Published : 29 Oct 2023, 05:10 PM
বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের আবাসিক হলে না থাকার যে নির্দেশনা দিয়েছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ, সেটিকে বৈষম্যমূলক মন্তব্য করে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের ‘যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ক সিভিল সোসাইটি ফোরাম’ (সিএসও)।
নারী স্বাস্থ্য ও অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনটি এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, “আমরা মনে করি এ ধরনের লিঙ্গ বৈষম্যমূলক নীতির চর্চা শুধু বিবাহিত ও গর্ভবতী ছাত্রীদের হলে থাকার অধিকার থেকেই বঞ্চিত করবে না; বরং তাদের শিক্ষালাভের মৌলিক অধিকারকে সংকুচিত করবে এবং তাদের জীবনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
“আইন, বিধিবিধান এবং এর প্রয়োগে লিঙ্গ-বৈষম্য দূর করা, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে দেশের সর্বোচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা গুরুত্ব বহন করে।”
গত ২৫ সেপ্টেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলে থাকা বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ।
ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ‘আবাসিকতা লাভ ও বসবাসের শর্তাবলি এবং আচরণ ও শৃঙ্খলা সংক্রান্ত বিধিমালা ২০২১’ এর ১৭ নং ধারা মোতাবেক বিবাহিত ও গর্ভবতী ছাত্রীরা আবাসিক সিট পাবে না।”
হল কর্তৃপক্ষের এমন নির্দেশনার সমালোচনা করছেন শিক্ষার্থীরা। এমন আচরণকে ‘বৈষম্যমূলক’ বলছেন তারা।
আইপাস বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সাইদ রুবায়ত স্বাক্ষরিত সিএসও ফোরামের বিজ্ঞপ্তিতে ‘ওই নির্দেশনাকে ‘সংবিধান পরিপন্থি’ বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।
“যেখানে বাংলাদেশের সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সমূহে- বিশেষত নারীর প্রতি সকল ধরনের বৈষম্য নিরসন সনদে (সিডও) শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেখানে আবাসিক হলে ছাত্রীদের বসবাসের ক্ষেত্রে এরূপ বৈষম্যমূলক বিধান ও তার প্রয়োগ খুবই উদ্বেগজনক ও নিন্দনীয়।
“এটি বাংলাদেশের জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতিমালা এবং নিরাপদ মার্তৃত্ব ঘোষণাপত্রসহ নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় সরকারের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সকল অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।”
এই নির্দেশ বাতিল করে উল্টো অন্তঃসত্ত্বা শিক্ষার্থীরা যাতে হলে প্রসূতিকালীন সব ধরনের সেবা পায়, সেই ব্যবস্থা নিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।