Published : 10 Aug 2026, 07:40 PM
মোহাম্মদ রুবেলের পরিচয় মূলত ‘মিস্ট্রি স্পিনার।’ তার বোলিংয়ে ব্যাটসম্যানদের খাবি খাওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে মালেয়েশিয়ার ব্যাটসম্যানদের জন্য রহস্য হয়ে উঠলেন বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্সের অন্য বোলাররাও। লড়ার মতো স্কোর তাই গড়তেই পারলেন না তারা। ছোট সেই লক্ষ্যে বাংলাদেশ ঝড়ের বেগে পৌঁছে গেল জিসান আলমের বিধ্বংসী ফিফটিতে।
দুই ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের জয় ৭ উইকেটে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে সফরকারী দলটি হেরেছিল ৮৯ রানে।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে সোমবার টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ ওভারে কেবল ৩ উইকেট হারালেও মাত্র ১০৫ রান তুলতে পারে মালেয়েশিয়া। রান তাড়ায় বাংলাদেশ এইচপি জিতে যায় স্রেফ ৭.৪ ওভারেই।
৭ ছক্কায় ২১ বলে ৫৭ রানের ইনিংস খেলে ম্যান অব দা ম্যাচ জিসান। তবে পুরস্কারটি অনায়াসেই পেতে পারতেন রুবেল। ৪ ওভারে স্রেফ ৯ রান দিয়ে ১টি উইকেট নিয়েছেন এই স্পিনার। প্রথম ম্যাচেও তিনি ছিলেন দুর্বোধ্য।
ছোট লক্ষ্য তাড়ায় ঝড়ের শুরুটা করেন জিসানের সঙ্গী জাওয়াদ আবরার। ইনিংসের দ্বিতীয় বলটিই তিনি উড়িয়ে দেন ছক্কায়, চতর্থ বলে মারেন চার। পরের ওভারে চার ও ছক্কা মারেন টানা দুই বলে। পুনরাবৃত্তির চেষ্টায় পরের বলে থামে তার ক্যামিও ইনিংস (৮ বলে ২৩)।
নতুন ব্যাটসম্যান আরিফুল ইসলাম একটি চার মেরে আউট হয়ে যান পরের বলেই। আরিফ উল্লাহর দুর্দান্ত এক ডেলিভারি স্কিড করে হালকা সুইং করে বেরিয়ে আরিফুলের ডিফেন্সকে ফাঁকি দিয়ে ছোবল দেয় স্টাম্পে।
লক্ষ্য সহজ ছিল বলে জোড়া ধাক্কাতেও বিপদে পড়েনি বাংলাদেশ এইচপি। উল্টো জিসানের তাণ্ডবে দিশেহারা হয়ে পড়ে মালেশিয়ান বোলাররা। তৃতীয় উইকেটে ৫০ রানের জুটি আসে ২২ বলে।
তবে সেই জুটিতে সাব্বির রহমান ছিলেন এরকরকম দর্শক। আগের ম্যাচে ব্যর্থ অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এ দিনও পারেননি ভালো কিছু করতে। সীমানায় ধরা পড়ে থামে তার ৮ বলে ১২ রানের ইনিংস।
১৯ বলে ফিফটি করা জিসান দলের জয় সঙ্গে নিয়ে ফেরেন। শেষ দিকে কিছুটা ব্যাটিংয়ের সুযোগ পান জাতীয় দলে জায়গা হারানো শামীম হোসেন।
জাওয়াদ-জিসানের ব্যাটিংয়েই পরিষ্কার, উইকেট কঠিন ছিল না ব্যাটসম্যানদের জন্য। তবে ম্যাচের প্রথম ভাগে সেখানেই রান তুলতে ধুঁকেছে মালেয়েশিয়ার ব্যাটসম্যানরা।
প্রথম তিন ওভারে ১৪ রান তোলা দল প্রথম উইকেট হারায় চতুর্থ ওভারে। রুবেলের বল কিছুই বুঝতে না পেরে বোল্ড হন ধুঁকতে থাকা সাইফ উল্লাহ মালিক। আরেক ওপেনার আসলাম খান বিন মালিককে বোল্ড করেন বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল।
তৃতীয় উইকেটে সৈয়দ আজিজ ও আহমেদ আকিল গড়েন অর্ধশত রানের জুটি। তবে আগের ধসের স্মৃতির শঙ্কা থেকেই কি না, দুজনই ছিলেন অতি সাবধানী। ব্যাটিংয়ে ছিল না টি-টোয়েন্টির গতি কিংবা দ্রুত রান তোলার তাড়না। ৫৮ রানের জুটিতে বল খেলে ফেলেন দুজন ৬৪টি!
দুটি ছক্কা মারলেও ৩০ রান করতে ৩৩ বল লাগে আকিলের। অধিনায়ক আজিজ তো ছিলেন আরও মন্থর। তার ৪০ রান আসে ৫২ বলে।
বাংলাদেশ থেকে জীবিকার সন্ধানে মালেয়েশিয়ায় গিয়ে জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া নাজমুস সাকিবকে রাখা হয়নি এই ম্যাচের একাদশে। শেষ দিকে শারভিন মুনিয়ান্দি ৭ বলে ১১ করে কোনোরকমে দলকে একশ পার করান।
অনুমিতভাবেই সেই পুঁজি লড়াই করতে পারেনি মালেয়েশিয়ার বোলাররা।
ড্যাভ হোয়াটমোরের কোচিংয়ে খেলতে আসা দলটি এখন তিনটি একদিনের ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
মালয়শিয়া: ২০ ওভারে ১০৫/৩ (আসলাম ১৮, সাইফ ০, আজিজ ৪০, আকিল ৩০, মুনিয়ান্দি ১১*, ভিজায় ২*; আবু হায়দার ৪-১-২০-২, রুবেল ৪-১-৯-১, সাকলাইন ৪-০-২৯-০, রকিবুল ২-০-৭-১, মেহরব ৪-০-৩২-০, জিসান ২-০-৭-০)
বাংলাদেশ এইচপি দল: ৭.৪ ওভারে ১০৭/৩ (জাওয়াদ ২৩, জিসান ৫৭*, আরিফুল ৪, সাব্বির ১২, শামীম ৮*; আজিজ ১-০-১৬-০, আরিফ ২-০-৩১-২, মুনিয়ান্দি ১-০-১৫-০, জুনায়েদ ১-০-১৫-০, প্রাশান্ত ১.৪-০-১৫-১, ভিজায় ১-০-১৫-০)
ফল: বাংলাদেশ এইচপি দল ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দা ম্যাচ: জিসান আলম।