Published : 28 Mar 2026, 08:58 AM
গ্রামের কাঁচা রাস্তার পাশে ছোট একটি ঘর, টিনের চালার নিচে বসে লেনদেন করছেন স্থানীয় একজন প্রতিনিধি—এটাই এখন অনেক অঞ্চলের ব্যাংকিং চিত্র।
এই পরিবর্তনের পেছনে ভূমিকা রাখার কথা জানিয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং।
ব্র্যাক ব্যাংক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তারা এখন ১ হাজার ১২০টি আউটলেটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল, চরাঞ্চল, পাহাড়ি ও উপকূলীয় এলাকায় এজেন্ট ব্যাংকিং সেবা দিচ্ছে। এ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকরা পাচ্ছেন—সেভিংস ও কারেন্ট অ্যাকাউন্ট, ডিপিএস ও এফডিআর, দেশি-বিদেশি রেমিটেন্স, ক্ষুদ্র ও উদ্যোক্তা ঋণ, সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা বিতরণ ও।ডিজিটাল লেনদেনসহ অন্যান্য মৌলিক ব্যাংকিং সেবা।
ব্র্যাক ব্যাংক জানিয়েছে, সুন্দরবনসংলগ্ন অঞ্চল, যেমন- শ্যামনগর, পাইকগাছা, দাকোপ, ফকিরহাট ও কয়রায় স্থাপিত ১৭টি আউটলেট এখন স্থানীয় মানুষের নিয়মিত ব্যাংকিং কেন্দ্র। আগে যেখানে নিরাপদ সঞ্চয়ের সুযোগ ছিল সীমিত, এখন সেখানে মানুষ নিশ্চিন্তে সঞ্চয় করছেন।
চর ও উপকূলীয় অঞ্চল, যেমন- চরফ্যাশন, টেকনাফ, কুতুবদিয়া, হাতিয়া, সুবর্ণচর, মংলা, কলাপাড়া প্রভৃতি এলাকায় ৭৬টি আউটলেটের মাধ্যমে সেবা পৌঁছে গেছে। একইভাবে রামগড়, পঞ্চড়ি, মানিকছড়ি, মাটিরাঙা, লাঙাদু, দীঘিনালাসহ পাহাড়ি অঞ্চলে ১১টি আউটলেট নিয়মিত সেবা দিচ্ছে। এই বিস্তারের ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য গতিশীল হয়েছে, নগদ নির্ভরতা কমেছে এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
ব্র্যাক ব্যাংক বলছে, দুর্গম এই অঞ্চলগুলোতে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের বিস্তারের ফলে মানুষের মাঝে বেড়েছে ব্যাংকিং কার্যক্রম। ৬০ হাজারেরও বেশি গ্রাহক অ্যাকাউন্ট খুলেছেন, যাদের বেশিরভাগই প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং সেবার আওতায় এসেছেন। এই আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ফলে ২০০ কোটি টাকারও বেশি ডিপোজিট এসেছে এবং ৬৫ কোটি টাকারও বেশি অর্থায়ন সুবিধা পেয়েছেন গ্রাহকরা।