২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩

লাইভ: দ্রুত ৪ উইকেট হারিয়ে বিপদে বাংলাদেশ

চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনের শেষ সেশনে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিতে ব‍্যর্থ বাংলাদেশ।

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Oct 2024, 09:55 AM

Updated : 26 Aug 2026, 10:49 AM

সংক্ষিপ্ত স্কোর: 

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৫৭৫/৬ ডিক্লে.

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৯ ওভারে ৩৮/৪

কঠিন দিনের শেষটায় বাড়ল বিপদ

ফিল্ডিংয়ে ক্লান্তিকর এক দিনের শেষটায় ব‍্যাটিংয়েও ব‍্যর্থ বাংলাদেশ। আলোকস্বল্পতায় আগেভাগেই দিনের খেলা শেষ হওয়ায় হয়তো বিপদ আরও বাড়ল না।

স্রেফ ৯ ওভার ব‍্যাটিং করতেই ৪ উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ, করতে পেরেছে ৩৮ রান।

তিনজনের প্রথম সেঞ্চুরিতে ৬ উইকেটে ৫৭৫ রানে প্রথম ইনিংস ঘোষণা করা দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও এগিয়ে ৫৩৭ রানে। ফলোঅন এড়াতে বাংলাদেশের করতে হবে আরও ৩৩৮ রান।

আরও একবার ব‍্যর্থ বাংলাদেশের টপ অর্ডার। রানের খাতাই খুলতে পারেননি সাদমান ইসলাম। সতীর্থর চোটে পাওয়া সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি জাকির হাসান। দুই অঙ্ক ছুঁয়েই ফেরেন মাহমুদুল হাসান।

নাইটওয়াচম‍্যাচ হাসান মাহমুদ পার করতে পারেননি শেষ বেলা। লড়াইয়ের জন‍্য বাংলাদেশ তাকিয়ে থাকবে মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্তর দিকে।

বাংলাদেশের ৪ উইকেটের দুটি নিয়েছেন আইসিসি টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ বোলার কাগিসো রাবাদা। একটি করে নিয়েছেন কেশাভ মহারাজ ও ডেন প‍্যাটারসন।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: ৫৭৫/৬ ডিক্লে.

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৯ ওভারে ৩৮/৪ (সাদমান ০, জয় ১০, জাকির ২, মুমিনুল ৬*, হাসান ৩, শান্ত ৪; রাবাদা ৩-০-৮-২, প‍্যাটারসন ৩-০-১৫-১, মহারাজ ২-১-৪-১, মার্করাম ১-০-২-০)

হাসানও ফিরলেন দ্রুত

স্নায়ু চাপের কঠিন সময়টুকু পার করে দিতে হাসান মাহমুদকে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজের প্রথম ওভারে নাইটওয়াচম‍্যানকে দ্রুত ফেরত পাঠালেন কেশাভ মহারাজ।

বাঁহাতি স্পিনারের বলের লাইনে যেতে পারেননি হাসান। সেটারই খেসারত দিতে হয় বোল্ড হয়ে।

৭ বলে ৩ রান করেন হাসান।

৭ ওভারে বাংলাদেশের রান ৪ উইকেটে ৩২। পাঁচে নেমেছেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

টিকলেন না জয়ও

৬ ওভারের মধ‍্যে টপ অর্ডারের তিন ব‍্যাটসম‍্যানকে হারাল বাংলাদেশ। সাদমান ইসলাম ও জাকির হাসানের পর ফিরলেন মাহমুদুল হাসান জয়।

ডেন প‍্যাটারসনের আগের বল ছিল অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে। সেটা তাড়া করে চার মারায় হয়তো একটু বেশিই আত্মবিশ্বাসী হয়ে গিয়েছিলেন জয়। পরের বলে খেলতে গেলেন একই ধরনের শট। এই বল ছিল শরীরে একটু কাছে। ফুল লেংথের ডেলিভারি খেলতে গিয়ে তিনি গড়বড় করে ধরা পড়লেন স্লিপে, এইডেন মার্করামের হাতে।

২১ বলে ১ চারে জয় করেন ১০ রান।

দ্রুত ৩ উইকেট হারানোর পর দিনের শেষ সময়টুকু পার করে দিতে নাইটওয়াচম‍্যান হিসেবে হাসান মাহমুদকে ব‍্যাটিংয়ে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ।

