Published : 31 Aug 2026, 06:00 PM
এমনিতে নাহিদ রানা মাঠে যা-ই করেন, তাকে ঘিরে কৌতূহল সবসময়ই থাকে। গত দুই বছরে গতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে তার তারকা খ্যাতি। আকর্ষণের কেন্দ্রে তো তিনি থাকবেনই। সেই আগ্রহের মাত্রা সোমবার দুপুরে দেখা গেল একটু বেশিই। সংবাদকর্মীদের সবার চোখ তার দিকে, সবার ক্যামেরা তাক করা তার দিকে। যেন বিশেষ কোনো উপলক্ষ!
এমনিতে মিরপুরে নাহিদের আনাগোনা নিয়মিতই ছিল। তবে গত কিছু দিনে মূলত শারীরিক কসরতই করতে দেখা গেছে তাকে। এবার শুরু হলো সত্যিকারের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম। চোট কাটিয়ে মাঠে ফেরার পথে বোলিং শুরু করলেন বাংলাদেশের এই ফাস্ট বোলার।
যদিও এই বোলিং একদমই প্রাথমিক পর্যায়ের। স্রেফ কয়েক পা আলতো করে দৌড়ে গিয়ে বল ছুড়েছেন। পুরোদমে বোলিং শুরু করতে এখনও সময় লাগবে বেশ। সময়ের সঙ্গে আস্তে আস্তে বাড়ানো হবে ‘ইনটেনসিটি।’ সবকিছু ঠিকঠাক এগোলে সময়ের সঙ্গে বড় হবে রান আপ, বাড়বে গতি আর তীব্রতা।
বোলিং শুরুর তিনে তার সঙ্গে ছিলেন জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান ও পেস বোলিং কোচ তালহা জোবায়ের। তারা সতর্ক দৃষ্টি রাখেন নাহিদের দিকে। মাঝেমধ্যে তাদেরকে দেখা যায়ে তার সঙ্গে কথা বলতে।
তার এই বোলিংয়ে ফেরা এমনিতে এটি সাধারণ প্রক্রিয়াই। পুনর্বাসনের আরেকটি ধাপ। তবে নামটি নাহিদ বলেই সাধারণ ঘটনাও হয়ে উঠছে বিশেষ কিছু। গত দুই বছরে তিনি শুধু দেশের ক্রিকেটের সবচেয়ে আলোচিত নামই নন, বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন। সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়া সফরেই যেমন, চোটের কারণে তিনি খেলতে না পারায় বাংলাদেশ ক্রিকেটে যত আক্ষেপ ছিল, অস্ট্রেলিয়া ও বৈশ্বিক ক্রিকেট মহলেও তুমুল আলোচনা ছিল তার অনুপস্থিতি নিয়ে।
গত জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরে চোটে পড়েন নাহিদ। ওই সফরে দুটি ওয়ানডে ও দুটি টি-টোয়েন্টি খেলার পর সাইড স্ট্রেইন তাকে ছিটকে দেয় মাঠের বাইরে। দেশে ফেরার পর স্ক্যান করানো হলে গ্রেড টু সাইড স্ট্রেইন ধরা পড়ে। শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ায় তার টেস্ট খেলার সম্ভাবনা। ওই মাসের শেষ দিকে অবশ্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন তিনি, তবে তা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের জন্য। সেখানে সাইড স্ট্রেইনের পাশাপাশি তার শিনবোনের পুরোনো চোটের অবস্থাও পরীক্ষা করানো হয়।
এরপর বিশ্রাম নিয়ে শুরু হয় পুনবার্সন পর্ব।
হালকা বোলিং শুরুর পর এখ পরবর্তী প্রশ্ন, কবে নাগাদ তিনি শতভাগ দিয়ে বোলিং করতে পারবেন। তাকে নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ো করতে চায় না বিসিবির সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো। আপাতত জাতীয় দলের কোনো খেলাও নয়। সময় নিয়েই তার সব প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
আপাতত লক্ষ্য অক্টোবরের শুরুতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজে তাকে ফেরানো। সিরিজের বিস্তারিত এখনও চূড়ান্ত না হলেও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আফগানদের সঙ্গে একটি টেস্ট ও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ। সেখানে ওয়ানডে সিরিজের একটি-দুটি ম্যাচে তাকে দেখা যেতে পারে। অক্টোবরেই অপেক্ষায় আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের দক্ষিণ আফ্রিকা সফর। সেখানকার গতিময় ও বাউন্সি উইকেটে নাহিদকে প্রবলভাবেই পেতে চাইবে দল।
সেপ্টেম্বরে অবশ্য এশিয়ান গেমস ক্রিকেটে খেলবে বাংলাদেশ। সেটির দল এখনও ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে যদি জাতীয় দলকেও পাঠানো হয়, তবু নাহিদ থাকবেন না নিশ্চিতভাবেই।