Published : 27 Aug 2026, 06:43 PM
প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান সোনাল দিনুশা আবারও দলের ত্রাতা হয়ে দাঁড়ালেন। দ্বিতীয় ইনিংসে উপহার দিলেন অপরাজিত শতক। তার বীরত্বে ভারতের বিপক্ষে হারের চোখ রাঙানি এড়িয়ে ম্যাচ বাঁচাল শ্রীলঙ্কা।
চতুর্থ দিন শেষেও চালকের আসনে ছিল ভারত। জয়ের পাল্লা ভারি ছিল তাদের দিকেই। কিন্তু শেষ দিনে সব সমীকরণ বদলে দিলেন দিনুশা। শেষ পর্যন্ত বৃহস্পতিবার তৃতীয় সেশনে ড্র মেনে নিল দুই দল।
প্রথম ইনিংসে ভারতের ৫০৩ রানের জবাব দিতে নেমে ২৯০ রানে গুটিয়ে যায় শ্রীলঙ্কা। পরে স্বাগতিকদের আবার ব্যাটিংয়ে পাঠায় সফরকারীরা। এবার ঘুরে দাঁড়িয়ে ৯ উইকেটে ৪২৯ রান করে ইনিংস ঘোষণা করে তারা। ২১৭ রানের লক্ষ্যে আর ব্যাটিংয়ে নামতে হয়নি ভারতকে।
গলে প্রথম টেস্ট হেরে হোয়াইটওয়াশড হওয়ার শঙ্কায় ছিল শ্রীলঙ্কা। তবে শেষ পর্যন্ত ওই তেতো অভিজ্ঞতা হয়নি তাদের। দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত।
ফলো-অনে পড়েও লঙ্কানরা অবিশ্বাস্য ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারে দিনুশার নৈপুণ্যে। প্রথম ইনিংসে ১০৩ রান করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান দ্বিতীয় ইনিংসে করেন ১৩৩ রান। তার ২৬৪ বলের ইনিংসটি সাজানো দুটি ছক্কা ও আটটি চারে।
ক্যারিয়ারের পঞ্চম টেস্টেই জোড়া সেঞ্চুরির স্বাদ পেয়ে গেলেন ২৫ বছর বয়সী দিনুশা। ফলো-অনে পড়া কোনো দলের হয়ে দুই ইনিংসেই তিন অঙ্ক স্পর্শ করা টেস্ট ইতিহাসের তৃতীয় ক্রিকেটার তিনি। ১৯৪৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাডিলেইড টেস্টে প্রথমবার এই কীর্তি গড়েছিলেন ভারতের ভিজায় হাজারে (১১৬ ও ১৪৫)। আর ২০০১ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে হারারেতে ১৪১ ও ১৯৯* রানের ইনিংস খেলেছিলেন অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার।
লঙ্কানদের এই ড্রয়ে বড় অবদান ছিল কেশারা নুওয়ান্থা ও লাহিরু কুমারারও। সপ্তম উইকেটে দিনুশার সঙ্গে ১১২ রানের জুটি গড়ার পথে ১৫০ বল খেলে ৪৬ রান করেন নুওয়ান্থা। দশ নম্বরে নেমে ১২ রান করতে ৯০ বল খেলেন কুমারা। এছাড়া প্রবাথ জায়াসুরিয়া ২৮ বল ও আসিথা ফার্নান্দো ২৪ বল খেলে রাখেন ভূমিকা।
৪ উইকেট হাতে নিয়ে স্রেফ ১৬ রানে এগিয়ে থেকে পঞ্চম দিনের খেলা শুরু করে শ্রীলঙ্কা। তাদের দ্রুত অলআউট করে, রান তাড়ায় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ার সুযোগ ছিল ভারতের সামনে। কিন্তু চোয়ালবদ্ধ দৃঢ়তা দেখান লঙ্কানদের শেষ দিকের ব্যাটসম্যানরা।
আগের দিনের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান দিনুশা ও নুওয়ান্থা প্রথম সেশন ভালোভাবেই কাটিয়ে দেন। সেশনের শেষ ওভারে নুওয়ান্থাকে এলবিডব্লিউ দিয়েছিলেন আম্পায়ার। রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান লঙ্কান ব্যাটসম্যান। রিপ্লেতে দেখা যায়, তার ব্যাটে লেগে প্যাডে আঘাত করেছিল বল।
কিন্তু এরপর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি নুওয়ান্থ। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই বাজে তার বিদায়ঘণ্টা। মানাভ সুতারের বলে স্লিপে ধরা পড়েন তিনি।
প্রথম সেশনে ৯৯ বলে ফিফটি করা দিনুশাকে পরে কিছুক্ষণ সঙ্গ দেন জায়াসুরিয়া। তার বিদায়ের পর ধৈর্যশীল ব্যাটিং করেন কুমারা। ভারতীয় বোলারদের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়ান তিনি।
তৃতীয় সেশনের প্রথম বলেই ডাবল নিয়ে কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন দিনুশা। টেস্টে এনিয়ে তৃতীয়বার তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেলেন তিনি। কয়েক ওভার পর কুমারার প্রতিরোধ ভাঙেন জাদেজা। ততক্ষণে দুইশর কাছাকাছি পৌঁছে যায় লঙ্কানদের লিড।
আসিথা ও দিনুশার জুটি ভাঙতে পারেনি ভারত। পরে শ্রীলঙ্কা ইনিংস ঘোষণা করলে ড্রয়ে শেষ হয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ভারত ১ম ইনিংস: ৫০৩/৯ ডিক্লে.
শ্রীলঙ্কা ১ম ইনিংস: ২৯০
শ্রীলঙ্কা ২য় ইনিংস: ১৫৪ ওভারে ৪২৯/৯ ডিক্লে. (আগের দিন ২২৯/৬) (দিনুশা ১৩৩*, নুওয়ান্থা ৪৬, জায়াসুরিয়া ২, কুমারা ১২, আসিথা ০*; প্রাসিধ ১৮.৩-৩-৫৭-১, সিরাজ ১৫-৭-২৬-১, সুতার ৪১-৭-১২১-৩, সারানশ ৩৭-৪-৯৮-১, জাদেজা ৩৮.৩-৪-৯৪-৩, গিল ২-০-৮-০, জয়সওয়াল ১-০-৯-০, জুরেল ১-০-১-০)
ফল: ম্যাচ ড্র
ম্যান অব দা ম্যাচ: সোনাল দিনুশা
সিরিজ: ২ টেস্টের সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জিতেছে ভারত
ম্যান অব দা সিরিজ: দেবদুত পাডিক্কাল