টিকলেন না জাকির

বাজে সময়ের মধ‍্য দিয়ে যাওয়া জাকির হাসান ব‍্যর্থ আরও একবার। কাগিসো রাবাদার বলে কট বিহান্ড হওয়ার সঙ্গে একটি রিভিউ নষ্ট করে এলেন বাঁহাতি এই ব‍্যাটসম‍্যান।

রাবাদার অফ স্টাম্পের বাইরের বলে ড্রাইভ করতে চেয়েছিলেন জাকির। বলের লাইনে যেতে পারেননি, কানা ছুঁয়ে জমা পড়ে উইকেটরক্ষক কাইল ভেরেইনার গ্লাভসে।

বলে ব‍্যাটের স্পর্শ বুঝতে পারেননি জাকির। তিনি নেন রিভিউ, যেটি কোনো কাজেই আসেনি।

৮ বলে ২ রান করেন জাকির।

চারে নেমেছেন চট্টগ্রামে দারুণ রেকর্ড থাকা মুমিনুল হক।

শুরুতেই সাদমানের বিদায়

স্কোরবোর্ডে ৪ বলে ১০ রান। কিন্তু রানের খাতা খোলেননি দুই ব্যাটসম্যানের কেউ। পেনাল্টি থেকে ৫ রান পেয়ে ইনিংস শুরু করে বাংলাদেশ। পরে ইনিংসের প্রথম ডেলিভারি 'নো' বলের সঙ্গে 'বাই' চার দেন কাগিসো রাবাদা।

এলেমেলো শুরুর পরও প্রথম ওভারেই সাফল্য পেয়েছেন রাবাদা। পঞ্চম বলে লেগ স্টাম্পের বাইরের ডেলিভারিতে কট বিহাইন্ড হয়েছেন সাদমান ইসলাম। শুরুতে আউট দেননি আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে তাকে ফেরায় দক্ষিণ আফ্রিকা। 

মিরপুর টেস্টের মতো চট্টগ্রামেও প্রথম ইনিংসে খালি হাতে ফিরলেন সাদমান। তিন নম্বরে নামলেন জাকির হাসান।

৫ রান পেনাল্টি পেল বাংলাদেশ

কয়েকবার ক্রিজের মাঝ দিয়ে দৌড়ে সতর্কতা পাওয়ার পর এবার শাস্তিই পেলেন সেনুরান মুথুসামি। ১৪৪তম ওভারে মুথুসামি পিচের মাঝ দিয়ে দৌড়ানোয় ৫ রান পেনাল্টি করা হলো দক্ষিণ আফ্রিকাকে। 

অর্থাৎ ৫ রান নিয়ে নিজেদের ইনিংস শুরু করবে বাংলাদেশ।

ছক্কায় মুল্ডারের সেঞ্চুরির পর ইনিংস ঘোষণা

যেন এই সময়টার জন‍্যই অপেক্ষায় ছিলেন এইডেন মার্করাম। ভিয়ান মুল্ডারের সেঞ্চুরি হতেই ইনিংস ঘোষণা করে দিলেন তিনি।

আগের ওভারের শেষ বলে ঝুঁকিপূর্ণ সিঙ্গেল নিয়ে ৯৯ রানে যান মুল্ডার। পরের ওভারের প্রথম বল খেলেন ডট। চাপ বাড়াতে ফিল্ডারেদর তার কাছাকাছি নিয়ে আসেন তাইজুল ইসলাম। বাঁহাতি স্পিনারের মাথার উপর দিয়ে চার মেরে তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া নেন ব‍্যাটসম‍্যান।

ম‍্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার তৃতীয় ব‍্যাটসম‍্যান হিসেবে সেঞ্চুরি করলেন মুল্ডার। আগের দুইজনের মতো তিনিই টেস্টে প্রথমবার খেললেন তিন অঙ্কের ইনিংস।

১৫০ বলে তিন ছক্কা ও নয় চারে ১০৫ রানে অপরাজিত থাকেন মুল্ডার। তার সঙ্গে অবিচ্ছিন্ন ১৫৪ রানের জুটি গড়া সেনুরান মুথুসামি নিজের প্রথম পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে ৭৫ বলে দুই ছক্কা ও পাঁচ চারে অপরাজিত থাকেন ৭০ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৩০৭/২) ১৪৪.২ ওভারে ৫৭৫/৬ ডিক্লে. (ডি জর্জি ১৭৭, স্টাবস ১০৬, বেডিংহ্যাম ৫৯, রিকেলটন ১২, ভেরেইনা ০, মুল্ডার ১০৩*, মুথুসামি ৭০*; হাসান ২৩-১-৮৩-০, নাহিদ ২৪-২-৮৩-১, তাইজুল ৫২.২-৫-১৯৬-৫, মিরাজ ৩৯-২-১৭১-০, মুমিনুল ৪-০-১৫-০, জয় ২-০-১৪-০)

