২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪ আশ্বিন ১৪৩৩

‘প্রতিদিন প্যান্ট বদলানোর মতো’ সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান

পাকিস্তানের টিম ম্যানেজমেন্টকে ধুয়ে দিয়েছেন দলটির সাবেক প্রধান কোচ জেসন গিলেস্পি।

‘প্রতিদিন প্যান্ট বদলানোর মতো’ সিদ্ধান্ত বদলায় পাকিস্তান
জেসন গিলেস্পি। ছবি: ক্রিকেট পাকিস্তান।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 04 Sep 2026, 09:48 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:54 AM

ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানো ক্রিকেটারদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন জেসন গিলেস্পি। সালমান আলি আগাদের প্রতি টিম ম্যানেজমেন্টের আচরণের তীব্র সমালোচনা করেছেন তিনি। দলটির সাবেক প্রধান কোচ বলেছেন, প্যান্ট বদলানোর মতো প্রতিদিন সিদ্ধান্তও বদলায় পাকিস্তানের কর্তারা।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই টেস্টে হারের পর দলে বড়সড় পরিবর্তন আনে পাকিস্তান। সেই রদবদলে তৃতীয় টেস্টের আগে সাতজন ক্রিকেটারকে দেশে ফেরত পাঠায় তারা। দলে ডাকে টেস্টে অভিষেকের অপেক্ষায় থাকা পাঁচজনকে।

বাদ পড়া ক্রিকেটারদের একজন হলেন সালমান। বাবর আজমের অনুপস্থিতিতে যিনি লিডসে সিরিজের প্রথম টেস্টে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ওই ম্যাচে ইনিংস ও ১০৩ রানে হারে সফরকারীরা। ভালো করতে পারেননি সালমান নিজেও, আউট হন ২১ ও ৪ রানে। এতে পরের টেস্টের একাদশেই আর জায়গা হয়নি তার।

কোড স্পোর্টসকে অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার গিলেস্পি বলেন, দলে জায়গা হারানোর ভীতি নিয়ে খেলে পাকিস্তানের ক্রিকেটাররা।

“খেলোয়াড়দের জন্য খারাপ লাগছে। এটা এই ছেলেদের জন্য জীবিকা। বাইরে থেকে মনে হচ্ছে, তারা ভয় নিয়ে খেলছে।

“ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অধিনায়কত্ব করার পর সালমান আলি আগা দ্বিতীয় টেস্টে বাদ পড়ল, এরপর তৃতীয় টেস্টের আগে তাকে দেশে ফেরার বিমানে তুলে দেওয়া হলো। এমনটা কীভাবে হয়?”

শুধু খেলোয়াড় বাদ দিয়ে ক্ষান্ত থাকেনি পাকিস্তান। তারা বরখাস্ত করেছে গত এপ্রিলে নিয়োগ দেওয়া টেস্ট দলের প্রধান কোচ সারফারাজ আহমেদকে। তার নেতৃত্বে ২০১৭ সালে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছিল পাকিস্তান।

সারফারাজের জায়গায় সাদা বলের প্রধান কোচ মাইক হেসন টেস্ট দলের দায়িত্ব দিয়েছে পাকিস্তান। উমর গুলকে সরিয়ে অ্যাশলি নফকে বোলিং কোচ করেছে তারা। এরই মধ্যে দলের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন এই দুইজন।

গিলেস্পির মতে, মাঠে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স পেতে হলে মাঠের বাইরেও ধারাবাহিক থাকতে হয়।

“মাঠে ধারাবাহিকতা চাইলে, মাঠের বাইরেও ধারাবাহিক থাকতে হবে। বিষয়টি বোর্ড পর্যায়, দল নির্বাচন এবং কোচিং প্যানেল—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।”

সিরিজ চলাকালে এমন ‘নজিরবিহীন’ সিদ্ধান্ত নিয়ে গোটা ক্রিকেট বিশ্বে পাকিস্তানকে নিয়ে সমালোচনা ও হাসাহাসি চলছে। এর পেছনে প্রধান নির্বাচক ও পিসিবির হাই পারফরম্যান্স পরিচালক আকিব জাভেদকে দায়ী করছেন গিলেস্পি।

“এটা বেশ পরিষ্কার যে তাদের কোনো নির্বাচন কৌশলই নেই, বিশেষ করে আকিব জাভেদের অধীনে। তারা প্রতিদিন নিজেদের সিদ্ধান্ত বদলায়- যেভাবে প্রতিদিন প্যান্ট বদলায়।

“যেসব খেলোয়াড়কে বাদ দেওয়া হয়েছে, তারা বিষয়টি পরিবার, বন্ধু ও গণমাধ্যমের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। এর চেয়ে অসম্মানজনক আর কী হতে পারে?” 

দুই বছর ধরে পাকিস্তান ক্রিকেটের নানা দায়িত্ব পালন করে আসছেন ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী পেসার আকিব। এই সময়ে গিলেস্পি এবং গ্যারি কার্স্টেনসহ বেশ কয়েকজন কোচ এসেছেন এবং চলে গেছেন। দল নির্বাচন ও হাই-পারফরম্যান্সের দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি অল্প সময়ের জন্য কোচিংয়ের দায়িত্বও পালন করেছিলেন।

২০২৪ সালের আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত আটটি টেস্ট সিরিজের মধ্যে মাত্র একটিতে জিতেছে পাকিস্তান। সেই জয়টি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে, গিলেস্পির কোচিংয়েই এসেছিল।

পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের প্রতি মুগ্ধতা এখনও অটুট আছে গিলেস্পির।

“সেখানকার ক্রিকেট প্রতিভা বিশ্বের যেকোনো জায়গার মতো সেরা। এই খেলোয়াড়দের কেবল মাঠের বাইরে সঠিক সমর্থন প্রয়োজন।”

আগামী বুধবার শুরু হবে পাকিস্তান-ইংল্যান্ডের সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টেস্ট।