১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

১৫ উইকেটের দিন শেষে কিছুটা এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া

ক্যারিবিয়ানে চলছে পেসারদের দাপট, ১১০ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন স্কট বোল্যান্ড।

১৫ উইকেটের দিন শেষে কিছুটা এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া
ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে অস্ট্রেলিয়ার আনন্দ। ছবি: ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

স্পোর্টস ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 14 Jul 2025, 03:18 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

স্কট বোল্যান্ড, প্যাট কামিন্সদের আগুনঝরা বোলিংয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে অল্পেই গুঁড়িয়ে দিল অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে তারাও অবশ্য স্বস্তিতে নেই। তবে প্রথমবারে পাওয়া লিডে এগিয়েই সফরকারীরা।

জ্যামাইকায় দিবা-রাত্রির টেস্টের দ্বিতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮১ রানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া। 

স্যাবাইনা পার্কে সফরকারীদের ২২৫ রানের জবাবে প্রথম ইনিংসে ১৪৩ রানে গুটিয়ে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দ্বিতীয়বার খেলতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৯৯ রান।

পেস দাপটের ধারা অব্যাহত রেখে ক্যারিবীয়দের সব উইকেট ভাগাভাগি করেন অস্ট্রেলিয়ার পেসাররা। মাত্র ৩৪ রানে ৩ উইকেট নিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে নাথান লায়নের জায়গায় সুযোগ পাওয়া বোল্যান্ড।

১৫ ম্যাচ ও ২৭ ইনিংসের ক্যারিয়ারে এখন পর্যন্ত মাত্র ১৭.৩৩ গড়ে বোল্যান্ডের শিকার ৫৯ উইকেট। এই সংস্করণে ১৯১৫ সালের পর অন্তত ২ হাজার বল করা বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে কম গড়ের রেকর্ড এখন তারই।

স্বদেশি বার্ট আয়রমঙ্গারকে পেছনে ফেলেছেন বোল্যান্ড। ১৯২৮ থেকে ১৯৩৩ পর্যন্ত খেলা বাঁহাতি স্পিনার ১৭.৯৭ গড়ে নিয়েছিলেন ৭৪ উইকেট। ১৯০০ সালের পর খেলা বোলারদের মধ্যে বোল্যান্ডের চেয়ে কম গড় শুধু ইংলিশ কিংবদন্তি সিড বার্নসের, ১৬.৪৩ গড়ে ১৮৯ উইকেট।

১ উইকেটে ১৬ রানে দিন শুরু করা উইন্ডিজ ব্যাটিংয়ে প্রথম ধাক্কা দেন জশ হেইজেলউড। এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন ব্র্যান্ডন কিংস। আগের দিনের আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান রোস্টন চেইসকে ফেরান কামিন্স।

চোটের কারণে আগের দিন ওপেনিংয়ে নামতে না পারা জন ক্যাম্পবেল ব্যাটিংয়ে আসেন চার নম্বরে। তার পরেই নামেন আরেক নিয়মিত ওপেনার মিকাইল লুইস। তবে লুইস তেমন কিছু করতে পারেননি। 

চার নম্বরে নামা ক্যাম্পবেলের ব্যাট থেকে আসে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৩৬ রান। চমৎকার এক ডেলিভারিতে তাকে এলবিডব্লিউ করেন বোল্যান্ড। পরে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা শেই হোপকেও বোল্ড করেন ৩৬ বছর বয়সী পেসার।

মাত্র ১৯ রানের মধ্যে শেষের ৫ উইকেট হারিয়ে দেড়শর আগেই গুটিয়ে যায় স্বাগতিকরা।

শেষ সেশনে ব্যাট করতে নেমে শামার জোসেফের সামনের বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি স্যাম কনস্টাস। অফ স্টাম্পের বাইরের বলে খোঁচা মেরে রানের খাতা খোলার আগেই ড্রেসিং রুমে ফিরে যান তরুণ ওপেনার।

সিরিজের ৬ ইনিংসে তার সংগ্রহ মাত্র ৮.৩৩ গড়ে ৫০ রান। চলতি শতকে অন্তত তিন ম্যাচের সিরিজ এত কম গড় নিয়ে শেষ করেননি অস্ট্রেলিয়ার আর কোনো ওপেনার।

অভিজ্ঞ উসমান খাওয়াজাও টিকতে পারেননি। শামারের বল স্টাম্পে টেনে বোল্ড হন ১৪ রান করা বাঁহাতি ওপেনার। সিরিজে তার সংগ্রহ ১৯.৫০ গড়ে ১১৭ রান। 

এরপর দুর্দান্ত বোলিং প্রদর্শনীতে আলজারি জোসেফ নেন ৩ উইকেট। টানা কয়েকটি শর্ট বল করে স্টিভেন স্মিথকে 'সেট-আপ' করেন তিনি। পরে আচমকা এক ফুল লেংথ ডেলিভারিতে অপ্রস্তুত হয়ে যান অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে বোল্ড হয়ে ধরেন ড্রেসিং রুমের পথ।

পরে দারুণ দুটি ডেলিভারিতে বাউ ওয়েবস্টার ও অ্যালেক্স কেয়ারিকে ফেরান আলজারি। আর ট্র্যাভিস হেডের উইকেট নেন জাস্টিন গ্রিভস। স্লিপে দুর্দান্ত ক্যাচে হেডের বিদায় নিশ্চিত করেন অভিষিক্ত কেভলন অ্যান্ডারসন। 

মাত্র ৬৯ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। সপ্তম উইকেট জুটিতে প্যাট কামিন্সকে নিয়ে আলজারির আগুনে বোলিংয়ের বিপরীতে লড়াই করেন তিন নম্বরে নামা ক্যামেরন গ্রিন। অবিচ্ছিন্ন জুটিতে তাদের সংগ্রহ ৩০ রান।

দিনের শেষ দিকে অবশ্য ফিরতে পারতেন কামিন্স। কিন্তু তার গ্লাভস ছুঁয়ে যাওয়া বল উইকেটরক্ষক শেই হোপ ক্যাচ নিলেও তেমন আবেদন করেননি। এমনকি রিভিউও নেয়নি স্বাগতিকরা। তাই বেঁচে যান অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক।

দিন শেষে ৪২ রানে অপরাজিত গ্রিন। প্রথম ইনিংসেও ৪৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন এই অলরাউন্ডার। 

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া ১ম ইনিংস: ২২৫

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ১৬/১) ৫২.১ ওভারে ১৪৩ (কিং ১৪, চেইস ১৮, ক্যাম্পবেল ৩৬, লুইস ৭, হোপ ২৩, গ্রিভস ১৮, আলজারি ২, শামার ৮, ওয়ারিক্যান ০, সিলস ৪*; স্টার্ক ১৩-৩-৩২-১, হেইজেলউড ১০-১-৩২-২, কামিন্স ১১-২-২৪-২, বোল্যান্ড ১৩.১-৩-৩৪-৩, ওয়েবস্টার ৫-১-১৫-১) 

অস্ট্রেলিয়া ২য় ইনিংস: ২৯ ওভারে ৯৯/৬ (খাওয়াজা ১৪, কনস্টাস ০, গ্রিন ৪২, স্মিথ ৫, হেড ১৬, ওয়েবস্টার ১৩, কেয়ারি ০, কামিন্স ৫*; সিলস ৮-২-৩২-০, শামার ৯-৩-২৬-২, আলজারি ৮-১-১৯-৩, গ্রিভস ৪-০-১৯-১)