মুল্ডার-মুথুসামির জুটিতে রেকর্ড

সপ্তম উইকেটে বাংলাদেশের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকার সেরা জুটির রেকর্ড গড়েছেন ভিয়ান মুল্ডার ও সেনুরান মুথুসামি। অনায়াসে এগোনোর পথে দুই ব‍্যাটসম‍্যান ভেঙে দিয়েছেন এক ম‍্যাচ আগে গড়া রেকর্ড।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে কাইল ভেরেইনার সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ১১৯ রানের জুটি গড়েছিলেন ভিয়ান মুল্ডার। মুথুসামির সঙ্গে জুটিতে সেটি ভেঙে দিয়ে আরও সামনে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

১৪১ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৬ উইকেটে ৫৫১। জুটির রান এখন ১২৮।

নিজেদের আগের সেরা ছাড়িয়ে দুই ব‍্যাটসম‍্যানই এগিয়ে যাচ্ছেন প্রথম সেঞ্চুরির পথে। মুল্ডার ব‍্যাট করছেন ৮৮ রানে, মুথুসামির রান ৬১।

মুথুসামির পঞ্চাশ

ক‍্যারিয়ার সেরা রান ছাড়িয়ে টেস্ট ক্রিকেটে প্রথম পঞ্চাশের দেখা পেলেন সেনুরান মুথুসামি। নাহিদ রানার বল স্লিপ দিয়ে বাউন্ডারিতে পাঠিয়ে পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি।

এই ম‍্যাচ দিয়ে টেস্টে ফেরা মুথুসামি পঞ্চাত ছুঁতে খেলেছেন ৬২ বল। তিন চারের সঙ্গে মেরেছেন দুটি ছক্কা।

তৃতীয় ও শেষ সেশন দুই পেসার নাহিদ রানা ও হাসান মাহমুদকে দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তাদের অনায়াসেই খেলছেন মুথুসামি ও ভিয়ান মুল্ডার।

বাংলাদেশের হতাশার সেশন

প্রথম সেশনে সমানে সমান লড়াই করা বাংলাদেশ লড়াই করতে পারল না পরের সেশনে। ২৫ ওভারে কেবল ১ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান যোগ করে ছয়শ রানের দিকে এগিয়ে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা।

ওভার প্রতি সাড়ে চারের বেশি করে রান সংগ্রহ করে অনেক বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে গেছে সফরকারীরা।

দ্বিতীয় দিন চা-বিরতিতে যাওয়ার সময় দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৬ উইকেটে ৫২৭।

১১৫ বলে তিন ছক্কা ও ছয় চারে ৭৮ রানে ব‍্যাট করছেন ভিয়ান মুল্ডার। তার সঙ্গে ১০৪ রানের জুটি গড়া সেনুরান মুথুসামি ৫৪ বলে দুটি করে ছক্কা ও চারে ব‍্যাট করছেন ৪৭ রানে।

এই সেশনে একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন পেসার নাহিদ রানা।

৫ উইকেট নেওয়া তাইজুল ইসলাম রান দেওয়ার ডাবল সেঞ্চুরির খুব কাছেই দাঁড়িয়ে। ৩৯ ওভারে ১৭১ রান দিয়ে উইকেটশূন‍্য আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। এখন পর্যন্ত কেবল দুটি ওভার মেডেন নিতে পেরেছেন তিনি।

মুল্ডার-মুথুসামির জুটিতে একশ

আবার বড় একটি জুটি পেয়ে গেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। বাংলাদেশকে ভোগাচ্ছে ভিয়ান মুল্ডার ও সেনুরান মুথুসামির শতরানের সপ্তম উইকেট জুটি।

৭২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়েছিল তাদের জুটি, একশ স্পর্শ করেছে ১২১ বলে। নিজের সেরা পেরিয়ে ক‍্যারিয়ারের প্রথম শতরানের দিকে ছুটছেন মুল্ডার।

আগের সেরা ৪৯ থেকে বেশি দূরের নন মুথুসামি।

১৩৪ ওভারে দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৬ উইকেটে ৫২৫। ৫২ বলে ৪৬ রানে খেলছেন মুথুসামি। ১১১ বলে মুল্ডারের রান ৭৭।

