১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

‘আমার দাদা ছিলেন কৃষক, বাবা সৈনিক’, সেঞ্চুরির পর উদযাপন নিয়ে জুরেল

কলম্বো টেস্টে সেঞ্চুরির পর উদযাপনের পেছনের গল্প শোনালেন ভারতীয় ব্যাটসম্যান।

‘আমার দাদা ছিলেন কৃষক, বাবা সৈনিক’, সেঞ্চুরির পর উদযাপন নিয়ে জুরেল
ধ্রুব জুরেলের ওই উদযাপন। ছবি: ইন্ডিয়ান ক্রিকেট টিম ফেইসবুক

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 25 Aug 2026, 12:00 AM

Updated : 16 Sep 2026, 01:00 PM

খুব কঠিন একটি রান নিয়ে তিন অঙ্ক ছোঁয়ার পর সঙ্গীকে জড়িয়ে ধরা, ব্যাট ও হেলমেট উঁচিয়ে অভিবাদনের জবাব দেওয়া, এসব তো ছিলই, পাশাপাশি ধ্রুব জুরেলের আরেকটি উদযাপন নজর কাড়ে সবার। জার্সির হাতা গুটিয়ে বাম বাইসেপ দেখান তিনি। যেখানে হিন্দিতে লেখা, ‘জেয় জাওয়ান, জেয় কিষান।’ ভারতীয় ব্যাটসম্যান জানালেন, পারিবারিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান জানাতেই তার এই ট্যাটু।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় দিন সোমবার ৯৯ রান থেকে শতকে পৌঁছাতে জুরেলকে অপেক্ষা করতে হয় ১৩ বল। আসিথা ফার্নান্দোর বল মিড-অফে খেলেই দৌড় দেন তিনি। সরাসরি থ্রোয়ে বল স্টাম্পে লাগলে আউট হয়ে ফিরতে হতো তাকে, কিন্তু ফিল্ডার অনেকটা কাছ থেকে বল স্টাম্পে লাগাতে পারেনি। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পান জুরেল, এরপর তার অমন উদযাপন।

দিনের খেলা শেষে ওই উদযাপন আর ট্যাটুর পেছনের গল্প শোনান ২৫ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

“আমার দাদা ছিলেন একজন কৃষক, আমার বাবা ছিলেন সৈনিক, এসবই আমার শিকড়, যেখান থেকে আমি উঠে এসেছি এবং তা ভুলতে চাই না। ওই উদযাপনটি ছিল আমার বাবা ও দাদার জন্য।”

জুরেলের ১৭৭ বলে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংসের সুবাদে ভারত ৯ উইকেটে ৫০৩ রানে ঘোষণা করে প্রথম ইনিংস। অষ্টম উইকেটে জুরেল ও রিশাভ পান্ত উপহার দেন ১১২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। দুজনই মূলত কিপার-ব্যাটসম্যান। প্রথম দিন ৩ রানে আঘাত পেয়ে মাঠ ছাড়া পান্ত এ দিন ব্যাটিংয়ে নেমে দুটি ছক্কা ও ছয়টি চারে করেন ৮৯ বলে ৬৩ রান। এই জুটির গল্পও বললেন জুরেল।

“আমরা সবাই জানি, পান্ত কতটা অসাধারণ খেলোয়াড় এবং অস্ট্রেলিয়া ও ইংল্যান্ডে ভারতের জন্য তিনি কী করেছেন। তাই যখনই তিনি ক্রিজে থাকেন, আমি তার পরামর্শ চাই, কারণ তার অভিজ্ঞতা অনেক। তাই কোনো নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আমার কী করা উচিত, সে বিষয়ে সবসময় তার কাছে পরামর্শ চাই।

“টেস্ট ক্রিকেটে খেলার বিভিন্ন ধরন রয়েছে, আর এটিই খেলাটিকে সুন্দর করে তোলে। পান্তের সঙ্গে খেলা অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা। আমি তার মতো খেলতে পারি না, যেভাবে তিনি ছোটবেলা থেকে খেলে আসছেন। আমার খেলার পরিকল্পনা হলো, কোন বোলারকে আমি আক্রমণ করব, কোন স্পেলটি খেলব, আমি সবসময় পান্তকে জিজ্ঞেস করি, কারণ তিনি উইকেটকিপার, আমিও উইকেটকিপার এবং আমরা মিডল অর্ডারে খেলি, তাই এটি খুব ভালো অভিজ্ঞতা।”