১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

চবি ভিসি-প্রোভিসির পদত্যাগে ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিল ছাত্রদল

“আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসন এসব নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করবে, কিন্তু তারা তা করেনি।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 15 Jan 2026, 06:35 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:34 PM

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে নিয়োগে অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটকের সামনে ৬ ঘণ্টা অবস্থান শেষে এ সময় বেঁধে দেওয়া হয় ।

অবস্থান কর্মসূচি শেষে শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেন, “আমরা বৈষম্যমুক্ত একটি ক্যাম্পাস প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু গত ১৫–১৬ মাসে প্রশাসন একটি বিশেষ গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। 

“সম্প্রতি নিয়োগের নামে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণ করা হয়েছে। আমরা ভেবেছিলাম প্রশাসন এসব নিয়োগের তথ্য প্রকাশ করবে, কিন্তু তারা তা করেনি। বরং কেউ কেউ বলেছে এগুলো নাকি তাদের দেখার বিষয় নয়। তাহলে তাদের দেখার বিষয় কী?”

তিনি বলেন, “আজ উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য (অ্যাকাডেমিক) কেউই অফিস করেননি। কেন তারা অফিসে আসেননি, এটা কি মনের দুর্বলতার কারণে? 

“আমরা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিচ্ছি, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে রোববার থেকে আরও কঠোর কর্মসূচিতে যাব।”

তিনি বলেন, “গত দেড় বছরে নিয়োগের নামে দলীয়করণ ও এলাকাকরণ করা হয়েছে। যত অবৈধ নিয়োগ হয়েছে, তা অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। পাশাপাশি ভিসি, উপ-উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারকে পদত্যাগ করতে হবে।”

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন হৃদয় বলেন, “উপ-উপাচার্যের মেয়ের চেয়ে অনেক যোগ্য প্রার্থী ছিল। বাবার প্রভাব খাটিয়ে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে—এমনটাই আমাদের ধারণা। কী প্রক্রিয়ায় এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, তা জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইয়াসিন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীবান্ধব কোনো কাজ করছে না। তারা শুধু নিয়োগ নিয়েই ব্যস্ত। হাতে গোনা কিছু কাজ দেখিয়ে দায় সারা হচ্ছে। এই প্রশাসনের পদত্যাগ ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।”

এদিন দুপুর ১টার দিকে প্রশাসনিক ভবনের মূল ফটক দিয়ে ভবনে প্রবেশের চেষ্টা করেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসনিক) অধ্যাপক কামাল উদ্দিন। তবে ছাত্রদল নেতাকর্মীদের অবস্থানের কারণে সে পথ দিয়ে তিনি প্রবেশ করতে পারেননি। পরে তিনি প্রশাসনিক ভবনের অন্য একটি ফটক দিয়ে প্রবেশ করেন।

উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধিদল অধ্যাপক কামাল উদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। 

এ সময় উপ-উপাচার্য অধ্যাপক কামাল বলেন, “তোমাদের যত দাবি আমি উপাচার্যের কাছে পৌঁছায়ে দেব।”