে কথাটি বলছিল। মূলত সে বলছিল, ‘ওদের মুখের দিকে তাকাও।’ ব্যাটিংয়ের সময় তার মধ্যে যে কর্তৃত্ব দেখেছি, তাতে বোঝা যাচ্ছিল তার ওপর কোনো চাপই নেই।

“স্লেজিংয়ের দিক থেকেও তার ওপর কোনো চাপ ছিল না। এমনকি বড় কোনো খেলোয়াড়ও তার কাছে গিয়ে তাকে অস্বস্তিতে ফেলার চেষ্টা করেনি। ভিরাট কোহলি, রোহিত শার্মা, মাহেন্দ্র সিং ধোনি কিংবা রাভিচান্দ্রান অশ্বিনের মতো খেলোয়াড়রা যখন প্রতিপক্ষ দলে থাকে এবং এমনভাবে আপনার দিকে তাকায়, তখন আপনি চাপ অনুভব করেন। আমার মনে হয়েছে, এই বিষয়টার অভাবও অনুভব করেছি।”