Published : 05 May 2026, 02:08 PM
ক্যারম টুর্নামেন্টে এক জুনিয়র নারী খেলোয়াড়ের থাপ্পড় দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘বিচারহীনতার’ অভিযোগ এনে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম।
সোমবার রাতে এক ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি জকসু ও শিক্ষার্থীদের কাছে এ ঘটনার বিচার দাবি করেন।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, “বিদায় জকসু; আমার জায়গা থেকে ভিপির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি। তারপর ভিপির সুপারিশক্রমে প্রসিডিউর ফলো করে ভিসি মহোদয়ের কাছে যাবে হয়ত। আমার কিছু বলার নাই, শুধু আমার শিক্ষার্থী এবং জকসু প্রতিনিধির কাছে অনুরোধ, আপনারা বিচারটা করাইয়েন। আর তারা যদি বিচার নাও করে তাহলে তো আর কিছু করার নেই। তবে হ্যাঁ, বিচার দিনের মালিক কিন্তু আল্লাহ,আমি সেই বিশ্বাসে বিশ্বাসী।
“আর একটা কথা, আল্লাহ তার বান্দার কর্মফল দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়। তাই ঐ মেয়ের বিচার এবং যারা যারা জড়িত সবার বিচার আল্লাহ দুনিয়াতেই করবে ইনশাআল্লাহ। আর আমি যদি দোষী হই,তাহলে যেন আল্লাহ আমার বিচারও করে দুনিয়াতেই।”
গত ২৯ এপ্রিল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনের নিচতলায় ক্যারম ইভেন্টের ফাইনালে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের বিরুদ্ধে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিতণ্ডায় জড়ান ওই ছাত্রী। পরে তাকে থাপ্পড়ও মারেন ভূমি প্রশাসন ও আইন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের ওই শিক্ষার্থী।
বিষয়টি নিয়ে ঘটনার পরপরই ওই ছাত্রী ফেইসবুকেও পোস্ট দেন। থাপ্পড় মারার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, পুনরায় স্বজনপ্রীতি করলে আবারও একই কাজ করবেন।
ওই ঘটনার তিনদিন পর গত রোববার সংবাদ সম্মেলন করে ওই ছাত্রীকে সাময়িক বহিষ্কারের কথা বলেছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন। তবে সেই বহিষ্কারাদেশ এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
বহিষ্কারের পরও ওই ছাত্রী নিজের বিভাগের চলমান সেমিস্টার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন বলে কথা উঠলে সেদিন রাতেই পদত্যাগের ঘোষণা দেন ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম।
জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম অবশ্য বলেছেন, ক্রীড়া সম্পাদকের পদত্যাগপত্র জমা পড়লেও তা এখনো গ্রহণ করা হয়নি।
তিনি বলেন, “অভিমান থেকেই তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, কার্যকরী পরিষদে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
একজন বহিষ্কৃত ছাত্রী রেজিষ্ট্রারের অনুমতিতে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে অভিযোগ করে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম ফেইসবুকে লিখেছেন “আমাদের রেজিস্ট্রার মহোদয় তার পূর্বের অনেক কাজের জন্য সমালোচিত হলেও, তাকে দেখার কেউ নেই বলে তিনি মনে করছেন। ক্যাম্পাসে কোনো নাটক কিংবা প্রহসন চলতে দেওয়া যাবে না। রেজিস্ট্রার সাহেবের এই ধৃষ্টতার জবাব অবশ্যই প্রশাসনকে দিতে হবে।”
তবে রেজিষ্ট্রারের মৌখিক অনুমতিতে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের রেওয়াজ অনুযায়ী বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারে জানিয়ে ভূমি ও আইন প্রশাসন বিভাগের চেয়ারম্যান খ্রীষ্টিন রিচার্ডসন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “তার একটি পরীক্ষা অবশিষ্ট ছিল। সে তার পরীক্ষা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেওয়াজ অনুযায়ী। বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা এর আগেও পরীক্ষা দিয়েছে। আর চলমান ঘটনাটি তদন্তাধীন বিষয়, তাই তার পরীক্ষা নেওয়ায় কোনো বাধা ছিল না।”
একদিকে বহিষ্কার, অন্যদিকে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীর পরীক্ষা নেওয়াকে প্রশাসনের 'দ্বিচারিতা' বলছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ। এর প্রতিবাদ ও জকসুর ক্রীড়া সম্পাদকের ওপর ‘হামলার’ সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন জকসু নেতারা।
মানববন্ধনে জকসুর জিএস বলেন, 'সে (ওই ছাত্রী) তার একক ক্ষমতাবলে জকসুর একজন নির্বাচিত প্রতিনিধিকে প্রহার করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে সর্বোচ্চ বিচারের আশ্বাস দিলেও তার বাস্তবায়ন ঘটেনি। একজন জুনিয়র তার সিনিয়রের সাথে পরবর্তীতে যেন এমন দুঃসাহস না দেখাতে পারে সেজন্য এই বিচারটা একটা প্রমাণ হয়ে থাকবে–আমরা এটাই চেয়েছিলাম। কিন্তু মৌখিক বহিষ্কারের কথা বলে তাকে অ্যাকাডেমিক সকল সুবিধা দেওয়া হচ্ছে, যার তীব্র নিন্দা জানাই।”