Published : 10 Aug 2026, 08:21 PM
জন্ম, বেড়ে ওঠা ও ক্রিকেটের হাতেখড়ি; জেইক ওয়েদেরল্ডের সবই ডারউইনে। অস্ট্রেলিয়ার হয়ে টেস্ট খেলা এই শহরের প্রথম ক্রিকেটারও তিনি। নিজ শহরে এবার দেশের প্রতিনিধিত্ব করার অপেক্ষায় বাঁহাতি ওপেনার। বাংলাদেশের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে তাই ‘অদ্ভুত’ এক অনুভূতি কাজ করছে তার মনে, অনুভব করছেন অন্যরকম চাপও।
ডারউইনে বৃহস্পতিবার শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়ার প্রথম টেস্ট। এই ম্যাচে স্বাভাবিকভাবে ‘ঘরের ছেলে’ ওয়েদেরল্ডের দিকে থাকবে সবার নজর। দুই দলের দ্বিতীয় টেস্ট ম্যাকাইতে, শুরু ২২ অগাস্ট।
গত অ্যাশেজ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন ওয়েদেরল্ড। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওই সিরিজের পাঁচটি ম্যাচেই খেলেন তিনি। ২২.৩৩ গড়ে করেন ২০১ রান, পঞ্চাশের ছোঁয়া পান একবার। বড় রান না পেলেও, ট্রাভিস হেডের সঙ্গে দলকে ভালো শুরু এনে দিতে ভূমিকা রাখেন এই ক্রিকেটার।
নিয়মিত মাছ ধরা, ক্লাব ক্রিকেট খেলা আর মিচেল স্ট্রিটে নিরিবিলি সময় কাটানোর বদলে ডারউইনে এবার টেস্ট ম্যাচের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ওয়েদেরল্ড। তাই এবারের ঘরে ফেরাটা তার কাছে একটু আলাদাই লাগছে।
নিজের পুরনো রুটিন থেকে অবশ্য পুরোপুরি বেরিয়ে যাননি ৩১ বছর বয়সী ওয়েদেরল্ড। শনিবার ডারউইনে নামার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের শৈশবের ক্লাব ডারউইন ক্রিকেট ক্লাবের জুনিয়রদের ম্যাচ দেখতে যান তিনি। পরদিন ভোর হওয়ার আগেই সতীর্থ কিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স কেয়ারিকে নিয়ে টিউই দ্বীপপুঞ্জে যান ব্যারামুন্ডি মাছ ধরতে। তাদের সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের পেসার তাসকিন আহমেদ।
বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে সোমবার দীর্ঘ সময় অনুশীলনে ঘাম ঝরান ওয়েদেরল্ড। ডারউইনের অসহনীয় আর্দ্র আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার সেই চেষ্টার পর, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের অনুভূতি তুলে ধরেন তিনি।
“দেশের প্রতিনিধিত্ব করা অবশ্যই গর্বের মুহূর্ত। এখানকার মানুষের সামনে খেলতে পারা এবং এই পর্যায়ে আসার জন্য আমি যে পথ পাড়ি দিয়েছি, সবকিছুই দারুণ অনুভূতি দেয়।”
অ্যাশেজে খেলার অভিজ্ঞতাকে নিজের জন্য বড় শিক্ষা হিসেবে দেখছেন ওয়েদেরল্ড। ইংলিশ বোলারদের বাড়তি গতিই নয়, ঐতিহাসিক ওই সিরিজে নিজের ওপর থাকা বাড়তি নজরও তার জন্য ছিল নতুন এক চ্যালেঞ্জ।
এবার নতুন আরেক অভিজ্ঞতা হতে যাচ্ছে তার। ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনে ভালো খেলার বাড়তি চাপ অনুভব করছেন তিনি। সেই প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে বলেন, “এখানে ভালো না খেললে সম্ভবত আমাকে আরও বেশি কথা শুনতে হবে।”
ওয়েদেরল্ডের খেলা দেখতে এবার মাঠে আসবেন তার পরিবার ও বন্ধুদের বড় একটি দল। একটি রেডিওর দুই ডিজে স্থানীয় দর্শকদের উৎসাহিত করছেন কৃত্রিম টাকের ক্যাপ, হাতে ট্যাটু স্লিভ ও কানে দুল পরে মাঠে আসার জন্য। অস্ট্রেলিয়ার পরিচিত সমর্থকগোষ্ঠী ‘দা রিচিস’-এর আদলে ডারউইনের নিজস্ব সংস্করণ হিসেবে তারা এর নাম দিয়েছেন—‘দা ওয়েদার্স’।
ইস্ট পয়েন্ট বিচে এক সংবাদমাধ্যমের অনুষ্ঠানে কিছুটা নিজের মতো দেখতে সেই ‘ওয়েদার্স’দের উদ্দেশে মুচকি হেসে ওয়েদেরল্ড বলেন, “আশা করি, আপনাদের জন্য কিছু রান করতে পারব।”