Published : 15 May 2026, 06:09 PM
বাংলাদেশের টেস্ট দলকে একটা পর্যায়ে তুলে নিতে বছরের পর বছর লড়েছেন একজন। এখনও তিনি সবচেয়ে বেশি সময় ও বেশি টেস্টে নেতৃত্ব দেওয়া অধিনায়ক। আরেকজনের নেতৃত্বে এখন টেস্ট ক্রিকেটে চলছে নতুন দিনের গান। সাবেক অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম কাছ থেকেই দেখছেন, এখনকার অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত কীভাবে টেস্ট দলকে তুলে নতুন উচ্চতায়। সেই মুগ্ধতার রেশ মেখেই উত্তরসূরীর প্রতি প্রত্যাশার কথা জানিয়ে রাখলেন মুশফিক।
এই দুজন শুধু এখনকার সতীর্থ বা দুই সময়ের অধিনায়কই নন, মিরপুর টেস্টে পাকিস্তানকে হারানোর গৌরবের একটি পাতায় তাদের নাম এখন পাশাপাশি। টেস্টে বাংলাদেশের সফলতম অধিনায়ক তারা দুজন। দুজনের অধিনায়কত্বেই ৭টি করে টেস্ট জিতেছে দল।
তবে দুই সময়ের পার্থক্য স্পষ্ট এই রেকর্ডের আরেকটি সংখ্যায়। মুশফিকের ৭ জয় এসেছে ৩৪ টেস্টে নেতৃত্ব দিয়ে। শান্ত তাকে ছুঁয়ে ফেলেছেন ১৭ টেস্টেই।
শুধু অধিনায়ক হিসেবেই নয়, সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতেও ক্যারিয়ারের সেরা সময় কাটাচ্ছেন শান্ত। মিরপুরে শেষ সময়ে প্রায় সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন নাহিদ রানা। কিন্তু দুই ইনিংসে দুর্দান্ত ব্যাট করে ম্যাচ-সেরা ছিলেন শান্তই। সবশেষ পাঁচ টেস্টে তার সেঞ্চুরি চারটি। সবশেষ ওয়ানডেতেও করেছেন শতরান।
মিরপুরে সেঞ্চুরি করে অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির রেকর্ডে মুশফিককে (৪টি) ছাড়িয়ে সবার ওপরে উঠে গেছেন তিনি।
মুশফিকের মতে, নেতৃত্বের ভারই শান্তকে অনুপ্রাণিত করে নিজেকে আরও বেশি করে মেলে ধরতে। সিলেট টেস্ট শুরুর আগের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান বললেন, নেতৃত্ব আর ব্যাটিংয়ের যুগলবন্দি শান্ত আরও অনেক দিন ধরে রাখবেন বলে আশা তার।
“ও খুবই ভালো ব্যাটিং করছে। ওর সবচেয়ে বড় প্লাস যেটা আমার মনে হয়, ওর ওপর দায়িত্ব যত বেশি পড়ে, ও সেটাকে আরও অন্যভাবে চ্যালেঞ্জ নেয়, ইতিবাচকভাবে নেয় এবং সেটাকে ডেলিভার করে। অধিনায়ক হিসেবে কেউ যখন এরকম থাকে যে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়, স্বাভাবিকভাবেই সেটা যে কোনো দলের জন্য বড় উদাহরণ তৈরি হয় এবং সবারই সেটা অনুসরণ করার না করে আসলে কোনো উপায় থাকে না।”
“আমি মনে করি, হি ইজ আ গ্রেট লিডার এবং আশা করব যে, এই ধারাবাহিকতাটা যেন ও আরও সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। শুধু টেস্ট ক্রিকেট নয়, ওয়ানডে ও যে কয়টা ফরম্যাটে খেলছে, সব কটিতেই।”
নিজের সময়ের সঙ্গে এখনকার বাস্তবতার তুলনাও করলেন মুশফিক। ২০১১ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত টেস্ট দলের অধিনায়ক ছিলেন তিনি। তার সময়ে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় জয় ধরা দিলেও হতাশাও কম ছিল না। বিদেশের মাঠে পারফরম্যান্স ছিল বাজে। দেশে-বিদেশে কোথাও ধারাবাহিকতা ততটা ছিল না।
“আমাদের বোলিং বিভাগের ২০ উইকেট নেওয়ার ক্ষমতা আগের চাইতে এখন অনেক ভালো। সেটা যে কোনো কন্ডিশনেই। স্পিনাররা তো বরাবরই আমাদের ভালো ছিল। কিন্তু পেস বিভাগ যখন যোগ হয়ে যায়…আমরা যদি ব্যাটসম্যানরা ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলতে পারি, যেটা কি না গত তিন-চার বছর খুব ভালো হচ্ছে টেস্ট ক্রিকেটে… সেদিক থেকে বলব, এটা একটা আশীর্বাদ এবং অধিনায়কের জন্য বড় একটা স্বস্তির বিষয়।”
“আমি যখন অধিনায়ক ছিলাম, আমার ব্যাটসম্যান ছিল, কিন্তু ২০ উইকেট নেওয়ার মতো ৪ জন বোলার ছিল না। হয়তো এক-দুজন ছিল, আমার জন্য কাজটা কঠিন হয়ে যেত, আমার পরের অধিনায়কদের জন্যও। কিন্তু এখন বলতে পারি যে, আমাদের বোলিং আক্রমণ ব্যালান্সড ও বৈচিত্রময়। যে কোনো কন্ডিশনে, সেটা স্পিন হোক, পেস হোক, স্পোর্টিং হোক, সেখানে ফলাফল বের করতে পারবে। সেদিক থেকে উন্নতিটা খুব ভালো হয়েছে।”
টেস্ট দলটাকে ভালো অবস্থানে পৌঁছতে হলে এই ধারা ধরে রাখতে হবে বলে মনে করেন মুশফিক।
“সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং কো ধারাবাহিকতা। আমার মনে হয় যে, দল হিসেবে যদি আগামী দুই-তিন বছর আমরা ধারাবাহিক হতে পারি, টেস্ট দল আরও ভালো পজিশন আসবে।”