ছক্কার রেকর্ড গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার ৫০০

মাহমুদুল হাসান জয়ের পরপর দুই বলে ছক্কা মারলেন ভিয়ান মুল্ডার। প্রথম ছক্কায় পাঁচশ পূর্ণ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। একইসঙ্গে গড়ল বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংসে সর্বোচ্চ ছক্কার রেকর্ড। 

মেহেদী হাসান মিরাজের পরের ওভারে আরেকটি ছক্কার মারেন সেনুরান মুথুসামি। 

১৩২ ওভার পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার ছক্কা ১৬টি। ২০১৯ সালে ইন্দোর টেস্টে বাংলাদেশের বিপক্ষে ১৩টি ছক্কা মেরেছিল ভারত। পাঁচ বছর পর সেই রেকর্ড নতুন করে লিখল প্রোটিয়ারা।

৬ উইকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ৫১৭ রান। প্রায় ৪ বছর পর টেস্ট ক্রিকেটে পাঁচশ রান করল তারা।   

মুল্ডার ও মুথুসামির অবিচ্ছিন্ন জুটির সংগ্রহ ৯৪ রান। মুল্ডার ৭১ ও মুথুসামি ৪৪ রানে খেলছেন।

মুল্ডারের ফিফটি

কাভার দিয়ে মেহেদী হাসান মিরাজের বল বাউন্ডারিতে পাঠালেন ভিয়ান মুল্ডার। ৪৮ থেকে পঞ্চাশে পৌঁছে গেলেন দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যান। ব্যাট উঁচিয়ে করলেন উদযাপন।

১৬ টেস্টের ক্যারিয়ারে এটি মুল্ডারের দ্বিতীয় ফিফটি। বাংলাদেশের বিপক্ষেই মিরপুরে আগের ম্যাচে পেয়েছিলেন প্রথমটি। ওই ম্যাচে এক ইনিংসে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৫৪ রান করেছিলেন তিনি।

মুল্ডার-মুথুসামির জুটিতে পঞ্চাশ

দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পর আবারও একটি পঞ্চাশ ছোঁয়া জুটি পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই ম‍্যাচ দিয়ে টেস্টে ফেরা সেনুরান মুথুসামিকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন ভিয়ান মুল্ডার।

সপ্তম উইকেটে তাদের পঞ্চাশ এসেছে ৭২ বলে।

তাইজুল ইসলামের বলে সুইপ করে চার মেরে জুটির রান পঞ্চাশে নিয়ে যান মুথুসামি। পরের বলে বেরিয়ে এসে মারেন ছক্কা। তাদের জুটিতে পাঁচশ রানের পথে ছুটছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

পেসে প্রথম শিকার নাহিদ রানার

লাঞ্চের পর দ্রুতই সাফল্যের দেখা পেলেন নাহিদ রানা। সেশনের চতুর্থ ওভারে তিনি ফেরালেন রায়ান রিকেলটনকে।

তাইজুল ইসলামের টানা পাঁচ উইকেটের পর পেস বোলিংয়ে প্রথম সাফল্য এনে দিলেন নাহিদ।

ব্যাক অব লেংথ ডেলিভারি পিচ করে অ্যাঙ্গেলে বেরিয়ে যায়। সামান্য মুভমেন্টও হয়তো আদায় করে নেন নাহিদ। বল বেরিয়ে যাওয়ার মুখে জায়গায় দাঁড়িয়ে চালিয়ে দেন বাঁহাতি রিকেলটন। ব্যাটের কানা ছুঁয়ের বল যায় কিপারের গ্লাভসে।

অভিষিক্ত মাহিদুল ইসলামের প্রথম ডিসমিসাল এটি।

১২ রানে ফেরেন রিকেলটন। দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৬ উইকেটে ৪২৩।

নতুন ব্যাটসম্যান দলে ফেরা সেনুরান মুথুসামি। মূলত বোলিংয়ের জন্য তলে নেওয়া হলেও বাঁহাতি এই স্পিনার ব্যাট হাতেও যথেষ্ট সফল। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৮ সেঞ্চুরিতে রান করেছেন প্রায় ৫ হাজার। তিন টেস্ট খেলে তার সর্বোচ্চ ইনিংস ৪৯ রানের।

