২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫ আশ্বিন ১৪৩৩

নাওয়াজ ও রুশোর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে পিএসএলে অনন্য কীর্তি

তাদের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে পিএসএলে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরের দেখা মিলেছে, পরিসংখ্যানের পাতায় এসেছে আরও কিছু পরিবর্তন।

নাওয়াজ ও রুশোর বিধ্বংসী সেঞ্চুরিতে পিএসএলে অনন্য কীর্তি
তৃতীয় উইকেটে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন হাসান নাওয়াজ (বাঁয়ে) ও রাইলি রুশো। ছবি: পাকিস্তান সুপার লিগ ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 08 May 2025, 12:23 AM

Updated : 26 Aug 2026, 12:40 PM

সেঞ্চুরির জন্য ইনিংসের শেষ বলে হাসান নাওয়াজের প্রয়োজন চার রান। বাঁহাতি পেসার বেন ডোয়ার্শিসের অফ স্টাম্পের বাইরের বলে তরুণ ব্যাটসম্যানের টাইমিং হলো না ঠিকমতো। তবে ডিপ থার্ডম্যান দিয়ে বল পৌঁছে গেল বাউন্ডারিতে। সেঞ্চুরিতে পৌঁছে ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে আকাশ পানে তাকালেন নাওয়াজ, ডাগআউটে করতালি দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানালেন দলের মেন্টর ও ক্যারিবিয়ান ব্যাটিং গ্রেট ভিভ রিচার্ডস।

সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যানদের একজন, আনন্দদায়ী ও আগ্রাসী ব্যাটিংয়ের জন্য আলাদা পরিচিতি ছিল যার, সেই ভিভ রিচার্ডসকে সাক্ষী রেখেই বিধ্বংসী সেঞ্চুরি উপহার দিলেন তার দলের দুই ব্যাটসম্যান। নাওয়াজের আগে শতক করেন রাইলি রুশো। তাদের নাম উঠে গেল ইতিহাসের পাতায়।

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) এক দশকের পথচলায় এই প্রথম একই দলের ইনিংসে সেঞ্চুরি করলেন দুই ব্যাটসম্যান।

রাওয়ালপিন্ডিতে বুধবার কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে ৬ ছক্কা ও ১৪ চারে ৪৬ বলে ১০৪ রান করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান রুশো। চারে নেমে ৯ ছক্কা ও ৪ চারে ৪৫ বলে অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলেন পাকিস্তানের নাওয়াজ। দুজনের তৃতীয় উইকেট জুটিতে আসে ১৩৪ রান।

ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের বিপক্ষে কোয়েটা ২০ ওভারে ৩ উইকেটে করে ২৬৩ রান। পিএসএলে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর এটিই। ২০২৩ আসরে কোয়েটার বিপক্ষে মুলতান সুলতান্সের ২৬২ রান ছিল আগের রেকর্ড।

তিনে নেমে ২৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করা রুশোর পরের পঞ্চাশ করতে লাগে কেবল ১৮ বল। ৪৪ বলে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় তার ইনিংসটি।

পিএসএলে ৩৫ বছর বয়সী রুশোর তৃতীয় সেঞ্চুরি এটি। টুর্নামেন্টটিতে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কারো। তার সমান তিনটি করে আছে উসমান খান ও কামরান আকমলের। ২০২০ আসরে ৪৩ বলে ও ২০২৩ সালে ৪১ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন রুশো।

ষোড়শ ওভারে রুশোর বিদায়ের সময় নাওয়াজের রান ছিল ৪৭। ২৯ বলে পঞ্চাশে পা রাখেন তিনি। সেখান থেকে শতকে যেতে লাগে স্রেফ ১৬ বল। 

শেষ ওভার শুরু করেন তিনি ৮৮ রান নিয়ে। দ্বিতীয় বলে স্ট্রাইক পেয়ে ডোয়ার্শিসকে ছক্কায় ওড়ান ২২ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান। পরের দুই বলে তিনি রান নিতে পারেননি। পঞ্চম বলে দুই রান নিয়ে পৌঁছে যান ৯৬ রানে, শেষ বলে চারে সেঞ্চুরির ঠিকানায়।  

গত মার্চে পাকিস্তানের হয়ে অকল্যান্ডে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নাওয়াজ সেঞ্চুরি করেছিলেন ৪৪ বলে, এই সংস্করণে পাকিস্তানের কোনো ব্যাটসম্যানের যা দ্রুততম সেঞ্চুরি। মাস দেড়েক পর ৪৫ বলে শতক করলেন তিনি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে।

স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ৩৩ ইনিংসে নাওয়াজের সেঞ্চুরি এই দুটিই।