Published : 17 Aug 2026, 08:23 PM
একশর আগে পাঁচ উইকেট হারিয়ে তখন ফলো-অনের শঙ্কায় শ্রীলঙ্কা। চরম বিপর্যয়ের মুখে প্রায় দেড়শর কাছাকাছি জুটিতে দলকে উদ্ধার করলেন নিরোশান ডিকওয়েলা ও সোনাল দিনুশা। ডিকওয়েলা না পারলেও, দিনুশা পেলেন প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির দেখা। তারপরও প্রথম ইনিংসে বড় লিড পেল ভারত।
গল টেস্টে প্রথম ইনিংসে ভারতের ৪৬২ রানের জবাবে সোমবার শ্রীলঙ্কা ৯০ রানে হারিয়ে ফেলে ৫ উইকেট। ষষ্ঠ উইকেটে দিনুশা ও ডিকওয়েলা যোগ করেন ১৪৬ রান। লঙ্কানরা থামে ২৮৪ রানে। ভারতের লিড ১৭৮ রানের।
স্বাগতিকরা অলআউট হওয়ার পর, আলোকস্বল্পতায় তৃতীয় দিনে আর খেলা হয়নি।
এ দিনও উইকেটে স্পিনারদের জন্য টার্ন মিলেছে বেশ। ভারতের দুই বাঁহাতি স্পিনার রাভিন্দ্রা জাদেজা ও মানাভ সুতার মিলে ভাগ করে নিয়েছেন ৭ উইকেট। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট খেলতে নামা সুতার ৭৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে দলের সফলতম বোলার।
ক্যারিয়ারের আগের ও তৃতীয় টেস্টে গত মাসে অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৯২ রানে আউট হয়েছিলেন দিনুশা। এবার ঠিক ১০০ রানের ইনিংস খেলেন ২৫ বছর বয়সী বাঁহাতি স্পিনিং অলরাউন্ডার। চারটি চার ও দুটি ছক্কায় গড়া তার ইনিংসটি।
কিপার-ব্যাটসম্যান ডিকওয়েলা সাড়ে তিন বছর পর টেস্ট খেলতে নেমে সাত চারে ১১৫ বলে করেন ৮০ রান।
দ্বিতীয় দিনের ৯ উইকেটে ৪৬০ রানের সঙ্গে এ দিন ভারত যোগ করতে পারে কেবল ২ রান। দিনের চতুর্থ বলে প্রাসিধ কৃষ্ণাকে ফিরিয়ে সফরকারীদের গুটিয়ে দেন আসিথা ফের্নান্দো।
জবাবে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই উইকেট হারায় শ্রীলঙ্কা। মোহাম্মাদ সিরাজের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে প্রথম স্লিপে ধরা পড়েন নিশান মাদুশকা।
টিকতে পারেননি দিনেশ চান্দিমালও। সপ্তম ওভারে আক্রমণে এসেই চমৎকার এক ডেলিভারিতে অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে কিপারের ক্যাচ বানিয়ে বিদায় করেন সুতার।
জুটি গড়ার চেষ্টা করেন লাহিরু উদারা ও কামিন্দু মেন্ডিস। কিন্তু দুজনই ফেরেন ১৫ বলের ব্যবধানে।
সুতারকে কাট করে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে সহজ ক্যাচ তুলে দেন ওপেনার উদারা (৪৪ বলে ২৭)। আরেক স্পিনার কুলদিপ ইয়াদাভের বলে এক্সট্রা কাভারে শুবমান গিলের এক হাতে নেওয়া দুর্দান্ত ক্যাচে ফেরেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান কামিন্দু (২৫ বলে ১৪)।
তখন ৫৯ রানে নেই ৪ উইকেট।
পঞ্চম উইকেটে ধানাঞ্জায়া ডি সিলভা ও দিনুশা প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তাদের জুটি ভাঙে ৩১ রানে। এবার উইকেট শিকারে যোগ দেন জাদেজা। স্লিপে ক্যাচ দেন ধানাঞ্জায়া (৪১ বলে ২১)।
শ্রীলঙ্কা তখন অল্পে গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কায়। লাঞ্চ বিরতিতে যায় তারা ৫ উইকেটে ৯৯ রান নিয়ে।
বিরতি থেকে ফিরে প্রতিরোধ গড়েন দিনুশা ও ডিকওয়েলা। দুজনই অবশ্য অল্পের জন্য বেঁচে যান কয়েক দফায়। ৬৭ বলে ফিফটি করেন ডিকওয়েলা। দিনুশা পঞ্চাশে পা রাখেন ৯২ বলে।
দ্বিতীয় সেশনের পুরোটা কাটিয়ে দেন দুজন। তৃতীয় সেশনের পঞ্চম ওভারে ২১৭ বল স্থায়ী জুটি ভাঙেন প্রাসিধ। কিপারকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ডিকওয়েলা।
প্রথম টেস্ট শতকের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হলো ডিকওয়েলার। কোনো শতক ছাড়া তার ২৩টি ফিফটি রেকর্ড, যে রেকর্ডে গর্বের চেয়ে আছে বরং হাহাকার। তার অনেকটা পেছনে থেকে এই তালিকায় দুই নম্বরে আছেন ভারতের চেতান চৌহান (১৬টি)।
কোনো শতক ছাড়া ডিকওয়েলার (দুই হাজার ৮৩৭) চেয়ে বেশি টেস্ট রান আছে কেবল স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্নের (তিন হাজার ১৫৪)।
অভিষিক্ত স্পিনার কেশারা নুওয়ান্থাকে ফিরিয়ে ৩৫০তম টেস্ট উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করেন জাদেজা। তৃতীয় বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে এই কীর্তি গড়েন তিনি।
প্রাবাথ জায়াসুরিয়ার সঙ্গে জুটি বেঁধে ১৬৭ বলে শতকের ঠিকানায় পৌঁছে যান দিনুশা। সেখানেই তার ইনিংস থামিয়ে দেন জাদেজা। এর আগে-পরে দুই ওভারে জায়াসুরিয়া ও লাহিরু কুমারার উইকেট নিয়ে শ্রীলঙ্কা ইনিংস গুটিয়ে দেন সুতার।
লঙ্কানরা শেষ ৩ উইকেট হারায় ১০ রানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ১১৬.৪ ওভারে ৪৬২ (আগের দিন ৪৬০/৯) (কুলদিপ ১৩*, প্রাসিধ ২; আসিথা ১৭.৪-১-৬৩-১, কুমারা ১৩-১-৭৬-০, নুওয়ান্থা ৩৯-১-১৭৫-৩, জায়াসুরিয়া ৩৯-৬-১০৯-৪, ধানাঞ্জায়া ৪-০-১৫-০, দিনুশা ৪-০-১৭-০)
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ৭৯.৪ ওভারে ২৮৪ (মাদুশকা ০, উদারা ২৭, চান্দিমাল ৪, কামিন্দু মেন্ডিস ১৪, ধানাঞ্জায়া ২১, দিনুশা ১০০, ডিকওয়েলা ৮০, নুওয়ান্থা ২, জায়াসুরিয়া ১০, কুমারা ১০, আসিথা ০*; সিরাজ ৯-৩-২৯-১, প্রাসিধ ১৪-০-৪৭-১, সুতার ২১.৪-১-৭৬-৪, কুলদিপ ১৪-০-৬৫-১, জাদেজা ২ ১-৫-৫৭-৩)