বাউন্ডারি দিয়ে শুরু সেশন

স্লিপ, সিলি মিড অফ ও শর্ট কাভারসহ বেশ আক্রমণাত্মক ফিল্ডিং সাজিয়ে দ্বিতীয় সেশনের শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু তাইজুল ইসলামের প্রথম বলেই লেংথ ডেলিভারিতে পুল করে চার মেরেছেন ভিয়ান মুল্ডার।

আরেকপ্রান্তে আক্রমণের শুরুটা করেছেন ফাস্ট বোলার নাহিদ রানা।

সমানে সমান সেশন

তাইজুল ইসলামের হাত ধরে অবশেষে একটা সেশনে সমান তালে লড়তে পারল বাংলাদেশ। দিনের প্রথম ঘণ্টা যদিও ছিল দক্ষিণ আফ্রিকার, তবে পরের ঘণ্টায় ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আগের দিনটা দারুণ কাটানোর সৌজন্যে অবশ্য এখনও শক্ত অবস্থানেই প্রোটিয়ারা।

দ্বিতীয় দিন লাঞ্চ বিরতির সময় দক্ষিণ আফ্রিকার রান ৫ উইকেটে ৪১৩।

সেশনে ২৯ ওভারে ৩ উইকেটে হারিয়ে ১০৬ রান তুলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

টনি ডি জর্জি ও ডেভিড বেডিংহ্যামের ব্যাটে দিনের শুরুটা ভালো করেছিল দক্ষিণ আফ্রিকায়। প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট না হারিয়ে রান ওঠে ৫৯।

বেডিংহ্যামকে ৫৯ রানে বোল্ড করে শতরানের জুটি ভাঙেন তাইজুল। এরপর আরও দুটি উইকেট ধরা দেয় দ্রুত। টনি ডি জর্জির ইনিংস থামে ১৭৭ রানে। আগের টেস্টের সেঞ্চুরিয়ান কাইল ভেরেইনাকে এবার শূন্যতে থামান তাইজুল।

বাংলাদেশের পাঁচ উইকেটের সবকটিই নেন তাইজুল। আরেক স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ ৩১ ওভার বোলিং করেও উইকেট পাননি।

রায়ান রিকেলটন ক্রিজে আছেন ১১ রান নিয়ে, ১২ রানে ভিয়ান মুল্ডার।

দক্ষিণ আফ্রিকার চারশ

দ্রুত তিন উইকেট হারালেও ইতিবাচক ব্যাটিংয়ের চেষ্টা করছেন রায়ান রিকেলটন ও ভিয়ান মুল্ডার। ক্রিজে যাওয়ার পরপরই মেহেদী হাসান মিরাজকে ছক্কা মেরেছেন মুল্ডার, এই অফ স্পিনারের বলেই চার মেরেছেন রিকেলটন। সেই বাউন্ডারিতেই ১০৬তম ওভারের দলের রান স্পর্শ করেছেন চারশ।

বেদির পাশে তাইজুল

কোনো অর্জনে বিষেন সিং বেদির পাশে নাম থাকা মানেই যে কোনো বাঁহাতি স্পিনারের জন্য বড় কিছু। সেই গর্বের ছোঁয়া পেলেন এবার তাইজুল ইসলাম।

মিরপুর টেস্টের প্রথম ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকার করা তাইজুল চট্টগ্রামে দলের প্রথম পাঁচ উইকেটের সবকটিই নিলেন। টেস্টে এটি তার চতুর্দশ পাঁচ উইকেট।

টেস্টে ১৪বার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বিষেন সিং বেদিও, যাকে অনেকেই মনে করেন সর্বকালের সেরা বাঁহাতি স্পিনার।

৬৭ টেস্টের ক্যারিয়ারে ১৪ বার ৫ উইকেট নিয়েছিলেন বেদি। তাইজুল তাকে এখানে ছুঁয়ে ফেলেন ৪৯তম টেস্টেই।

টেস্ট ইতিহাসে বাঁহাতি স্পিনে তাদের চেয়ে বেশি ৫ উইকেট নিতে পেরেছে আর চারজন। ৩৪ বার নিয়ে সবার ওপরে রাঙ্গানা হেরাথ, ২০ বার ড্যানিয়েল ভেটোরি। এরপরই আছেন সাকিব আল হাসান (১৯ বার)। বাঁহাতি স্পিনের আরেক গ্রেট ডেরেক আন্ডারউড এই স্বাদ পেয়েছেন ১৭ বার।

