১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

ছক্কায় শিবলির সেঞ্চুরির পর শাহাদাতের লড়াই

চট্টগ্রামে প্রোটিয়াদের বিপক্ষে স্ট্রোকসমৃদ্ধ সেঞ্চুরি উপহার দিয়েছেন আশিকুর রহমান শিবলি, লড়িয়ে ইনিংস খেলে অপরাজিত শাহাদাত হোসেন।

ছক্কায় শিবলির সেঞ্চুরির পর শাহাদাতের লড়াই
ছক্কা মেরে শতরান পেরিয়ে শিবলির উদযাপন। ছবি: বিসিবি।

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 20 May 2025, 07:04 PM

Updated : 10 Sep 2026, 12:42 PM

শেপো এনটুলিকে স্কয়ার কাট করে চার মেরে ফিফটি পেরিয়েছিলেন আশিকুর রহমান শিবলি। শতরানের দুয়ারে গিয়েই এই অফ স্পিনারকেই পেলেন তিনি। মাইলফলকের কাছে গিয়ে কোনো জড়তা বা অস্বস্তি দেখা গেল না। ৯৮ রানে দাঁড়িয়ে ঝুলিয়ে দেওয়া বল জায়গায় দাঁড়িয়ে উড়িয়ে দিনে লং অফের ওপর দিয়ে। ছক্কা মেরে সেঞ্চুরি!

শিবলিকে থামাতে পারছিলেন না কোনো বোলারই। কিন্তু সেঞ্চুরির একটু পরই রান আউট হয়ে গেলেন তিনি শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে। সেই ধাক্কা সামাল দিয়ে শাহাদাত লড়ে গেলেন দিনের শেষ পর্যন্ত। 

চট্টগ্রামের ফ্লা. লে. বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে প্রথম চার দিনের ম্যাচের বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে খেলা হয়েছে ৭০ ওভার। দক্ষিণ আফ্রিকা ইমার্জিং দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের রান ৪ উইকেটে ২৩৩। 

ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে টস জিতে ব্যাটিং নেন বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের অধিনায়ক শাহাদাত। দলকে ভালো শুরু এনে দেন শিবলি ও চৌধুরি মোহাম্মদ রিজওয়ান। যদিও দুজনের ব্যাটিংয়ে ধরন ছিল পুরো উল্টো।

তৃতীয় ওভারে টিয়ান মাইকেল ফন ফুরেনকে দৃষ্টিনন্দন দুটি ড্রাইভে চার মারার পর যে ডানা মেলে দেন শিবলি। ফন ফুরেনের পরের ওভারে চার মারেন তিনটি। 

প্রথম ছয় ওভারে ছয় বাউন্ডারিতে ২০ বলে ২৯ রান করে ফেলেন শিবলি। দলের পঞ্চাশ আসে নবম ওভারেই।

সাবলীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন শিবলি। ছবি: বিসিবি।

সাবলীল ব্যাটিংয়ে সেঞ্চুরি করেন শিবলি

আরেকপ্রান্তে রিজওয়ান বেশ ধুঁকছিলেন। শিবলির সৌজন্যে তবু গড়ে ওঠে ভালো জুটি।

সেই জুটি থামে ৬৯ রানে। আক্রমণে এসে প্রথম ওভারেই রিজওয়ানকে এলবিডব্লিউ করেন এনটুলি। 

৪৩ বল খেলে ১২ রান করে ফেরেন রিজওয়ান, তখন শিবলির রান ৪৫ বলে ৪৭। 

এনটুলির পরের ওভারেই চার মেরে শিবলির ফিফটি আসে ৪৮ বলে। 

দ্বিতীয় উইকেটে আইচ মোল্লাকে নিয়ে শিবলি গড়েন ৬৮ রানের জুটি। তিনে নেমে বেশ স্বচ্ছন্দেই খেলছিলেন আইচ। কিন্তু ফন ফুরেনের একটি বলের লাইন বুঝতে তিনি গড়বড় করে বসেন। ভেতরে ঢোকা বল ছেড়ে দিয়ে এলবিডব্লিউ হন ২৪ রান করে। 

শিবলি এগিয়ে যান প্রোটিয়াদের কোনো বোলারকে পাত্তা না দিয়ে। এনটুলির এক ওভারে চার ও ছক্কায় শতরান স্পর্শ করেন ১৩৪ বলে। 

একটু পর রান আউটে থামে ১৬ চার ও ১ ছক্কার ইনিংসটি। 

এরপর আরিফুল ইসলামের দ্রুত বিদায়ে একটু বিপাকে পড়ে যায় বাংলাদেশ ইমার্জিং। আন্দিলে সিমেলানের অফ স্টাম্পের বাইরের বল দ্বিধায় পড়ে খোঁচা দিয়ে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি (৩)। দলের রান তখন ৪ উইকেটে ১৭৫।

সেখান থেকে আর কোনো বিপদ হতে দেননি শাহাদাত ও প্রিতম কুমার। বৃষ্টিতে দিনের খেলা শেষ হয় আগেভাগেই। 

বাংলাদেশের হয়ে ছয় টেস্ট খেলে স্রেফ ১৫.৮৩ গড়ে ১৯০ রান তুলে জায়গা হারানো শাহাদাত নিজেকে ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন ইমার্জিং দলের হয়ে। কঠিন লড়াইয়ে ক্রিজ আঁকড়ে রেখে দিন শেষ করেন তিনি ১২১ বলে ৪২ রান নিয়ে। কিপার-ব্যাটার প্রিতম ক্রিজে আছেন ৫৯ বলে ৩১ রান নিয়ে। 

বাংলাদেশ ইমার্জিং দল: ৭০ ওভারে ২৩৩/৪ (শিবলি ১০৪, রিজওয়ান ১২, আইচ ২৪, শাহাদাত ৪২*, আরিফুল ৩, প্রিতম ৩১*; ফন ফুরেন ১১-২-৪২-১, মোকোয়েনা ১০-৩-২৯-০, ফরেস্টার ৯-১-২৪-০, এনটুলি ২১-২-৮০-১, সিমেলানে ৯-১-২১-১, মোগাকানে ৪-১-১৩-০, ফন হিয়ারডিন ৬-০-১৬-০)।