Published : 08 Dec 2025, 10:58 PM
টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে এ বছর নতুন এক চূড়া ছুঁয়েছে বাংলাদেশ। রেকর্ড ১৫টি জয়ের স্বাদ পেয়েছে লিটন দাসের দল। তবে ব্যাটিংয়ে দুর্ভাবনার জায়গা রয়েই গেছে। মিডল অর্ডারে শূন্যতা তো আছেই, টপ অর্ডারেও আছে ঘাটতির জায়গা। পাওয়ার প্লেতে দ্রুত রান তোলার চেষ্টায় উইকেটের পতনও হচ্ছে দ্রুত। ব্যাটসম্যানদের নিয়ে চলমান বিশেষ ক্যাম্পে এখানে উন্নতিতেই জোর দেওয়া হচ্ছে, জানালেন ওপেনার তানজিদ হাসান।
এ বছর ৭ দফায় ৫০ রানের মধ্যেই ৪ উইকেট হারাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। গত জুলাইয়ে মিরপুরে পাকিস্তানের বিপক্ষে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারানোর তিক্ততাও রয়েছে। ব্যাটিং বিপর্যয়ের মূল সমস্যা চিহ্নিত করার পর বিশ্বকাপের আগে তা কাটিয়ে ওঠার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ।
সদ্যসমাপ্ত আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর মিরপুরে চলছে ব্যাটিংয়ের বিশেষ স্কিল ক্যাম্প। টপ অর্ডার ব্যাটারদের নিয়ে চলছে 'ওয়ান টু ওয়ান' অনুশীলন সেশন। সেখানেই টপ অর্ডারদের দীক্ষা দেওয়া হচ্ছে, কম ঝুঁকি নিয়ে কীভাবে রানের প্রবাহ সচল রাখা যায় এবং নিয়মিত বাউন্ডারি বের করা যায়।
তানজিদের জন্য এমনিতে এই বছরটা কেটেছে দারুণ। ২৭ ইনিংসে ৭৭৫ রান করেছেন তিনি ৩২.২৯ গড় ও ১৩৫.৭৫ স্ট্রাইক রেটে। ছক্কা মেরেছেন ৪১টি। তার রান ও ছক্কা, দুটিই এক পঞ্জিকাবর্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড।
টপ অর্ডারের আরেক ব্যাটসম্যান লিটন এ বছর করেছেন ১৩২.২৯ স্ট্রাইক রেটে ৬৩৫ রান, এক পঞ্জিকাবর্ষে যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া এ বছরই প্রায় ১৩৮ স্ট্রাইক রেটে ৫১৯ রান করেছেন পারভেজ হোসেন ইমন।
টপ অর্ডারের পরিসংখ্যানের ছবিটা উজ্জ্বল। তবে ব্যাটসম্যানশিপে উন্নতির জায়গাও প্রকাশ্য হয়েছে নানা সময়ে। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সোমবার তানজিদ জানালেন, সেই তাগিদেই চলছে তাদের অনুশীলন।
“ম্যাচ পরিস্থিতিতে কোন ফিল্ড সেট আপে কীভাবে গ্যাপ বের করা যায়, এ নিয়েই কাজ হচ্ছিল। আমরা অনেক সময় কম ঝুঁকিতে রান নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বেশি ঝুঁকি নিয়ে ফেলি, আর সেখানেই দ্রুত দুই–তিনটি উইকেট পড়ে যায়। এই অনুশীলনের মূল ফোকাস হলো, কীভাবে কম ঝুঁকি নিয়ে বাউন্ডারি এবং স্ট্রাইক দুটোই সচল রাখা যায়, যাতে ব্যাটিংটা স্বাভাবিক ছন্দে চলতে পারে। এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়েই কাজ হচ্ছে।”
রান করলেও ডট বলের প্রবণতা এখনও অনেকটাই বেশি তানজিদের ব্যাটিংয়ে। অনেক সময়ই এক-দুই রান বের করতে ভুগতে দেখা যায় তাকে। তার অবশ্য দাবি, কিছু বলে রান না পেলেও পরে তা পুষিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য তার আছে।
“আমার নিজের ওপরে বিশ্বাস আছে যে, আমি যদি ডট বল খেলে ফেলি কিংবা... আমার বিশ্বাস আছে যে আমি সেটা কভার করতে পারব। সেটার সাথে আসলে বাউন্ডারি দিয়ে সবসময় ইয়ে হয় না…। কোনো সময় সিঙ্গলও খেলতে হয়, ডাবলসও খেলতে হয়। চেষ্টা করব, জিনিসটা যখন আমি ভালো শুরু করব, যাতে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এরকম বড় রান করতে পারি।”
শুধু এই বছরই নয়, আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে তানজিদের ক্যারিয়ার রেকর্ডও বাংলাদেশের বাস্তবতায় বেশ ভালো। ৪৫ ম্যাচেই ১১টি ফিফটি করে ফেলেছেন তিনি। এ দেশের আর কোনো ওপেনার এই সংস্করণে ১০টির বেশি পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংস খেলতে পারেননি। সব মিলিয়ে ১ হাজার ১২০ রান করেছেন ১২৮ স্ট্রাইক রেটে।
তবে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ৭ ইনিংস খেলে ১০.৮৫ গড়ে মোট ৭৬, স্ট্রাইক রেট ছিল মাত্র ৯৬.২০। এবার এশিয়া কাপে আফগাননিস্তানের বিপক্ষে ফিফটি করতে পারলেও বাকি ৪ ইনিংসে করেছেন মোট ১৫ রান।
ওয়ানডে ক্রিকেটেও তার বাস্তবতা একই। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ৯ ম্যাচের সবকটিতে খেলে তিনি রান করেছিলেন ১৬.১১ গড়ে মাত্র ১৪৫। ওই বছর এশিয়া কাপে দুই ইনিংসে তার রান ছিল ১৩, এ বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে রান দুই ইনিংসে ৪৯।
বড় আসরে বারবার এই ব্যর্থতা পোড়াচ্ছে তানজিদকেও। দ্বিপাক্ষিক সিরিজগুলোর মতো বৈশ্বিক আসরেও নিজের সামর্থ্য মেলে ধরতে চান ২৬ বছর বয়সী ব্যাটসম্যান।
“আইসিসি ইভেন্টে আমি আমার সামর্থ্য অনুযায়ী খেলতে পারিনি, যেটা আমাকে এখনও কষ্ট দেয়। আমি এই জিনিসটা নিয়ে সবসময়ই ভাবি যে, (দ্বিপাক্ষিক)সিরিজগুলোতে যেরকম ধারাবাহিক পারফর্ম করার চেষ্টা করি বা করি, কতটুকু সফল হতে পারছি জানি না…. তবে চেষ্টা থাকবে যে আইসিসি ইভেন্টেও যাতে ধারাবাহিকভাবে ভালো করে দলে অবদান রাখতে পারি।”