তাইজুলের পাঁচ, সেঞ্চুরি থেকে শূন্য ভেরেইনা

হুট করেই যেন ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলেন তাইজুল ইসলাম। দক্ষিণ আফ্রিকার ইনিংস আচমকাই নড়ে গেল একটু। থিতু হওয়া ডেভিড বেডিংহ্যাম ও টনি ডি জর্জিকে ফেরানোর পর কাইল ভেরেইনাকেও দ্রুত থামিয়ে দিলেন তাইজুল। আরও একবার তিনি পেলেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ।

আগের টেস্টে দারুণ সেঞ্চুরি করে ম্যাচ সেরা হওয়া ভেরেইনা এবার ফিরলেন শূন্য রানে।

ডি জর্জির মতো ভেরেইনাও আউট হলেন সুইপের চেষ্টায়। মিরপুর টেস্টে সুইপ শটে দারুণ সফল ছিলেন তিনি। এবার ব্যর্থ হলেন শুরুতেই। ভেরেইনা সুইপ করবেন বুঝতে পেরেই হয়তো একটু টেনে ডেলিভারি করেছিলেন তাইজুল। সুইপের জন্য বলটি ছিল ব্যাটসম্যানের একটু বেশিই কাছাকাছি। ভেরেইনা তাই ব্যাটে-বলে করতে পারেননি। আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।

ভেরেইনা রিভিউ নেন। কিন্তু রক্ষা পাননি। আবারও বল লাগছিল মিডল স্টাম্পে।

পাঁচ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারাল দক্ষিণ আফ্রিকা। পাশাপাশি হারাল টানা দুটি রিভিউ।

প্রোটিয়াদের রান ৫ উইকেটে ৩৯১। রায়ান রিকেলটনের সঙ্গে উইকেটে যোগ দিলেন ভিয়ান মুল্ডার।

মিরপুর টেস্টের পর চট্টগ্রামেও পাঁচ উইকেট নিলেন তাইজুল।

অবশেষে বিদায় ডি জর্জির

বড় জুটির পর একটি উইকেটের পথ ধরে আরও উইকেট ধরা দেয় অনেক সময়ই। এবারও দেখা গেল তেমন কিছু। ডেভিড বেডিংহ্যামকে বিদায় করার পর টনি ডি জর্জির দুর্দান্ত ইনিংসও থামালেন তাইজুল ইসলাম।

ধ্রপদি বাঁহাতি স্পিনের প্রদর্শনী ছিল তাইজুলের ডেলিভারিটি। বাঁহাতি ব্যাটসম্যানকে রাউন্ড দা উইকেটে ঝুলিয়ে বল করেন তাইজুল। ইনিংসজুড়ে সুইপ শট দারুণ খেলতে থাকা ডি জর্জি আবারও চেষ্টা করেন এই শট খেলার। কিন্তু এবার ফ্লাইট ও লুপ পড়তে ভুল করেন তিনি। বল লাগে প্যাডে।

আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার। ডি জর্জি নেন রিভিউ। কিন্তু রিভিউয়ে দেখা যায়, বল লাগছিল মিডল স্টাম্পে।

ডি জর্জির প্রথম সেঞ্চুরির ইনিংস থামল ১৭৭ রানে। ২৬৯ বলের ইনিংসে ১২ চার ও ৪টি ছক্কা মেরেছেন তিনি।

বাংলাদেশের চার উইকেটের সবকটি নিলেন তাইজুল। ক্রিজে এখন দুজনই নতুন ব্যাটসম্যান। রায়ান রিকেলটনের সঙ্গী কাইল ভেরেইনা।

ছক্কা এবং শেষ

দারুণ আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ডেভিড বেডিংহ্যাম। কিন্তু অতি আত্মবিশ্বাসী বুঝি কাল হলো তার। তাইজুল ইসলামকে ছক্কা মারার পরের বলেই বড় শটের চেষ্টায় বোল্ড হয়ে গেলেন তিনি।

আগের দিন থেকেই স্পিনের বিপক্ষে দুর্দান্ত খেলছিলেন বেডিংহ্যাম। বিশেষ করে, তার পায়ের কাজ ছিল দেখার মতো। নতুন দিনেো সেভাবেই খেলছিলেন তিনি। আউট হওয়ার আগেই ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে ছক্কায় ওড়ান তাইজুলকে, তার চতুর্থ ছক্কা ছিল সেটি। কিন্তু এরপরই থেমে যায় পথচলা।

সামনের পা সরিয়ে মিড উইকেট দিয়ে তাইজুলকে উড়িয়ে মারার চেষ্টা করেন বেডিংহ্যাম। কিনতু বলের পিচ পর্যন্ত তিনি যেতে পারেননি। বরং বল পিচ করে 'উইথ দা আর্ম' একটু ভেতরে ঢুকে ছোবল দেয় স্টাম্পে।

