Published : 10 Jul 2023, 04:07 PM
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞানমনস্ক এবং একজন মেথডিক্যাল মানুষ ছিলেন বলেন মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল।
তিনি বলেন, “একজন মানুষ যখন বিজ্ঞানমনস্ক এবং মেথডিক্যাল হয়, শেষ পর্যন্ত সে তার লক্ষ্যে উপনীত হতে সক্ষম হয়। জাতির পিতা ছিলেন তেমন একজন মানুষ। যার কারণে বঙ্গবন্ধু ২৩ বছরের আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন।”
সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু বক্তৃতামালা’র বাইশতম পর্বে তিনি এ কথা বলেন।
এবারের বক্তৃতার বিষয় ছিল ‘বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা: জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ’।
অধ্যাপক মাকসুদ কামাল বলেন, “রাজনীতির মধ্যেও একটা মেথড আছে। রাজনীতও একটা বিজ্ঞান। এই বিজ্ঞানের মধ্যে বঙ্গবন্ধু দেখেছেন একটি দেশ যদি স্বাধীন করতে হয়, সেখানে একজন বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা না হয়ে, একজন গণতন্ত্রকামী মানুষ হয়ে সাধারণ মানুষের মনে জায়গা করতে নিতে হলে কী কাজগুলো করতে হবে।
“বঙ্গবন্ধু বিজ্ঞানমনস্ক ছিলেন বিধায় দেশ যখন স্বাধীন হল, তখন তিনি অনেকগুলো কাজ করেছেন। ১৩১টা অ্যাক্ট করেছেন। এর মধ্যে বিজ্ঞান ও বিজ্ঞান বহির্ভূত অনেক কিছু করেছেন। কোনো একটি প্রতিষ্ঠান যদি করতে হয়, দেশ পরিচালনা করতে প্রয়োজন হয় অ্যাক্ট প্রণয়ন করা।”
তিনি বলেন, “অনেক নেতা ছিলেন। কিন্তু একটা দেশ উপহার দিতে পারেন নাই। একটি দেশ যদি উপহার দিতে হয়, তাকে মেথডিক্যাল হতে হয়। তার চিন্তা-চেতনার মধ্যে এমন কিছু বিষয় থাকতে হয়, যার উপর মানুষ বিশ্বাস স্থাপন করে।
“১৯৭০ সালে যে সাধারণ নির্বাচন হয়েছে, সে সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, শিক্ষাখাতে বাজেট হবে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ। দেশ স্বাধীন করার পরে বঙ্গবন্ধু যে প্রথম বাজেট দিয়েছেন, সেটা ছিল মোট বাজেটের ২৫ শতাংশ। এরপর কোনো সরকার এই পরিমাণ অর্থ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ করেন নাই। সুতারং এখান থেকেই সহজে অনুমেয়, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একজন মেথডিক্যাল মানুষ ছিলেন।”
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবটিক্স অ্যান্ড মেকাট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক লাফিফা জামাল।
তিনি বলেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এ যুগে আমাদের অনেক বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। শ্রমনির্ভর আমাদের যে অর্থনীতি, তাতে প্রযুক্তিনির্ভর উন্নত দেশগুলোর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে তার বিকল্প উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে। এই প্রাযুক্তিক বিশ্বব্যবস্থায় টিকে থাকতে হলে, মধ্যম থেকে উন্নত বাংলাদেশ বিনির্মাণে মেধা ও জ্ঞাননির্ভর অর্থনীতি কাঙ্ক্ষিত হয়ে উঠেছে।
“বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে দেশ লক্ষ্যচ্যুত হলেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সঠিক পথে ফিরেছি। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিভাবনা বাস্তবায়ন করে চলেছেন। বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে এবং জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি ও উদ্ভাবনী বাংলাদেশ বিনির্মাণে বঙ্গবন্ধুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ভাবনা আমাদের পথ দেখাবে।”
পঠিত প্রবন্ধের উপর আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. আফতাব আলী শেখ বলেন, “কৃষি ও কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে জনগণের ভাগ্য উন্নয়ন ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবন লালিত স্বপ্ন। বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের কৃষি বিপ্লবের রূপকার ছিলেন, তিনি কৃষিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। যার ফলে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও মাথাপিছু জিডিপি বৃদ্ধি পেয়েছে।
“বঙ্গবন্ধুর সুদূরপ্রসারী বিজ্ঞান চিন্তা, সার্বজনীন দর্শন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে হেনরি কিসিঞ্জারের তুলনা করা সেই তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের বুকে উন্নয়নের রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রিসার্চ ইনস্টিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টির পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. ফকরুল আলম। সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠানটির রিসার্চ ফেলো হাসান নিটোল।