ম্যাথিউস ও চান্দিমালের সেঞ্চুরিতে শ্রীলঙ্কার বড় লিড
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে ২১২ রানে এগিয়ে আছে লঙ্কানরা।
দিনের শেষ ওভারের খেলা চলছিল। লেগ স্পিনার কাইস আহমেদের দ্বিতীয় ডেলিভারিটি ব্যাকফুটে গিয়ে লেগ সাইডে সজোরে পুল করলেন অ্যাঞ্জেলো ম্যাথিউস। ব্যাট চালানোর গতি এতটাই বেশি ছিল যে, নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। ব্যাট আঘাত করে স্টাম্পে। হিট উইকেট! তবে শেষটা হতাশার হলেও ততক্ষণে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের রান দেড়শর কাছে। সঙ্গে দিনেশ চান্দিমালের দারুণ শতকে আফগানিস্তানের বিপক্ষে বড় লিড পেয়ে গেছে লঙ্কানরা।
কলম্বোয় একমাত্র টেস্টে ৬ উইকেটে ৪১০ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ইনিংসে আফগানদের ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়া স্বাগতিকরা এগিয়ে আছে ২১২ রানে।
দিনের শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে ওভাবে আউট হওয়ার আগে ম্যাথিউস করেন ১৪১ রান। টেস্টে এটি তার ১৬তম সেঞ্চুরি। তার ২৫৯ বলের ইনিংস সাজানো ছিল ৩ ছক্কা ও ১৪ চারে।
শ্রীলঙ্কার হয়ে টেস্টে ‘হিট উইকেট’ আউট হওয়ার নবম নজির গড়েন তিনি।
ক্যারিয়ারের পঞ্চদশ টেস্ট সেঞ্চুরিতে চান্দিমাল খেলেন ১ ছক্কা ও ১০ চারে ১৮১ বলে ১০৭ রানের ইনিংস।
চতুর্থ উইকেটে দুজন গড়েন ২৩২ রানের জুটি। সিংহলিজ স্পোর্টস ক্লাব মাঠে চতুর্থ উইকেট জুটিতে যা সর্বোচ্চ।
উইকেটে এ দিন বোলারদের জন্য ছিল না তেমন কোনো সহায়তা। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যাট হাতে নিজেদের পুরোপুরি মেলে ধরতে পারেননি লঙ্কান টপ অর্ডাররা। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮০ রানে শনিবার দিন শুরু করা দলটি ১১৫ রানে হারিয়ে ফেলে দুই উইকেট।
৩৬ রান নিয়ে খেলতে নামা নিশান মাদুশকা এক রান যোগ করতেই বিদায় নেন লেগ স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। শর্ট বলের ফাঁদে পা দিয়ে লং লেগে ধরা পড়েন কুসাল মেন্ডিস।
দল দ্রুত দুই উইকেট হারালেও আগ্রাসী ব্যাটিং চালিয়ে যান দিমুথ কারুনারাত্নে। ৪৪ বলে ফিফটি করা অভিজ্ঞ ওপেনারের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায় ব্যাটিংয়ের ওই ধরনই। কাইসের নিরীহ ফুল টস বলটি জায়গায় দাঁড়িয়ে মাঠের যেকোনো প্রান্তে খেলতে পারতেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। কিন্তু উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় তালগোল পাকিয়ে ফেলেন তিনি। ব্যাটে-বলে ঠিকমতো খেলতে না পেরে ধরা পড়েন শর্ট মিড উইকেটে। শেষ হয় ১২ চারে তার ৭২ বলে ৭৭ রানের ইনিংস।
এরপর শুরু ম্যাথিউস ও চান্দিমালের চমৎকার জুটির পথচলা। দুইজনেই দেখেশুনে খেলে গড়তে থাকেন ইনিংস। কেবল আলগা ডেলিভারিগুলোকেই শাস্তি হিসেবে পাঠান বাউন্ডারিতে। তাদের ব্যাটে দিনের প্রথম সেশন কাটিয়ে দেয় শ্রীলঙ্কা।
ম্যাথিউস ও চান্দিমাল মনোযোগ হারাননি লাঞ্চ বিরতির পরও। নিজেদের মতো করে খেলতে থাকেন তারা। তাদের বিপক্ষে তেমন কোনো সুযোগই তৈরি করতে পারেননি আফগানিস্তানের বোলাররা। শততম বলে ফিফটি পূর্ণ করেন ম্যাথিউস। ৮৩ বলে চান্দিমাল পঞ্চাশে পা রাখার সঙ্গে তাদের জুটির রানও স্পর্শ করে একশ।
দ্বিতীয় সেশনেও এই দুইজনের প্রতিরোধ ভাঙতে পারেননি আফগানিস্তানের বোলাররা। ২৮৭ রান নিয়ে চা বিরতিতে যায় শ্রীলঙ্কা। ততক্ষণে লিড পায় একশ হয়ে গেছে স্বাগতিকদের।
তৃতীয় সেশনে আফগানিস্তান নতুন বল নেওয়ার আগে দিয়ে কাঙ্ক্ষিত তিন অঙ্কে পা রাখেন ম্যাথিউস।
সবশেষ গত বছরের এপ্রিল টেস্ট সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়েছিলেন তিনি। শ্রীলঙ্কার হয়ে এই সংস্করণে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরির তালিকায় যৌথভাবে চতুর্থ স্থানে তিনি।
কয়েক ওভার পর ১৬৮ বলে সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন চান্দিমাল। কিন্তু ইনিংসটি এরপর বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেননি তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা দিয়ে কিপারের গ্লাভসে ধরা পড়েন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
পরের বলেই আরেকটি ধাক্কা খায় লঙ্কানরা। টেস্ট অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার ব্যাটিং করতে নেমে ‘গোল্ডেন ডাক’-এর তেতো স্বাদ পান ধানাঞ্জয়া ডি সিলভার। তিনি। ম্যাথিউসের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে যান তিনি।
এরপর সাদিরা সামারাউইক্রামাকে নিয়ে দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন ম্যাথিউস। তাদের আস্থাশীল ব্যাটিং দেখে মনে হচ্ছিল অবিচ্ছিন্ন থেকেই দিন শেষ করবেন। কিন্তু দিনের শেষ ওভারে ম্যাথিউস ঘটিয়ে বসেন ওই কাণ্ড।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ১৯৮
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ১০১.২ ওভারে ৪১০/৬ (আগের দিন ৮০/০) (মাদুশকা ৩৭, কারুনারাত্নে ৭৭, মেন্ডিস ১০, ম্যাথিউস ১৪১, চান্দিমাল ১০৭, ধানাঞ্জয়া ০, সামারাউইক্রামা ২১*; মাসুদ ১৬-৩-৫৯-১, সালিম ১২.১-০-৫৭-০, নাভিদ ১৮.৫-৩-৮০-২, জিয়াউর ২৮-২-৯০-০, কাইস ২১.২-২-৯৩-২, রেহমাত ৩-০-১০-০, শাহিদি ২-০-১১-০)