বেডিংহ্যামের সাবলীল ইনিংস থামল ৭৮ বলে ৫৯ রান করে। ডি জর্জির সঙ্গে তার জুটি শেষ হলো ১১৬ রানে।

নতুন ব্যাটসম্যান রায়ান রিকেলটন।

বেডিংহ্যামের ফিফটি

মেহেদী হাসান মিরাজের বলে সিঙ্গেল নিয়ে ৭০ বলে ফিফটি স্পর্শ করলেন ডেভিড বেডিংহ্যাম। আগের দিন দুটি ছক্কা মারা ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় দিন সকালেও একটি ছক্কা মারেন তাইজুল ইসলামকে। তিন ছক্কার পাশে তার ইনিংসে চার দুটি।

অষ্টম টেস্ট খেলতে নামা ব্যাটসম্যানের তৃতীয় ফিফটি এটি। সেঞ্চুরি আছে একটি।

ডি জর্জির দেড়শ

তাইজুলের বলে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে বল সীমানা ছাড়া করলেন টনি ডি জর্জি। দ্বিতীয় দিনে তার প্রথম বাউন্ডারি এটি। এই শটেই তিনি পা রাখলেন দেড়শতে।

১১ চার ও ২ ছক্কায় ২৩৫ বলে দেড়শ হলো তার। পরের বলে বাউন্ডারি মারেন তিনি আরেকটি।

জুটির ফিফটি

আঁটসাঁট বোলিংয়ে দ্বিতীয় সকালের শুরুটা করে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার দুই ব্যাটসম্যানও কোনো ঝুঁকি না নিয়ে কাটিয়ে দিতে চেয়েছেন শুরুর সময়। প্রথম পাঁচ ওভারে রান ওঠে ১০।

ষষ্ঠ ওভারে হাসান মাহমুদ একটু বাইরে ডেলিভারি করায় সুযোগ পেয়ে দিনে প্রথম বাউন্ডারি আদায় করেন ডেভিড বেডিংহ্যাম। ওই শটেই টনি ডি জর্জির সঙ্গে তার জুটি পেরিয়ে যায় পঞ্চাশ।

জুটিতে ডি জর্জির রান ২৩, বেডিংহ্যামের ২৮।

এই নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম তিন জুটিই স্পর্শ করে ফিফটি।

সকালেই আম্পায়ারের ভুল

দিনের দ্বিতীয় ওভারে হাসান মাহমুদের হালকা ভেতরে ঢোকা বল ঠিকমতো খেলতে পারেননি ডেভিড বেডিংহ্যাম। বল লাগে তার প্যাডে। বাংলাদেশের জোরাল আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার জোয়েল উইলসন। তবে ব্যাটসম্যান রিভিউ নেন সঙ্গে সঙ্গেই।

রিভিউয়ে দেখা যায়, প্যাডে লাগার আগে ব্যাট বেশ ভালেভাবেই লাগে ব্যাটে। বেশ শব্দও হয় ব্যাটে লাগার। ব্যাটে লাগার ব্যাপার এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, তৃতীয় আম্পায়ার এমনকি আল্ট্রা-এজ দেখার প্রয়োজনও মনে করেননি।

বাংলাদেশের উল্লাস থেমে যায় দ্রুতই।

পেস-স্পিনের যুগলবন্দি

প্রথম দিন শেষ বিকেলে দ্বিতীয় নতুন বলে প্রথম ওভারটি করেছিলেন অফ স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। দ্বিতীয় দিন সকালে প্রথম ওভারটি করলেন বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম।

আরেক প্রান্তে অবশ্য নতুন বলে শুরু করলেন পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম বলে একটু মুভমেন্টও পেলেন তিনি।

ব্যাটিং উইকেট

দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরুর আগে পিচ রিপোর্টে আতহার আলি খান বললেন, উইকেট এখনও প্রথম দিনের মতোই মনে হচ্ছে তার কাছে। ছোট্ট কয়েকটি চিড় তার চোখে পড়েছে, তবে তা মোটেও দুর্ভাবনার পড়ায় মতো কিছু নয়। তার মতে, উইকেট দ্বিতীয় দিনেও থাকবে ব্যাটিং স্বর্গ।

