Published : 31 Aug 2025, 01:40 AM
প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানের মধ্যে দুই অঙ্কে যেতে পারলেন কেবল দুজন। সেই দুজন সাইম আইয়ুব ও হাসান নাওয়াজ খেললেন বিধ্বংসী ইনিংস। সঙ্গে দুটি ক্যামিও ইনিংসে দুইশ ছাড়ানো পুঁজি গড়ল পাকিস্তান। রান তাড়ায় ভালো শুরুর পর পথ হারিয়ে ফেলল সংযুক্ত আরব আমিরাত। আসিফ খানের বিস্ফোরক ইনিংসে পরাজয়ের ব্যবধানই শুধু কমাতে পারল তারা।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তানের জয় ৩১ রানে। প্রথম দুই ম্যাচের দুটিই জিতল সালমান আলি আগার দল।
শারজাহ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার ইনিংসের শেষ চার বলে তিন উইকেট হারিয়ে পাকিস্তান অলআউট হয় ২০৭ রানে। এই মাঠে তাদের সর্বোচ্চ এবং যে কোনো দলের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোর এটি।
জবাবে প্রথম চার ওভারে বিনা উইকেটে ৩৯ রান তোলা আমিরাত শেষ পর্যন্ত ৮ উইকেটে করতে পারে ১৭৬। ৬টি করে চার ও ছক্কায় ৩৫ বলে ৭৭ রানের ইনিংস খেলেন আসিফ।
পাকিস্তানের নায়ক ওপেনার সাইম। ৭ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ বলে ৬৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। পরে বল হাতে দুই ওভারে ৬ রানে একটি উইকেট নিয়ে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতিও পান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।
৬ ছক্কা ও ২ চারে ২৬ বলে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন হাসান নাওয়াজ। এই দুজনই ব্যাট হাতে ব্যর্থ ছিলেন প্রথম ম্যাচে।
আগের দিন আফগানিস্তানকে ৩৯ রানে হারানো ম্যাচের মতো এ দিনও টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামে পাকিস্তান। টানা দুটি চার মেরে প্রথম ওভারে বিদায় নেন সাহিবজাদা ফারহান। একটি চার মেরে শেষ হয় ফাখার জামানের ইনিংস। প্রথম ম্যাচে অপরাজিত ফিফটি করা সালমান আলি এবার ফেরেন ৫ রানে।
তাদের আসা-যাওয়ার মাঝে এক প্রান্তে ঝড় তুলে দলকে প্রায় একাই এগিয়ে নেন সাইম। ৪ ছক্কা ও ৬ চারে স্রেফ ২৫ বলে চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি পূর্ণ করেন ২৩ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। প্রথম আট ওভারে পাকিস্তানের ৭৫ রানের মধ্যে তার একার অবদান ৫৪।
দ্বাদশ ওভারে লেগ স্টাম্পের বাইরের বলে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়ে শেষ হয় সাইমের ঝড়ো ইনিংস। আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে যদিও সন্তুষ্ট ছিলেন না তিনি। ডিসিশন রিভিউ সিস্টেম (ডিআরএস) নেই এই সিরিজে।
সাইমের মতো শুরু থেকে আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান হাসান নাওয়াজও। হায়দার আলিকে টানা তিন ছক্কার পথে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি ২৪ বলে। ওই তিন ছক্কার পরের বলে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ইনিংসটি।
মোহাম্মদ হারিস টিকতে না পারলেও মোহাম্মদ নাওয়াজ (১৫ বলে ২৫) ও ফাহিম আশরাফের (১০ বলে ১৬) ক্যামিও ইনিংসে দুইশ ছাড়িয়ে যায় পাকিস্তানের স্কোর।
আরব আমিরাতের হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন জুনাইদ সিদ্দিক ও সাগির খান। তবে চার ওভারে জুনাইদ দেন ৪৯ রান, সাগির ৪৪।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় মুহাম্মাদ ওয়াসিম ও মুহাম্মাদ জোহাইবের ব্যাটে ভালো শুরু পায় আরব আমিরাত। পঞ্চম ওভারের প্রথম বলে জোহাইবের (১৪ বলে ১৩) বিদায়ে ভাঙে ৩৯ রানের শুরুর জুটি।
দারুণ খেলতে থাকা ওয়াসিম (১৮ বলে ৩৩) পরের ওভারে রান আউটে কাটা পড়েন। হাসান আলির করা ওই ওভারে বিদায় নেন ইথান ডি’সুজা। টিকতে পারেননি আলিশান শারাফুও।
বিনা উইকেটে ৩৯ থেকে দ্রুতই আরব আমিরাতের স্কোর হয়ে যায় ৪ উইকেটে ৬৮।
এরপরই উইকেটে গিয়ে দ্বিতীয় বলে চার মেরে শুরু করেন আসিফ। অন্য প্রান্তে আর কেউ ভালো করতে না পারলেও তিনি একাই চালিয়ে যান লড়াই।
লেগ স্পিনার সুফিয়ান মুকিমের চার বলের মধ্যে দুটি ছক্কা ও একটি চার মারেন আসিফ। হাসানের এক ওভারেও মারেন দুটি ছক্কা ও একটি চার। তবু তাদের সমীকরণ ছিল খুব কঠিন, শেষ পাঁচ ওভারে দরকার ছিল ৮৬ রান।
অষ্টাদশ ওভারে মুকিমকে দুটি ছক্কা ও একটি চারের পথে আসিফ ফিফটি করেন ২৫ বলে। সালমান মির্জার করা পরের ওভারেও একই পরিণতি। শেষ ওভারে হাসানের প্রথম বলে চার মেরে পরের বলে শেষ হয় আসিফের তাণ্ডব। পরের তিন বলের মধ্যে দুই উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সফলতম বোলার হাসান (৩/৪৭)।
সিরিজের পরের ম্যাচে সোমবার মুখোমুখি হবে আফগানিস্তান ও আরব আমিরাত।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ২০ ওভারে ২০৭ (সাহিবজাদা ৮, সাইম ৬৯, ফাখার ৬, সালমান আলি ৫, হাসান নাওয়াজ ৫৬, মোহাম্মদ নাওয়াজ ২৫, হারিস ১, ফাহিম ১৬, হাসান ৯, সালমান মির্জা ৩, মুকিম ০*; জুনাইদ ৪-০-৪৯-৩, ধ্রুব ৪-০-৩৪-০, হায়দার ৪-০-৩২-২, জাওয়াদউল্লাহ ৪-০-৪৪-০, সাগির ৪-০-৪৪-৩)
সংযুক্ত আরব আমিরাত: ২০ ওভারে ১৭৬/৮ (জোহাইব ১৩, ওয়াসিম ৩৩, ডি’সুজা ৩, শারাফু ৩, রাহুল ১১, আসিফ ৭৭, ধ্রুব ১৫, সাগির ১১, হায়দার১*, জুনাইদ ০*; সালমান মির্জা ৪-০-৪৩-১, হাসান ৪-০-৪৭-৩, মোহাম্মদ নাওয়াজ ৪-০-২১-২, সাইম ২-০-৬-১, ফাহিম ২-০-১৫-০, মুকিম ৪-০-৪৪-০)
ফল: পাকিস্তান ৩১ রানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: সাইম আইয়ুব