দক্ষিণ আফ্রিকার সেঞ্চুরিয়ান টনি ডি জর্জির মতে, এই উইকেট ঢাকার মতো এতটা শক্ত নয়। সময়ের সঙ্গে এখানে টার্ন মিলতে পারে তৃতীয় বা চতুর্থ দিনে।

বাংলাদেশের চাওয়া

দ্বিতীয় দিন শুরুর আগে তাইজুল ইসলাম বললেন, দক্ষিণ আফ্রিকার রানকে তারা নাগালের বাইরে যেতে দিতে চান না।

“টেস্ট ক্রিকেটে অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে। চ্যালেঞ্জের মোকাবেলা আমরা কীভাবে করছি, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রামের উইকেট বরাবরই ব্যাটিং সহায়ক। এখানে ধৈর্য রাখতে হবে। শৃঙ্খলা রেখে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ব্রেক থ্রু আনা আমাদের লক্ষ্য। প্রথম ইনিংসে ওরা যাতে অনেক বেশি রান করতে না পারে, এটাই লক্ষ্য আমাদের।”

ডি জর্জির শতরানের স্বস্তি

প্রথম দিনে ১৪১ রানে অপরাজিত থাকা টনি ডি জর্জি দ্বিতীয় দিন শুরুর আগে টিভি সম্প্রচারে শোনালেন তার প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরির অনুভূতি ও কন্ডিশনের সঙ্গে লড়াইয়ের গল্প।  

“কালকে পায়ে ক্র্যাম্প করেছিল। আসলে অনেক গরম ছিল, তাপমাত্রা ছিল তীব্র, প্রচুর পানি বেরিয়ে গেছে। তববু চেষ্টা করে গেছি দলের জন্য। ট্রিস্টান স্টাবস কিছু কৌতুক করেছে, মজা করে আমার মাথা ঠিক রেখেছে। এখন সব ঠিক আছে।”

“প্রথম সেঞ্চুরিটি নিয়ে অনেক ভাবনা ছিল আমার। বড় একটা স্কোরের অপেক্ষায় ছিলাম। জানতাম এটি আসবেই। খুবই খুশি যে সেটির দেখা পেয়েছি এবং এবং দলকে ভালো অবস্থানে নিতে পেরেছি।

বড় স্কোরে চোখ দক্ষিণ আফ্রিকার

টস জিতে যে লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা, প্রথম দিনে তা পূরণ হয়েছে ভালোভাবেই। এখন এই ভিতকে কাজে লাগিয়ে রানের পাহাড় গড়ে তোলার চেষ্টা করবে তারা। 

১৪১ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করা টনি ডি জর্জি চেষ্টা করবেন তার প্রথম সেঞ্চুরিটিকে দ্বিশতকে রূপ দিতে। তার সঙ্গী ডেভিড বেডিংহ্যাম দিন শুরু করবেন ১৮ রান নিয়ে। আগের দিন বেশ ইতিবাচক শুরু করেছেন তিনি। দুটি ছক্কা মেরে ফেলেছেন এর মধ্যেই।

আপাতত দুই ব্যাটসম্যানের প্রথম লক্ষ্য থাকবে সকালে দ্বিতীয় নতুন বল নির্বিঘ্নে পার করে দেওয়া।

নতুন সকালে নতুন আশা

টস হেরে বোলিংয়ে নেমে প্রথম দিনে মোটেও সুবিধে করতে পারেনি বাংলাদেশ। ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে বোলারদের কাজটা ছিল এমনিতেই কঠিন। বাংলাদেশের পেস ও স্পিনে ছিল না ততটা ধার। দুই সেঞ্চুরিয়ান ডনি ডি জর্জি ও ট্রিস্টান স্টাবসকে দ্রুত ফেরানোর সুযোগ হাতছাড়া করেন অভিষিক্ত কিপার মাহিদুল ইসলাম। সব মিলিয়ে প্রথম দিনে বড় স্কোরের ভিত গড়ে ফেলেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।

২ উইকেটে ৩০৭ রান নিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে প্রোটিয়ারা।

দ্বিতীয় দিনে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় মাঠে নামবে বাংলাদেশ। বড় ভরসা এখানে দ্বিতীয় নতুন বল। প্রথম দিন শেষ বিকেলে পাওয়া সেই বলে স্রেফ একটি ওভার খেলা হয়েছে। সকালে যদি কিছুটা আর্দ্রতা থাকে উইকেটে এবং পেসাররা যদি কাজে লাগাতে পারেন দ্বিতীয় নতুন বল, নতুন কিছু হতেও পারে!